সোমবার, ২০ মে ২০২৪, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

রূপপুর পারমাণবিকের গ্রিড লাইনে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ সঞ্চালন

আপডেট : ১১ মে ২০২৪, ১২:৩৭

ঈশ্বরদীর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য জাতীয় গ্রিডের বগুড়া উপকেন্দ্র পর্যন্ত সঞ্চালন লাইনের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। গত ৩০ এপ্রিল উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ওই লাইনে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ সঞ্চালন করা হয়। চালুর পর সফলভাবে বিদ্যুৎ সঞ্চালিত হয়েছে বলে জানিয়েছে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) কর্তৃপক্ষ।

পিজিসিবির প্রধান প্রকৌশলী ও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের সঞ্চালন লাইন নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক মাসুদুল ইসলাম জানান, জাতীয় গ্রিডের বগুড়া উপকেন্দ্র থেকে রূপপুর পর্যন্ত ৪০০ কেভি সিঙ্গেল সার্কিট সঞ্চালন লাইনে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ সঞ্চালন করা হয়েছে। এতে বড় কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি। রূপপুর প্রকল্পের জন্য লাইনটি নির্মিত হলেও পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ সঞ্চালন করেছে পিজিসিবি। লাইনটি হস্তান্তরের আগপর্যন্ত পিজিসিবি ও রূপপুর কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে বিদ্যুৎ সঞ্চালন পরিচালনা করবে।

রূপপুর এনপিপি ও পিজিসিবি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য কয়েকটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন গ্রিড লাইনের প্রয়োজন। ইতোমধ্যে কয়েকটি গ্রিডের কাজ শেষ হয়েছে। নির্মাণকাজ চলমান আরও কয়েকটির। এর মধ্যে রূপপুর থেকে বগুড়া পর্যন্ত ৮৯ দশমিক ৯২ কিলোমিটার, রূপপুর থেকে বাঘাবাড়ি পর্যন্ত ৬০ কিলোমিটার গ্রিড লাইনের নির্মাণকাজ শেষ। রূপপুর-বাঘাবাড়ি লাইনের পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ সঞ্চালনের পর এবারে রূপপুর-বগুড়া লাইনে বিদ্যুৎ সঞ্চালন করা হলো।

সূত্র জানায়, ওই ২টি লাইনের বাইরেও রূপপুর থেকে গোপালগঞ্জ ১৪৪ কিলোমিটারের গ্রিড লাইনের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। এই লাইন চালু করতে পদ্মা নদীতে দুই কিলোমিটার লাইন নির্মাণ করতে হবে। অপরদিকে প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য রূপপুর থেকে ঢাকা পর্যন্ত ১৪৭ কিলোমিটার দীর্ঘ গ্রিড লাইন নির্মাণ করতে হবে। যার মধ্যে ১৪ কিলোমিটার যমুনা নদীর মধ্যে পড়েছে।

সঞ্চালন লাইন নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক মাসুদুল ইসলাম বলেন, গ্রিড লাইন নির্মাণের বাকি কাজ শেষ হলে চলতি বছরের অক্টোবরের মধ্যে তিনটি লাইন পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাছে হস্তান্তর করা হবে। প্রথম ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হলে রূপপুর-বাঘাবাড়ি লাইনের মাধ্যমে সঞ্চালন শুরু করা হবে। রূপপুর-বগুড়া লাইন তখন কার্যকর রাখা হবে। প্রয়োজনে লাইনটি ব্যবহৃত হবে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের দুটি ইউনিটে স্থাপিত হচ্ছে ৩+ প্রজন্মের রুশ ভিভিইআর ১২০০ রিয়্যাক্টর। প্রতিটি ইউনিট থেকে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। প্রকল্পটির মোট উৎপাদন ক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। এই রিয়্যাক্টরগুলো সকল আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা চাহিদা সম্পূর্ণভাবে পূরন করতে সক্ষম। সকল প্রস্তুতি শেষ হলে চলতি বছরের ডিসেম্বরে প্রথম ইউনিটে পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ২০১৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত জেনারেল কন্ট্রাকটের অধীনে রাশিয়ার রাষ্ট্রিয় পারমাণবিক সংস্থা রসাটমের প্রকৌশল শাখা প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করছে।

ইত্তেফাক/এএইচপি