শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ

আপডেট : ১৩ মে ২০২৪, ২২:০৯

কক্সবাজারের রামুতে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ব্যবস্থাপক মুহাম্মদ আমিনুল হকের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে শনিবার (১১ মে) তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। 

জানা যায়, মুহাম্মদ আমিনুল হক রামু পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ব্যবস্থাপক হিসেবে যোগদানের পর থেকে তার নানান নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে অতিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও উপকারভোগীরা। 

অভিযোগ রয়েছে, সপ্তাহের একাধিক কর্ম দিবসে শাখায় অনুপস্থিত থেকেও উপস্থিত খাতায় স্বাক্ষর করেন তিনি। কথায় কথায় অফিসের কর্মচারীদের গালমন্দ ও চাকরিচ্যুত করার হুমকি দেন। পছন্দের সদস্যকে লোন না দিলে সংশ্লিষ্ট মাঠ সহকারীকে মানসিক নির্যাতন করেন। এমনকি মাঠ সহকারীদের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সমিতিতে বদলি করে আক্রোশের বহিঃপ্রকাশ ঘটান। 

অভিযুক্ত রামু পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ব্যবস্থাপক মুহাম্মদ আমিনুল হক। ছবি: ইত্তেফাক

এদিকে মাসের ২৫ তারিখ বেতন দেওয়ার নিয়ম থাকলেও ইচ্ছাকৃতভাবে বেতন ভাতা প্রদান না করে কর্মকর্তা- কর্মচারীদের মানসিকভাবে হেনস্থা করেন। পাশাপাশি নারী কর্মীদের মাতৃত্ব ছুটিতে থাকাকালীন প্রাপ্য বেতন ভাতা প্রদান না করে তা আটকে রাখেন বলে নারীকর্মীদের অভিযোগ।

আর্থিক অনিয়মে অভিযুক্ত হওয়ায় গৃহ নির্মাণ ঋণ প্রাপ্তির কোনো সুযোগ না থাকলেও শাখা ব্যবস্থাপকের ক্ষমতার অপব্যবহার করে সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত আমিনুল হক হাতিয়ে নিচ্ছেন ২৬ লক্ষ টাকার গৃহ নির্মাণ ঋণ। যা নীতিমালা পরিপন্থি বটে। কর্মকর্তা-কর্মচারীর মতো উপকারভোগী সদস্যদেরও রয়েছে একই অভিযোগ, কোনো প্রকার গরমিল হলেই উপকারভোগী সদস্যদের অফিসে ডেকে এনে করেন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। 

রামুর মেরংলোয়া নালাপাড়া-১ এবাএখা গ্রাম উন্নয়ন সমিতির সদস্য মো. সোহেল ও মো. জসিম নামের দুই উপকারভোগী অভিযোগে জানান, এক বছর পূর্বে তারা একজন ২০ হাজার ও আরেকজন ৫০ হাজার টাকা ঋণ গ্রহণ করেন। পারিবারিক অসুবিধার কারণে ঋণ পরিশোধ করতে বিলম্ব হওয়ায় তাদেরকে অফিসে ডেকে এনে মা-বাবার নাম ধরে অশ্লীল, কুরুচিপূর্ণ ও অশ্রাব্য ভাষায় গালি গালাজ করেন। এক পর্যায়ে কিল-ঘুষি, চড় ও থাপ্পড় মেরে শারীরিকভাবে জখম করে।

জানা যায়, ইতিপূর্বে আমিনুল কক্সবাজার সদর শাখায় যোগদান করার পর সেখানে সমিতি হতে আদায়কৃত সঞ্চয় ও ঋণের টাকা আত্মসাৎ ও ফার্নিচার ক্রয় সংক্রান্ত আর্থিক অনিয়মের কারণে ২০১৫ সালে সাময়িক বরখাস্ত হন। পরবর্তীতে জোর তদবির চালিয়ে ৩০ মার্চ ২০১৬ সালে পুনরায় চাকরিতে যোগদান করতে সক্ষম হলেও লোহাগাড়া শাখায় গিয়ে আবারও আর্থিক অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। ঐ শাখায় যোগদানের পর উপজেলা নির্বাহী অফিসারে অনুমোদন ব্যতীত ২ কোটি ৩৩ লক্ষ ৮৫ হাজার টাকা ঋণ বিতরণ করেন। যার কারণে আমিনুল হককে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়। অদ্যবধি এর কোনো সুরাহা হয়নি। 

অভিযুক্ত রামু পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আমিনুল হক বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন।

পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ মো. জামিনুর রহমান জানান, আমিনুলের নেওয়া ব্যক্তিগত গৃহনির্মাণ ঋণ বাতিল করা হচ্ছে। এবং আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/পিও