সোমবার, ২৭ মে ২০২৪, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

বিদেশে পাঠানোর নামে চেয়ারম্যানের অর্থ আত্মসাৎ ও মারধরের অভিযোগ

আপডেট : ১৫ মে ২০২৪, ২২:০০

টাঙ্গাইলের সখীপুরে বিনামূল্যে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে গ্রামের অর্ধশতাধিক হতদরিদ্র মানুষের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে কালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। 

বুধবার (১৫ মে) সকালে চেয়ারম্যানের ওয়াদা মতো নির্ধারিত সময়ে ভুক্তভোগীরা তার কাছে যান। ভুক্তভোগীরা বিদেশে না যেতে পারার কারণসহ সমুদয় অর্থ আর পাসপোর্ট ফেরত চান চেয়ারম্যানের কাছে। তাদের কথায় চেয়ারম্যান কর্ণপাত না করে উল্টো এ বিষয়ে তিনি জানে না। এমন কি সব কিছু অস্বীকার করলে ভুক্তভোগীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। চিৎকার করতে থাকেন। চেয়ারম্যানের ইঙ্গিতে পরিষদের কক্ষ থেকে গ্রাম পুলিশ দিয়ে বের করে দেওয়ার চেষ্টা চালালে ভুক্তভোগীরা কক্ষটি অবরুদ্ধ করে রাখে। এ খবর শুনে চেয়ারম্যানের ছেলে আলমগীর হোসেন ও তার সহযোগীরা ভুক্তভোগীদের চেয়ারম্যানের কক্ষে আটক করে মারধর করেন। 

ইউপি চেয়ারম্যানের মারধরের শিকার তিন গ্রামের ভুক্তভোগীরা। ছবি: ইত্তেফাক

জানা গেছে, কালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জামাল মিয়া গত ৮-৯ মাস আগে বিনামূল্যে বিদেশ পাঠানোর কথা বলে একই ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের অর্ধশতাধিক দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে পাসপোর্ট নেন। তারা জানান, শুরুতে বিনামূল্যে বিদেশে পাঠানোর কথা বললেও পরবর্তীতে বিভিন্ন খরচের নামে কচুয়া গ্রামের লাল মিয়া ও কালামের থেকে ১ লাখ ২৫ হাজার, নিশ্চিন্তপুর গ্রামের আমজাদের থেকে ১ লাখ, আড়াইপাড়া গ্রামের মেহেদির কাছ থেকে ১ লাখ, নিশ্চিন্তপুর গ্রামের লতিফ মিয়ার কাছ থেকে ১ লাখ, আড়াইপাড়া গ্রামের রুবেল মিয়ার কাছ থেকে ৭৫ হাজার, কচুয়া গ্রামের সাকিবের থেকে ১ লাখ টাকা এবং সাড়াসিয়া গ্রামের জুয়েল ও হিলিম ও অন্যান্য গ্রামের রায়হান, শুভ, আলীম, শামীম, কাদের এবং সুমনসহ অনেকেরই কাছ থেকে বিদেশে পাঠানোর নামে বিভিন্ন অংকের টাকা নেওয়া হয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন। পরে চেয়ারম্যান জামাল মিয়া ও তার ছেলে আলমগীর হোসেন আগামী ২২ মে ভুক্তভোগীদের টাকা এবং পাসপোর্ট ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

উল্লেখ্য, গত ২ মে কালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জামাল মিয়ার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে ওই পরিষদের ১০ জন ইউপি সদস্য অনাস্থা প্রদান করেন। 

সখীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ হোসেন পাটোয়ারী বলেন, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোর বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিয়ন্তা বর্মনকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিয়ন্তা বর্মন বলেন, এ বিষয়ে যেহেতু তদন্ত চলছে তাই মন্তব্য করা যাবে না। 

ইত্তেফাক/পিও