মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ১১ আষাঢ় ১৪৩১
The Daily Ittefaq

ভারত বর্জনের নামে কী ষড়যন্ত্র চলছে

আপডেট : ১৭ মে ২০২৪, ২২:০০

ভারত বর্জনের নামে দেশটির পণ্য বয়কটের মাধ্যমে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠছে। ভারত থেকে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য না এলে বাংলাদেশের বাজারে জিনিষের দাম বৃদ্ধি পেতে থাকে। এতে চাল-ডাল থেকে শুরু করে আলু-পেঁয়াজের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে পারে মানুষের ক্ষোভও। সেই ক্ষোভের আঁচে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সরকারকে বেকায়দায় ফেলারও অভিযোগ উঠছে।

অভিযোগ, ভারত-বিরোধী স্লোগান দিয়ে যারা এ আন্দোলনের সূচনা করেছে তারা আসলে ক্ষতি করতে চাইছে বাংলাদেশেরই। জাতীয় সংসদের নির্বাচনে জনগণ ফের শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করায় একশ্রেণি বিদেশি মদদে দেশকে ফের অস্থির করা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তাই দেশের মানুষকে ক্ষেপিয়ে তুলতে তারা চাইছে জিনিষের দামকে পাকিস্তানের মতোই আকাশছোঁয়া করতে। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ছাড়া আর কারও এতে লাভ হবে না। বরং সাধারণ মানুষ, দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কোপে পড়বেন।

নিজেদের প্রয়োজনেই ভারত থেকে বাংলাদেশে আমদানি করা হয়। নিজেদের দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদার জন্য ভারত রপ্তানি বন্ধ করলেই বাংলাদেশজুড়ে অনেক পণ্যের দামই হুহু করে বাড়তে থাকে। এতে দেশের ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট হঠাৎ করে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয় খাদ্যপণ্যের দাম। সমস্যায় পড়েন সাধারণ ক্রেতারা।

অন্যদিকে ভারত ছাড়া অন্য দেশ থেকে পণ্য আমদানি করলে তার দামও অনেক বেশি পরে সেটাও। নিজেদের চাহিদা মেটাতেই প্রতি বছর ভারত থেকে ৪৫ লাখ টন গম, ৭ লাখ টন পেঁয়াজ, ৩০ হাজার টন মসুর ডাল, ২০ লাখ টন চাল, ১৫ লাখ টন চিনি, ১০ হাজার টন রসুন ও ১ লাখ ২৫ হাজার টন আদা আমদানির নিশ্চয়তা চাইছে বাংলাদেশ।

ভারত থেকে প্রতি বছর বাংলাদেশে আমদানির পরিমাণ প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ বিদেশ থেকে যা পণ্য আমদানি করে তার ৪৩ শতাংশই আসে ভারত ও চীন থেকে। চীন থেকে সাধারণত আসে বিভিন্ন কলকারখানার যন্ত্রপাতি। সেই যন্ত্রাংশ আমদানি না করা হলে দেশের কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হতে পারে।

ভারত থেকে এখন বাংলাদেশে তুলাই সবচেয়ে বেশি আসছে। আমদানিকৃত মোট ভারতীয় পণ্যের ৩১ শতাংশই তুলা। এই তুলাই হচ্ছে বাংলাদেশের বস্ত্রশিল্পের জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল। ভারত থেকে তুলা না এলে বন্ধ হতে পারে টেক্সটাইল শিল্প। কাজ হারাবেন লাখ লাখ শ্রমিক। দেশে তৈরি হবে ফের অর্থনৈতিক অস্থিরতা।

এছাড়া অন্য দেশ থেকে এতো কম দামে ভাল মানের তুলা আনা সম্ভব নয়। তাই ভারতের কাছে তুলা সরবরাহের নিশ্চয়তা চায় বাংলাদেশ। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ সম্প্রতি এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেছেন, ‘ভারতীয় পণ্য বয়কটের ডাক দেওয়ার উদ্দেশ্য হচ্ছে বাজারকে অস্থিতিশীল করে পণ্যের দাম বাড়ানো’।

ভরত থেকে পণ্য না এলেই চরম অস্থিরতা দেখা দেবে। তাছাড়া বিকল্প হিসেবে অন্য দেশ থেকে আমদানি করতে হলেও খরচ পড়বে দুই-তিন গুণ।

বাংলাদেশের কিছু মানুষ ভারত বর্জনের ডাক দিলেও দিল্লিতে তাতে কান দিচ্ছে না। তাই নিজেদের দেশের চাহিদা প্রচুর থাকলেও বন্ধু রাষ্ট্র বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি অব্যহত রেখেছে।

ভারতীয় পণ্য আমদানিকারকরা বলছেন, এখন পর্যন্ত আমদানিতে ভারত বর্জনের বিন্দুমাত্র প্রভাব নেই। তাছাড়া, এই প্রচারণায় যেসব পণ্য বর্জনের কথা বলা হচ্ছে, দুই দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে সেগুলোর অনুপাত খুবই সামান্য।

উল্লেখ্য, ভারত ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশে ৯৭ ধরনের পণ্য রপ্তানি করেছে।

শুধু পণ্যই নয়, ভারতীয় ভিসার চাহিদাও বেড়েই চলেছে বাংলাদেশে। প্রতি বছর ১৬ থেকে ১৭ লাখ বাংলাদেশি ভারতে যান। আরও ভিসা চাইছেন তারা। ভারতে বাংলাদেশিরা বেশিরভাগই যান চিকিৎসা করানোর জন্য। লাখ লাখ বাংলাদেশি চিকিৎসা করান কলকাতাতে।

আধুনিক দুনিয়ায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বৈরিতা কখনওই দ্বিপাক্ষিক স্বার্থের পরিপন্থী হয়ে উঠতে পারে না। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের বৈরিতা নতুন কিছু নয়। কিন্তু সেই বৈরিতা স্বত্বেও এই দুই বিশাল অর্থনীতির দেশ নিজেদের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়িয়ে চলেছে।

ইত্তেফাক/এসএটি