শিশুদের মৌলিক অধিকার খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা এবং চিকিত্সা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। বিশেষ করে শিশুদের মস্তিষ্কে জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধি এবং দৈহিক সুস্থতার জন্য সুষম ও নিরাপদ খাদ্যের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। সুষম খাদ্য হচ্ছে ঐ সব খাদ্য, যার মধ্যে সব পুষ্টিগুণ বিরাজ করে। বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ এবং ভেজাল থেকে মুক্ত খাদ্যই মূলত নিরাপদ খাদ্য। দুর্ভাগ্য, বর্তমান শিশুদের এক টাকার চকলেট থেকে শুরু করে জীবন বাঁচানোর ওষুধ পর্যন্ত ভেজাল মিশ্রিত। এতে শিশুদের দৈহিক এবং মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এছাড়া শিশুরা নানান ধরনের জটিল রোগ যেমন ক্যানসার, মানসিক ট্রমা, বিকলাঙ্গ, লিভার সিরোসিস, হূদেরাগ, হাঁপানি এবং ব্লু সিনড্রোম ইত্যাদি রোগে ভুগছে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, প্রতি বছর দেশে যত শিশু মারা যায়, তার ১০ শতাংশ মারা যায় খাদ্যে ভেজালের কারণে। এছাড়া শিশুদের খাদ্য ভালোভাবে প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে না। যার ফলে শিশুরা নানান ধরনের ক্ষতিকর অনুজীব কর্তৃক সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এখনই যদি শিশুদের খাদ্যে ভেজাল নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তাহলে ভবিষ্যতে বিকলাঙ্গ জাতি তৈরি হবে।
দেশে খাদ্যদ্রব্যে ভেজাল বন্ধ করার জন্য ২০১৩ সালে আইন পাশ করা হয়। উক্ত আইনে বলা হয়েছে, ভেজাল খাদ্য বিক্রির জন্য সর্বনিম্ন এক বছর থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। বাস্তবে এসব আইনের কার্যকর ব্যবহার নেই বললেই চলে। জাতিসংঘ রেডিওর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবমতে ভেজাল বা দূষিত খাবার প্রতিবছর প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার শিশুর মৃত্যু ঘটাচ্ছে। যাদের এক-তৃতীয়াংশের বেশি হচ্ছে পাঁচ বছরের কম বয়সি, যা নিঃসন্দেহে হূদয়বিদায়ক।
সাম্প্রতিক ভোক্তা অধিকারের জরিপে দেখা যায়, শিশুদের কোমল পানীয়, জুস, আইসক্রিম প্রভৃতি তৈরিতে নানান ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হচ্ছে, যা অনেক ভীতিকর। এজন্য খাদ্যদ্রব্যের লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে সর্তকতা বাড়াতে হবে। সংশ্লিষ্ট এলাকার মেম্বার-চেয়ারম্যানদের তত্পরতা ও জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। ভেজাল খাদ্যপণ্য বিক্রি ও তৈরির কোনো কারখানা দেখলে ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবগত করতে হবে।
লেখক :শিক্ষার্থী, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ
