মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ১১ আষাঢ় ১৪৩১
The Daily Ittefaq

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় 

ছাত্রলীগের সিট দখল সম্পর্কে প্রাধ্যক্ষ বলেন 'পরে কথা হবে'

আপডেট : ২০ মে ২০২৪, ১৮:৪১

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে হলের সিট দখল করতে শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক বের করে দেওয়া শাখা ছাত্রলীগের পুরনো রীতি। বিভিন্ন সময় অনেক শিক্ষক এই রীতির বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি করেছেন। আবার বিভিন্ন সূত্র বলছেন, অনেক শিক্ষকের ছত্রছায়ায় এ ঘটনা ঘটে। গত কয়েকমাসে বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন একাধিক ঘটনা ঘটেছে। 

শনিবার (১৮ মে) রাত ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের দ্বিতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক সিট থেকে নামিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে হল শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ শাইখুল ইসলাম মামুন জিয়াদ বলেন, এটা কোনো সময় হলো আমাকে কল দেওয়ার? যে শিক্ষার্থীকে নামিয়ে দিয়েছে ছাত্রলীগ! সে বৈধ না কি অবৈধ?

শিক্ষার্থীকে হলে তোলা বা নামিয়ে দেওয়ার অধিকার ছাত্রলীগ রাখে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে এই প্রাধ্যক্ষ বলেন, সময় মতো সাক্ষাৎ করেন। পরে কথা হবে- বলে তিনি ফোন কেটে দেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মো. কুদ্দুস আলী। তিনি মার্কেটিং বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী । তিনি অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতাদের চিনতে পারেনি বলে জানান। 

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লিখেন, আমি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের একজন অনাবাসিক ছাত্র। আমি একমাস আগে থেকে হলের ৪০২ নম্বর রুমে বিভাগের বড় ভাইয়ের বরাদ্দপ্রাপ্ত সিটে অবস্থান করছিলাম। ভাই রিসার্চের কাজে বাইরে আছেন। আমি হলে আবাসিকতার জন্যে আবেদন করি (৪০২ নম্বর রুম উল্লেখ করে), বঙ্গবন্ধু হলের প্রভোস্ট আমার আবেদন  গ্রহণ করেছে এবং আমাকে হলে থাকতে বলেছে কিন্তু আমার আবাসিক হল কার্ড এখনো সম্পূর্ণ হয়নি। 

তিনি আরও বলেন, আমার বড় ভাই আগামী মাসে সিট বাতিল করতে হলে আসবেন । তখন আমি সিটটা আমার নামে করে নেব। কিন্তু তার আগেই গতকাল (শনিবার) রাত ১২টার দিকে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী এসে আমাকে জোর করে সিট থেকে নামিয়ে দেয় এবং অন্য একজনকে উঠিয়ে দেয় আমার সিটে এবং আমাকে মেসে উঠতে বলা হয়। আমি অনেক অনুরোধ করার পরেও আমার কথা শুনে নাই। আমাকে ভয় দেখিয়ে বলছে আজকের মধ্যে যেন নেমে যাই। আমার বাবা রিকশা চালায়। আমরা খুব গরিব।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী কুদ্দুস বলেন, রাতের ঘটনা নিয়ে আমি আতঙ্কে আছি। আমি এখনো আমার সিট পাইনি। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের সাথে যোগাযোগ করেছি। তিনি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের সাথে কথা বলেছেন। আমি সিট না পেলে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে আমার কষ্ট হবে। আমার পরিবারের অবস্থা ভালো না। 

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বাবু বলেন, এ বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে কারা নামিয়েছে এখনো জানতে পারিনি। আশা করছি অল্প সময়ে বিষয়টি সমাধান হয়ে যাবে বলে জানান। 

ইত্তেফাক/এআই