মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ৩ আষাঢ় ১৪৩১
The Daily Ittefaq

খুলনায় তিন কেন্দ্রে ব্যালট বই ছিনিয়ে নিয়ে গণসিল! নারীকে কারাদণ্ড 

আপডেট : ২১ মে ২০২৪, ২০:৫৮

খুলনার ফুলতলা উপজেলার দুটি ভোট কেন্দ্রের তিনটি বুথে ব্যালট বই ছিনিয়ে নিয়ে গণসিল মারার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার ঐ ভোট বাতিল করেন। 

এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে একজন মহিলাকে ৭ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ফুলতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাসনিম জাহান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
 
অপরদিকে ফুলতলা, দিঘলিয়া ও তেরখাদা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নিরূত্তাপ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি কম দেখা গেছে। ভোটারের লম্বা লাইনও চোখে পড়েনি। 

ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে ফুলতলা উপজেলার শিরোমনি মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে (পশ্চিম পাশের ২তলা ভবন) একজন মহিলা একটি বুথে প্রবেশ করে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারের কাছ থেকে ব্যালট বই ছিনিয়ে নেন। তিনি ৩৩টি ব্যালট পেপারে সিল মারেন। এ ঘটনায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাকে আটক করে। পরে তাকে ৭ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

একই উপজেলার আনন্দ নিকেতন মডেল স্কুল ভোটকেন্দ্রের একটি কক্ষে কয়েকজন যুবক প্রবেশ করে ১৯টি ব্যালট পেপারে সিল মারে। যার মধ্যে ৫টি ব্যালট বক্সে ঢুকিয়ে দেয় এবং ১৪টি ব্যালট বক্সে ঢুকাতে পারেনি। একই ঘটনা ঘটে শিরোমণি মাধ্যমিক বিদ্যালয় পশ্চিম পাশের ২তলা ভবন কেন্দ্রে। কয়েকজন যুবক ভোট কক্ষে প্রবেশ করে ব্যালট বই ছিনিয়ে নেয়। তারা ৫১টি ব্যালট পেপারে সিল মারে। যার মধ্যে ১০টি ব্যালট বক্সে ঢুকিয়ে দেয় এবং ৪১টি ব্যালট বাইরে পড়ে যায়। 

ফুলতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাসনিম জাহান বলেন, শিরোমনি মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ১/২জন যুবক জোর করে ঢুকে ব্যালট নিয়ে সিল মারার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে। কারণ ব্যালটগুলোতে কোনো সাক্ষর ও সিল ছিল না। ওগুলো এমনিতেই বাতিল হয়েছে। ওগুলো প্রথমত অবৈধ থাকতোই। তারপরও প্রিজাইডিং অফিসার বাতিল করেছে। এ ছাড়া ঐ কেন্দ্রের পাশের আরেকটি বুথে ব্যালট ছিনিয়ে নেওয়ায় একজন মহিলাকে ৭ দিনের জেল দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, ফুলতলা, দিঘলিয়া ও তেরখাদা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নিরূত্তাপ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি কম দেখা গেছে। ভোটারের লম্বা লাইনও চোখে পড়েনি। উপস্থিত ভোটারের মধ্যে পুরুষের চেয়ে নারী ভোটারের সংখ্যাই ছিল বেশি। 

বেলা ১২টায় ফুলতলা উপজেলার আলকা পল্লী মঙ্গল সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, ভোটার উপস্থিতি খুবই কম। এ কেন্দ্রে মোট ৫ হাজার ১৩২ ভোট। সকাল ৮টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত চার ঘণ্টায় ভোট পড়েছে ৮১২টি। 

দিঘলিয়া উপজেলার ব্র²গাতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, মহিলা ভোটারের উপস্থিতি কিছুটা থাকলেও পুরুষ ভোটারের উপস্থিতি ছিল খুবই কম। 

এ কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার শেখ মো. ফরহাদ হোসেন জানান, কেন্দ্রে নারী-পুরুষ মিলিয়ে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ হাজার ৩২৯ জন। দুপুর ১২টা পর্যন্ত চার ঘণ্টায় ভোট পড়েছে ১ হাজার ৯৯টি। একই উপজেলার হাজীগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, বেলা ১২টা পর্যন্ত ৩ হাজার ১৫২জন ভোটারের মধ্যে ভোট পড়েছে মাত্র ৯৩২টি। এ কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসরার হরিপদ বৈরাগী বলেন, সকালের দিকে ভোটারের চাপ কিছুটা বেশি ছিল। 

দুপুর পৌঁনে ১টায় তেরখাদা উপজেলার লস্করপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, কেন্দ্রের মাঠ প্রায় ফাঁকা। বুথগুলোতে ভোটারের চাপ নেই। আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা নির্বিঘ্নে দায়িত্ব পালন করছেন। 

কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসরার প্রজিৎ সরকার জানান, এ ভোট কেন্দ্রের ভোটারের সংখ্যা ২ হাজার ৪৪৭ জন। বেলা ১২টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ৫৯৬টি। 

এরপর দুপুর ৩টায় পানতিতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা ভোট কেন্দ্রের সামনের রাস্তায় বেঞ্চ পেতে বসে আছেন। আনসার সদস্যদেরও কোনো ব্যস্ততা নেই। 

কেন্দ্রের বুথে ঢুকে দেখা যায়, ভোটার না থাকার কারণে প্রার্থীদের এজেন্টরা গল্প করছেন। তারা বলেন, ভোটার নেই। তাই বসে আছি। 

এ কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার সুব্রত হালদার জানান, পানতিতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রের ভোটার সংখ্যা ১ হাজার ৪৪৯জন। দুপুর ৩টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ৭১২টি। 

ইত্তেফাক/পিও