শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

দ্বিতীয় ধাপের ১৫৬ উপজেলার ফলাফল

কিছু কিছু উপজেলায় অস্বাভাবিক ভোট!

মোট ভোট পড়েছে ৩৭.৫৭ শতাংশ, ইভিএমে ৩২.১৭ শতাংশ আর ব্যালটে ৩৮.৪৭ শতাংশ

সর্বোচ্চ ভোট পড়েছে পানছড়িতে ৭৪.৯৫ শতাংশ, সর্বনিম্ন বাগমারায় ১৭.৯৮ শতাংশ

আপডেট : ২৩ মে ২০২৪, ০৩:০০

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদের প্রথম ধাপের মতো দ্বিতীয় ধাপেও ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) চেয়ে ব্যালটে ভোট বেশি পড়েছে। আর কিছু কিছু উপজেলায় অস্বাভাবিক ভোটের হার দেখানো হয়েছে। প্রথম ধাপে ইভিএমে মাত্র ৩১.৩১ শতাংশ ভোট পড়লেও দ্বিতীয় ধাপে পড়েছে ৩২.১৭ শতাংশ। একইভাবে বেড়েছে ব্যালটে ভোট পড়ার হার। প্রথম ধাপে ব্যালটে ভোট পড়েছিল ৩৭.৩১ শতাংশ এবার দ্বিতীয় ধাপে পড়েছে ৩৮.৪৭ শতাংশ। দ্বিতীয় ধাপে ১৫৬ উপজেলার মধ্যে ১২৯টিতে ব্যালটে এবং ২৩টিতে ইভিএমে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম ধাপে গড়ে ভোট পড়েছিল ৩৬.১৮ শতাংশ, এবার সেই ভোট পড়ার শতাংশ দ্বিতীয় ধাপে কিছুটা বেড়েছে। এই ধাপে গড়ে ভোট পড়েছে ৩৭.৫৭ শতাংশ। যদিও ইসির সংশ্লিষ্টরাই দ্বিতীয় ধাপে কম ভোট পড়তে পারে বলে ধারণা করেছিল।

রিটার্নিং অফিসারদের পাঠানো তথ্যমতে, ৩০ শতাংশের কিছু বেশি ভোট পড়তে পারে বলে জানিয়েছিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল।

প্রথম ধাপের মতো দ্বিতীয় ধাপেও ভোটার উপস্থিতি কম হলেও ব্যাপক জাল ভোট, ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ ও হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। সারা দিন ভোটার উপস্থিতি কম হলেও অনেক জায়গায় ভোট পড়ার হার অস্বাভাবিক পাওয়া গেছে। ইভিএমের চেয়ে ব্যালটে ভোট বেশি পড়ার কারণ হিসেবে অনেকে বলছেন, ইভিএমের চেয়ে ব্যালট পেপারে ভোটের ক্ষেত্রে অনিয়ম হয় বেশি। কেন্দ্র দখল করে ব্যালট পেপারে সিল মারার ঘটনা ঘটে। ইভিএমে ব্যালটের চেয়ে অনিয়মের মাত্রা কিছুটা কম হয়। এখানে কেন্দ্র দখল হলেও ভোটারের ফিঙ্গার ছাড়া ভোট দেওয়া সম্ভব নয়। এ কারণে ব্যালট পেপারে অনুষ্ঠিত উপজেলাগুলোয় ভোটের প্রদত্ত হার বাড়তে পারে। 

ভোট শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল জানিয়েছিলেন, উপজেলা পরিষদের দ্বিতীয় ধাপে ৩০ শতাংশের বেশি ভোট পড়তে পারে। তবে ৩০ শতাংশ ভোটকে কখনোই উত্সাহব্যঞ্জক মনে করেন না। স্বল্প ভোট পড়ার একটা বড় প্রধানতম কারণ হিসেবে রয়েছে দেশের একটা বড় রাজনৈতিক দল; তারা প্রকাশ্যে এবং ঘোষণা দিয়ে ভোট বর্জন করেছে। জনগণকে ভোট প্রদানে নিরুত্সাহিত করেছে। আমাদের ভোট নিয়ে কোনো সংকট নেই। সংকট হচ্ছে রাজনৈতিক। রাজনীতি যদি আরো সুষ্ঠু ধারায় প্রবাহিত হয়, ভবিষ্যতে হয়তো ভোটের যে স্বল্পতার সমস্যা; এগুলো কাটিয়ে উঠবে। ভোটাররা উৎসাহিত হবেন। ভোট আরও উত্সাহব্যঞ্জক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীরের মতে, মোটা দাগে পাঁচ কারণে ভোট কম পড়েছে। এগুলোর মধ্যে বৈরী আবহাওয়া, ভোটে বিএনপি অংশ না নেওয়া, জনপ্রিয় প্রার্থীর অভাব, ধান কাটার মৌসুম এবং সাধারণ ছুটি থাকায় শ্রমিকেরা নিজ এলাকায় চলে যাওয়ায় ভোট কম পড়েছে।

নির্বাচন-সংশ্লিষ্টদের মতে, নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় একধরনের অনাস্থার পরিবেশ থাকায় ভোটাররা ভোটবিমুখ হয়েছেন। বিশেষ করে বিগত তিনটি জাতীয় নির্বাচন নিয়ে অস্বস্তি রয়েছে। সর্বশেষ বিগত ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর বড় একটি অংশ ভোট বর্জন করে। সেই ধারাবাহিকতায় উপজেলা ভোটেও বিএনপি-জামায়াত ভোট বর্জনের ঘোষণা দেয়। তাছাড়া ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দলীয়ভাবে নির্বাচনে অংশ নেয়নি। ফলে বেশির ভাগ উপজেলায় আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে ভোটের লড়াই হয়। এক অর্থে আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল আওয়ামী লীগই। এতে করে সাধারণ ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে টানতে পারেননি প্রার্থীরা।

কিছু উপজেলায় অস্বাভাবিক ভোট: ইসির প্রস্তুত করা ফলাফল শিটে দেখা গেছে কিছু কিছু উপজেলায় অস্বাভাবিক ভোট পড়ার হার। খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলা পরিষদে সর্বোচ্চ ভোট পড়েছে ৭৪.৯৫ শতাংশ। আর রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় সর্বনিম্ন ভোট পড়েছে ১৭.৯৮ শতাংশ। এছাড়া দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দিনাজপুরের বোচাগঞ্জে ৬৫.৮৭ শতাংশ, কাহারোলে ৬২.২৪ শতাংশ, নওগাঁর পোরশায় ৬৪.৪৩ শতাংশ, বাগেরহাটের ফকিরহাটে ৬২.৬০ শতাংশ, ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে ৬১.৮১ শতাংশ। পক্ষান্তরে কম ভোট পড়ার মধ্যে পাবনার চাটমোহরে ১৮.০১ শতাংশ, যশোরের শার্শায় ১৮.৬৩ শতাংশ, চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ১৮.৪২ শতাংশ, নোয়াখালীর সেনবাগে ১৯.৬০ শতাংশ, রাজবাড়ী সদরে ২০.৬৪ শতাংশ। কম ভোট পড়া উপজেলাগুলোর বেশির ভাগ ভোট হয়েছে ইভিএমে। কোনো উপজেলায় অতিরিক্ত বেশি ভোট, আবার কোনো উপজেলায় কম ভোট পড়ার চিত্র পাওয়া গেছে।

উল্লেখ্য, এবার চার ধাপে উপজেলার ভোট হচ্ছে। এর মধ্যে গত ৮ মে প্রথম ধাপে ১৩৯ উপজেলায় ভোট হয়; ২১ মে দ্বিতীয় ধাপে ১৫৯ উপজেলার ভোট হয়েছে। পরবর্তী সময়ে তৃতীয় ধাপের ১১২ উপজেলায় ভোটগ্রহণ ২৯ মে এবং চতুর্থ ধাপে ৫৫ উপজেলায় ভোট হবে ৫ জুন।

ইত্তেফাক/এমএএম