শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

বুটেক্সে সিনিয়র-জুনিয়র কোন্দলের জেরে মারধর-ভাঙচুর, আহত ৪

আপডেট : ২৪ মে ২০২৪, ১৯:১৫

বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) সৈয়দ নজরুল ইসলাম হলে সিনিয়র-জুনিয়র কোন্দলের জেরে মারধর ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত এক শিক্ষার্থীকে তেজগাঁওয়ের শমরিতা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, বাকিদের হলেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ মে) মধ্যরাতে সৈয়দ নজরুল ইসলাম হলের ৬০১ নম্বর রুমে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, পূর্বের সিনিয়র-জুনিয়রদের কোন্দলের জেরে বৃহস্পতিবার (২৪ মে) রাত ১টায় হলের ৬০১ নম্বর রুমে মারামারির ঘটনা ঘটে। রুমটিতে বৃহত্তর ময়মনসিংহের ৫ শিক্ষার্থী থাকেন। তারা হলেন- ৪৭তম ব্যাচের জনি, সাকিব, শাফি, মাহি, শাহেদ। রাত ১টার দিকে সৈয়দ নজরুল ইসলাম হল ও জিএমএজি ওসমানী হলের ৪৬তম ব্যাচের প্রায় ৩০ জন শিক্ষার্থী তাদেরকে ‘গেস্টরুম’ নেওয়ার জন্য আসে। রুমে শিক্ষার্থীরা গেস্টরুমে যেতে অস্বীকৃতি জানালে ৭/৮ জন রুমের ভেতর এসে তাদেরকে জোরপূর্বক গেস্টরুমে নিতে চাইলে বাকবিতণ্ডায় জড়ায়। এতে ৪৬তম ব্যাচের রেদোয়ান, শাকিল, নিয়াজ, ইমন, রাইসুল, ইমরান, আদনান, প্রাণ মারামারি শুরু করে।

আহত শিক্ষার্থীরা বলেন, সেমিস্টার ফাইনালের প্রস্তুতির জন্য আমরা পড়ালেখা করছিলাম। রাত ১টার দিকে ৪৬তম ব্যাচের রেদয়ানুল হকসহ অনেকজন সিনিয়র রুমের দরজায় এসে ধাক্কা দেয়। তারা আমাদের গেস্টরুমের জন্য তৈরি হয়ে রুম থেকে বের হতে বলে। হলে গেস্টরুম জাতীয় যেকোনো ধরনের র‍্যাগিং কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ায় আমরা গেস্টরুমে যেতে অস্বীকৃতি জানাই। এতে সিনিয়ররা আমাদের রুমের ভেতরে এসে অকথ্য ভাষায় গালাগালি শুরু করে। একপর্যায়ে তারা আমাদের কাপড় ধরে টেনে আমাদের রুম থেকে বের করার চেষ্টা করে। আমরা বাধা দিলে একপর্যায়ে আমাদের ওপর হামলা শুরু করে। আমাদের ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়, রুমে থাকা বেডের লোহার স্ট্যান্ড খুলে মারধর করে। এতে একজনের পা কেটে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। সাকিব ও শাফীকে চেয়ার দিয়ে আঘাত করা হয়।

অভিযুক্ত রেদোয়ানুল হক বলেন, আগের দিন জুনিয়র আমার গায়ে হাত তুলে। এতে হলের যারা জুনিয়র আছে তারা আমার সঙ্গে মজা নেয় যে আমি জুনিয়রের হাতে মার খেয়েছি। আমরা রুমে গেছিলাম তাদের সঙ্গে কথা বলতে। সঙ্গে ৪৬তম ব্যাচের সবাই ছিল। রুমে যারা ছিল তাদেরকে ডাকার পরে আসছিল না। তখন রুমে থাকা শাহেদ ছুরি বের করে। জুনিয়রের হাতে ছুরি দেখে চিল্লাচিল্লি শুরু হয়। পরে আমরা রুমে ঢুকায় তারা ধাকাধাক্কি করে। এতে দুইপক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। তারা আমাদেরকে খাটের লোহার স্ট্যান্ড দিয়ে মারার চেষ্টা করে। কাউকে টার্গেট করে মারা হয়নি।

তিনি আরও বলেন, ঘটনায় আমাকে প্রধান আসামি করা হইছে। জুনিয়রের হাতে আমি মার খেয়েছি। মার খেয়ে চুপ থাকলে এমন কিছু আর হতো না। আর ঘটনায় শাহেদ যদি ছুরি বের না করতো এমন কিছুই হতো না।

ছুরি বের করা নিয়ে শাহেদ বলেন, ছুরি দেখানোর বিষয়টি মিথ্যা। আমি কাউকে ছুরি দেখাইনি। তারা এই হামলার দায় এড়ানোর জন্য বা ঘটনাটি অন্যদিকে নেওয়ার জন্য এমন অভিযোগ করে। রুমে আমরা কেবল ৫ জন ছিলাম। অথচ তারা সংঘবদ্ধভাবে আমাদের জোরপূর্বক গেস্টরুমে নেওয়ার চেষ্টা করে এবং আমরা যেতে মানা করায় আমাদের অকথ্য ভাষায় গালাগালি এবং মারামারি শুরু করে।

হল প্রভোস্ট ড. মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, অভিযুক্ত ও আহত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/এবি