মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ৩ আষাঢ় ১৪৩১
The Daily Ittefaq

শিল্পের মর্যাদা পাচ্ছেন না বিনোদন পার্ক উদ্যোক্তারা

স্বল্পসুদে ঋণসহ প্রণোদনার দাবি

আপডেট : ২৫ মে ২০২৪, ০৭:০৬

দেশের অপার সম্ভাবনাময় খাত পর্যটন ও এমিউজমেন্ট পার্কগুলো ছন্দে ফিরতে পারছে না আজও। করোনাকালে দীর্ঘদিন ধরে নিষেধাজ্ঞার কারণে বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছিল এ খাতটি। প্রায় দুই-আড়াই বছরের মহামারিতে বিভিন্ন খাত সরকারের সহায়তা আর প্রণোদনা পেয়ে নতুন করে শুরু করলেও পর্যটন খাতের এই উদ্যোক্তারা সব ধরনের সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েও ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। 

সবচেয়ে ক্ষতির মুখে পড়লেও বড় এ খাতের উদ্যোক্তারা কোনো ছোট সহায়তা বা প্রণোদনা পাননি। এমনকি এই খাতকে শিল্প ঘোষণা করা হলেও ১২ হাজার কোটি টাকার এ খাতটি শিল্পের মর্যাদাই পাচ্ছে না। অথচ জাতীয় শিল্পনীতি-২০২২-এর অধ্যায় ১৮.২ অনুযায়ী ‘সকল সরকারী সংস্থা জাতীয় শিল্পনীতি অনুসরণ করবে’, ‘অধ্যায় ২০-এ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত শিল্প খাতসমূহের তালিকায় পর্যটন শিল্পকে ৩ নং অগ্রাধিকার খাত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং পরিশিষ্ট ১০-এর ক্রমিক ৪ ও ৫ অনুযায়ী পর্যটন আকর্ষণ ও বিনোদন এবং পর্যটন কার্যক্রম পর্যটনশিল্পের আওতাভুক্ত’।

গত ২০২১ সাল থেকে দফায় দফায় সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি দিয়ে আবেদন জানানো হলেও শিল্পের মর্যাদা দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্ব পাচ্ছে না খাতটি।

পর্যটন ও বিনোদন পার্ক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব এমিউজমেন্ট পার্কস অ্যান্ড এট্রাকশনসের (বাপা) নেতারা বলছেন, সারা দেশে তিন শতাধিক বিনোদন পার্ক রয়েছে। এই পার্কগুলোর অধিকাংশ যন্ত্রপাতিই আড়াই বছরের করোনাকালে দীর্ঘদিন সচল না থাকায় অনেকটাই নষ্ট হয়ে গেছে, যেসব রাইডের মূল্য ৬ কোটি, ৭ কোটি থেকে ১০ কোটি, এমনকি ১৫ কোটি টাকা। আর এই খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রয়েছেন ২ লাখেরও বেশি শ্রমিক, কর্মচারী, কর্মকর্তা।  

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, অন্য খাতের মতো এ খাতকে টিকিয়ে রাখার স্বার্থে জাতীয় শিল্পনীতি-২০২২ অনুযায়ী সব পর্যটন আকর্ষণ এবং বিনোদন পার্ক এবং পর্যটন কার্যক্রমসমূহের বিদ্যুতের ট্যারিফ বাণিজ্যিক হারের পরিবর্তে শিল্পহারে পরিবর্তন করা জরুরি। এছাড়া ৫ শতাংশ বরাদ্দ, সহজশর্তে ঋণ, বিনোদন/থিম পার্কের ওপর করপোরেট ট্যাক্স ব্যতীত ভ্যাট, আমদানি শুল্ক কর ও সম্পূরক শুল্কসহ অন্যান্য কর মওকুফ করা, যাতে অপেক্ষাকৃত কমমূল্যে পর্যটক ও বিনোদন সেবা দেওয়া যায় এবং এই খাতের উদ্যোক্তারা ঘুরে দাঁড়াতে পারে।

দীর্ঘ তিন দশক ধরে এই খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত আছেন ওয়ান্ডারল্যান্ড গ্রুপের কর্ণধার জি এম মোস্তাফিজুর রহমান। যার হাত ধরেই প্রথম শ্যামলী শিশুমেলা নির্মিত হয় এবং তারই উদ্যোগে বেসরকারিভাবে ১৪টি শিশুপার্ক নির্মিত হয়েছে।

জানতে চাইলে এই উদ্যোক্তা ইত্তেফাককে বললেন, শিশুরা আমাদের ভবিষ্যত্। অথচ স্বাধীনতার পর থেকে একটি সরকারও আন্তরিকভাবে শিশুদের মানসিক বিকাশের কথা চিন্তা করেনি। আমরা শিশুদের কথা মাথায় রেখেই ১৯৯০ সালে শিশুপার্ক নির্মাণ শুরু করেছি। যাতে শিশুরা সুস্থ বিনোদন পায়। কিন্তু শিশুদের কথা ভাবাই হচ্ছে না, যেন বিনোদন দরকার যারা রাজনীতি করে তাদেরই। অন্যদিকে তথাকথিত ফ্ল্যাটবাড়ি নামের খুপরির ভেতর থাকতে থাকতে শিশুদের মানসিক বিকাশই ঘটছে না। 

ড্রিম ওয়ার্ল্ড পার্ক অ্যান্ড রিসোর্টের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর কণ্ঠেও একই কথা উচ্চারিত হলো। তিনি বলেন, সরকার অন্যান্য শিল্পের জন্য প্রণোদনা দিলেও পার্ক বিনোদন খাতের দিকে কোনো নজর দিচ্ছে না। বিগত করোনা মহামারির সময় কোনো আয় ছিল না, প্রতি মাসে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি গুনেছি। এ ক্ষতি পূরণ হওয়ার নয়। অথচ আমরা বাধ্য হয়ে কর্মচারীদের বেতনভাতা  চালিয়ে গেছি। ভ্যাট, ট্যাক্স, বিদ্যুত্ বিল, গ্যাস বিল সরকারকে পরিশোধ করেছি। সব আইন মেনে নিয়েছি। কিন্তু আমরা সরকারের কাছ থেকে কোনোরকম সহায়তা পাইনি। সরকারের বিশেষ বরাদ্দের আওতায় আমরা নাই।

পর্যটন ও বিনোদন পার্ক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব এমিউজমেন্ট পার্কস অ্যান্ড এট্রাকশনসের (বাপা) প্রধান সমন্বয়ক এবং কনকর্ড এন্টারটেইনমেন্টের অনুপ কুমার সরকার বললেন, সরকারি বেসরকারিসহ দেশে তিন শতাধিক বিনোদন পার্ক রয়েছে। এখন আরো বাড়ছে। করোনাকালে এই পার্কগুলোর অধিকাংশ যন্ত্রপাতিই দীর্ঘদিন সচল না থাকায় অনেকটাই নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। যেসব রাইডের মূল্য ৬ কোটি, ৭ কোটি থেকে ১০ কোটি, এমনকি ১৫ কোটি টাকা। এসব সচল রাখতে গেলেও প্রচুর বিদ্যুত্ এবং রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় হয়।

ইত্তেফাক/এএইচপি