শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

সালাম মুর্শেদীর বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ ছিল ফিফার

আপডেট : ২৫ মে ২০২৪, ১৯:০৫

বাফুফের সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী একই সঙ্গে বাফুফের অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান। তিনি দায়িত্ব পালনকালীন সময় যেসব কাগজপত্রে স্বাক্ষর করেছিলেন সেখানে ভুল তথ্য ছিল। খরচের সঙ্গে ফিফার কাছে পাঠানো কাগজপত্রে মিল ছিল না। যেসব প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র ফিফার কাছে পাঠানো হয়েছিল সেগুলো আরও মূল্যায়ন না করে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। স্বাক্ষর করেছিলেন সালাম মুর্শেদী। 

সালাম হচ্ছে চূড়ান্ত অনুমোদনকারী কর্মকর্তা। তিনি অনুমোদন দিয়ে স্বাক্ষর করলে সেটি পাশ ধরে নেওয়া হয়। তার আগে বাফুফের সাধারণ সম্পাদকের টেবিল থেকে চূড়ান্ত হয়ে আসতে হয়। সাধারণ সম্পাদক এবং চিফ ফিন্যান্স অফিসার আবু হোসেন যাচাই বাছাই করে স্বাক্ষর করে অনুমোদনের জন্য পাঠান। এসব দায়িত্ব যারা পালন করেন তারা সঠিকভাবে কাজ করেননি বলে বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছিল ফিফা। 

বৃহস্পতিবার ফিফা নতুন করে চিঠি দিয়ে আবু নাইম সোহাগের নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ এক বছর বেড়ে সেটি হয়েছে এখন তিন বছর। সোহাগকে জরিমানা দিতে হবে ২৫ লাখ ৬৫  হাজার টাকা। সঙ্গে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন আবু হোসেন, ম্যানেজার অপারেশন্স মিজানুর রহমান, সঙ্গে জনপ্রতি ১২ লাখ ৮২ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। নতুন তথ্য হচ্ছে সালাম মুর্শেদীকে অর্থ জরিমানা করা হয়েছে।

সালাম মুর্শেদী গতকাল একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে নাকি ফিফার এথিক্স কমিটি তিনটি অভিযোগ এনেছিল। সেই তিন অভিযোগ নিয়ে ফিফার এথিকস কমিটির সঙ্গে বৈঠকও হয়েছে। গত ৮ ফেব্রুয়ারি এথিক্স কমিটির অ্যাডজুডিকেটরি চেম্বার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শুনানি হয়। সালাম তার পাঠানো লিখিত বক্তব্যে সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘আমার বিরুদ্ধে ফিফার অনুচ্ছেদ ১৪, ১৬, ২৫ লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়।’ 

এই তিনটি অনুচ্ছেদে রয়েছে সাধারণ দায়িত্ব পালন, বিশ্বস্ততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন এবং জালিয়াতি ও মিথ্যা তথ্য প্রদানের অপরাধ দেখানো হয়।’ সালাম জানিয়েছেন, এই তিন অভিযোগে আমার সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, ‘আমি নিজেই আমার আইনজীবীদের সঙ্গে নিয়ে উল্লেখিত অভিযোগ প্রত্যাহারের পক্ষে অত্যন্ত বিশ্বাসযোগ্য যুক্তি স্থাপন করি। গত ৭ মার্চ ফিফার এথিক্স কমিটি দুটি অভিযোগ খারিজ করে দেয়। যার মধ্যে ছিল ১৬ এবং ২৫ অনুচ্ছেদ। এটি হচ্ছে দায়িত্ব পালনে বিশ্বস্ততা এবং  জালিয়াতি ও মিথ্যা তথ্য প্রদানের অভিযোগ।’

সালাম জানিয়েছেন, ফিফার এথিক্স কমিটির অ্যাডজুডিকেটরি চেম্বার অধিকতর তদন্তের পর আমার বিপক্ষে তিনটি অভিযোগের মধ্যে অনৈতিক কার্যক্রম, জালিয়াতি বা মিথ্যাচারের মতো দুটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগের সত্যতা পায়নি। তাই আমি অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান হওয়ায় আমাকে নূন্যতম আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে।’

সালাম তার বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, ক্রয় প্রক্রিয়ায় চার জন স্বাক্ষরকারীর মধ্যে দুই জনকে ইতিমধ্যেই নিষিদ্ধ করেছে ফিফা। সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন সরাসরি জড়িত না থাকায় তাকে খারিজ করা হয়েছে।

ইত্তেফাক/জেডএইউচ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন