ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে উৎকণ্ঠিত হয়ে পড়েছে ইন্দুরকানীর নদী পারের বাসিন্দারা। যতই বেলা বাড়ছে ততই নদীর পানি ফুলে ফেঁপে লোকালয়ে প্রবেশ করছে। তলিয়ে যাচ্ছে কৃষি ক্ষেত ও বসতবাড়ি।
রোববার (২৫ মে) সকাল থেকেই প্রবল ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে দমকা হাওয়া ও বৃষ্টি শুরু হয় ইন্দুরকানীতে। দিশেহারা হয়ে লোকজন ছুটছে নিরাপদ আশ্রয়ে।
উপজেলার নদী তীরবর্তী অধিকাংশ এলাকায় বেড়ি বাঁধ না থাকায় চরম সংকটে পড়েছে ওই এলাকার বাসিন্দারা। উপজেলার অন্তত ২৫ থেকে ৩০ কিলোমিটার এলাকায় জরুরিভিত্তিতে টেকসই বেড়ি বাঁধ দেওয়া প্রয়োজন। বেড়িবাঁধ না থাকায় জোয়ারের অতিরিক্ত পানিতে প্লাবিত হওয়ায় ইন্দুরকানীর চাড়াখালী, পাড়েরহাট, কলারন, কাজিকান্দা, কালাইয়া ও সাঈদখালী আবাসনের অধিকাংশ ঘরেই রান্না হয়নি। তাদের রান্নার চুলাও পানিতে ডুবে গিয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় রেমালের আঘাত মোকাবেলায় ইন্দুরকানীদে ২০টি সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সাঈদখালী চরের লোকদের সাইক্লোন শেল্টারে পৌঁছে দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু বকর সিদ্দিকী। তাদেরকে শুকনা খাবার ও খিচুড়ির ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। গ্রামে গ্রামে মাইকিং করে সবাইকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলছেন উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। জোয়ারের পানি বাড়তে থাকায় ডুবে গিয়েছে টগড়া চরখালী ফেরির গ্যাংওয়ে। উপজেলার বালিপাড়া, টগড়া, সাঈদখালী, কালাইয়া, চন্ডিপুরের অধিকাংশ এলাকার বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করছে।
ইন্দুরকানী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারাম্যান মাসুদ করিম তালুকদার ইমন জানান, চাড়াখালী আবাসন এলাকায় বেড়িবাঁধ না থাকায় আবাসনের অধিকাংশ ঘর প্লাবিত হয়েছে। জরুরিভিত্তিতে ইন্দুরকানীতে বাঁধ একান্ত প্রয়োজন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু বকর সিদ্দিকী জানান, উপজেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, পুলিশ, রেডক্রিসেন্ট, ফায়ার সার্ভিস ও রূপসী বাংলা উন্নয়ন সংস্থার সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে সকলকে নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি। মেডিকেল টিম প্রস্তুত আছে। শুকনা খাবার বিতরণ চলছে। কয়েক স্থানে খিচুড়িরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাতেও আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে খাবারের ব্যবস্থা থাকবে।
