মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ১১ আষাঢ় ১৪৩১
The Daily Ittefaq

যাত্রীদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া

ঢাকা-দর্শনায় ট্রেনের রুট বদল হচ্ছে

আপডেট : ২৭ মে ২০২৪, ০২:৩০

আগামী জুলাই মাসে শুরু হচ্ছে ঢাকা থেকে দর্শনা পর্যন্ত সরাসরি ট্রেন যোগাযোগ। দর্শনা থেকে ঢাকা যেতে সময় লাগবে মাত্র ৫ ঘণ্টা ১০ মিনিট। আর চুয়াডাঙ্গা থেকে প্রায় ৫ ঘণ্টায় ঢাকায় যাওয়া-আসা করা যাবে অনায়াসেই। এর পরিবর্তে খুলনা থেকে কুষ্টিয়া, মোবারকগঞ্জ ও কোটচাঁদপুর রেল স্টেশন হয়ে ঢাকাগামী সরাসরি চলাচলকারী তিনটি ট্রেন সরিয়ে নেওয়া হবে অন্য রুটে। মূলত এই তিনটি ট্রেনের পরিবর্তে দর্শনা-ঢাকা রুটের সরাসরি দুইটি নতুন ট্রেন পাচ্ছে পশ্চিমের যাত্রীরা। এ নিয়ে যাত্রী-সাধারণের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই এ সিদ্ধান্তকে বিরোধিতা করেছেন, আবার অনেকেই সাধুবাদ জানিয়েছেন।

রেলওয়ের (পশ্চিমাঞ্চল) বিভাগের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঢাকা-দর্শনা রুটে ট্রেন থাকছে দুইটি। ঢাকা-দর্শনা রুটে প্রথম ট্রেনটি দর্শনা থেকে সকাল ৭টায় ছেড়ে ঢাকায় পৌঁছাবে দুপুর ১২টায় এবং ঢাকা থেকে দুপুর ১টায় ছেড়ে দর্শনায় পৌঁছাবে বিকাল ৪টায়। দ্বিতীয় ট্রেনটি ঢাকা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টায় ছেড়ে গিয়ে দর্শনায় পৌঁছাবে ৯টা ৪০ মিনিটে এবং দর্শনা থেকে রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে ছেড়ে ঢাকায় পৌঁছাবে পর দিন ভোর ৫টায়। খুলনা থেকে ঢাকা কুষ্টিয়া, মোবারকগঞ্জ ও কোটচাঁদপুর রেল স্টেশন হয়ে ঢাকাগামী সরাসরি চলাচলকারী তিনটি ট্রেন চিত্রা, বেনাপোল ও সুন্দরবন এক্সপ্রেস সরিয়ে নিয়ে যশোরের রূপদিয়া বা পদ্মবিলা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকায় চলাচল করবে ট্রেন দুইটি। অন্যদিকে খুলনা থেকে রাজশাহী, উত্তরবঙ্গ চিলাহাটি ট্রেন আগের মতোই চলাচল করবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বর্তমানে দেশে লোকাল, মেইল, কমিউটার ও আন্তঃনগর এই চার ধরনের ট্রেন চলাচল করে। লোকাল ট্রেনের ভাড়া কিলোমিটার প্রতি ৩৯ পয়সা আর আন্তঃনগর ট্রেনের ভাড়া নন-এসি শ্রেণির ভিত্তি ভাড়া ১ টাকা ১৭ পয়সা। আর কিলোমিটার প্রতি এসি শ্রেণির ভিত্তি ভাড়া ১ টাকা ৯৫ পয়সা।

ঢাকা জজকোর্টের আইনজীবী শামীম ইকবাল সুমন বলেন, ‘নতুন দুইটি ট্রেন চালু হওয়াতে আমাদের মতো ঢাকাগামী ও ঢাকাকেন্দ্রিক ব্যক্তিদের সুবিধা হবে। কারণ এই দুইটি ট্রেন যে সময় চলাচল করবে, একজন ব্যক্তি দিনে ঢাকা গিয়ে কাজ শেষ করে আবার দিনে বাড়ি ফিরতে পারবেন।’

অন্য দিকে বেসরকারি চাকরিজীবী শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘আমার বাড়ি সিরাজগঞ্জে। চাকরিসূত্রে চুয়াডাঙ্গায় অবস্থান করি। বাড়ি যাওয়ার জন্য চিত্রা ও সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনে যাতায়াত করতাম। পরে সুন্দরবনের রুট পরিবর্তন হলেও চিত্রা এক্সপ্রেসে যাওয়া-আসা করতাম। যদি চিত্রা ট্রেনটিও এ রুট থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়, তাহলে আমাদের ট্রেন ভ্রমণে অনেকটা ভাটা পড়বে।’ এছাড়া নতুন দুইটি ট্রেন চালু হওয়াতে স্টেশন সংশ্লিষ্ট এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, স্টেশন পার্শ্ববর্তী আবাসিক হোটেল ব্যবসায়ীদের ব্যবসা কমতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।

দর্শনা হল্ট রেলওয়ে স্টেশনের সহকারী বুকিং মাস্টার মিন্টু কুমার রায় বলেন, ‘চলতি বছর জুলাই থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ের মাস্টার প্ল্যান চালু হওয়ার সম্ভাবনা আছে। নতুন রুটের কার্যক্রম শুরু হলে রেলওয়েতে কমর্রত ব্যক্তিদের অনেক সুবিধা হবে। ট্রেনের চাপ কম থাকবে, এতে দুর্ঘটনার হারও কমে আসবে। বিশেষ করে দর্শনা, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়ার যাত্রীদের সুবিধা হবে। দিনে ঢাকায় গিয়ে আবার দিনে কাজ শেষ করে চলে আসতে পারবে। অন্যদিকে ট্রেনের টিকিটও সব সময় সহজে মিলবে।’

চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার মিজানুর রহমান বলেন, ‘শুনেছি বাংলাদেশ রেলওয়ের মাস্টার প্ল্যান চালু হলে এ রুটের তিনটি ট্রেন যশোর হয়ে ঢাকা যাবে। আর আমাদের রুটে নতুন শিডিউল করে দুইটি ট্রেন দেওয়া হবে। তবে এ সংক্রান্ত কোনো আদেশ-নির্দেশ এখনো পাইনি।’

ইত্তেফাক/এনএন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন