দেশের ক্রিকেটের পঞ্চপাণ্ডবের একজন মুশফিকুর রহিম। উইকেটরক্ষক এই ব্যাটার গুরুত্বপূর্ণ একাধিক ম্যাচে ব্যাট হাতে টাইগারদের জয় এনে দিয়েছেন। ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে জায়গা করে নিয়েছেন দেশের সেরা ক্রিকেটারদের তালিকায়ও। অনুশীলনেও এই ক্রিকেটার বেশ পরিশ্রমী। এতে করে একাধিক তরুণ ক্রিকেটার তাকে নিজেদের আদর্শ হিসেবে মানেন।
তাদের মধ্যে একজন বর্তমান টাইগার দলের তরুণ তারকা ব্যাটার তাওহিদ হৃদয়। ছোটো বেলা থেকেই তিনি মুশফিকুর রহিমের ভক্ত। আর ক্যারিয়ারে এই কঠোর পরিশ্রমী ক্রিকেটারকেই নিজের আদর্শ হিসেবে দেখেন।
হৃদয় দলের সঙ্গে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে। তবে দেশ ছাড়ার আগে ভিডিও বার্তায় কথা বলে গেছেন তিনি। সেটি গতকাল প্রকাশ করেছে বিসিবি। সেখানেই এই তরুণ ব্যাটার শুনিয়েছেন ক্রিকেটে তার আইডলের কথা। বলেন, ‘আদর্শ তো কোনো সময় পরিবর্তন হয় না। মুশি ভাই (মুশফিকুর রহিম) আমার আদর্শ ছোট থেকেই। ক্রিকেট তো তখন আসক্তির মত ছিল। এলাকায় খেলতাম তখন থেকেই শুনতাম আমাদের বগুড়ার খেলোয়াড় মুশি ভাই। তখন থেকেই ইচ্ছা যে, তার মতোই হবো। তাই বলা যায়, ছোট থেকে উনি আমার আদর্শ। এখনো উনি আছেন। যতদিন আমি খেলব উনি সব সময় থাকবেন। উনাকে দেখে সব সময়ই অনুপ্রাণিত হই, উনি একজন কঠোর পরিশ্রমী মানুষ। মানে উনার কাছ থেকে সব কিছু নেওয়ার আছে, খুব ভালোভাবে অনেক কিছু শেখার আছে, হয়তো বা আগে দূরে থেকে দেখিছি। এখন খুব কাছ থেকে দেখছি, ড্রেসিংরুম শেয়ার করছি। উনার চিন্তা ভাবনা, উনার কঠোর পরিশ্রম—সব কিছুই দেখে অনেক ভালো লাগে এবং আমারও ছোটো থেকে ইচ্ছা ছিল উনার মতো একজন খেলোয়াড় হওয়া। উনার মতো দেশকে লম্বা সময় ধরে সার্ভিস দেওয়ার ইচ্ছা রয়েছে।’
টাইগারদের হয়ে গেল বছর অভিষেক হলেও বেশ অভিজ্ঞ হৃদয়। অভিষেকের বছরই খেলেছেন ওয়ানডে বিশ্বকাপে ৬ ম্যাচে। সেখানে মাত্র ১৬৪ রান করেছিলেন তিনি। অবশ্য এমন পারফরম্যান্সে হতাশ হৃদয় নিজেও। এ প্রসঙ্গে বলেন ‘২০২৩-এর বিশ্বকাপে যেটা হয়েছে, হয়তো আমাকে নিয়ে দলের পরিকল্পনা ছিল এমন। কিন্তু ২০২৩-এর বিশ্বকাপের আগে আমি অন্য জায়গায় ব্যাটিং করেছি। সব সময় ওপরেই খেলেছি। কিন্তু বিশ্বকাপে যখন নিচে ব্যাটিং করেছি, ছয়ে-সাতে, তখন আমার জন্য মানিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে গিয়েছিল। এরপরও চেষ্টা করেছি। দল আমার কাছে যা চেয়েছে, তা দিয়ে কন্ট্রিবিউট করার জন্য। হ্যাঁ, কিছু ম্যাচ পারিনি। অনেকেই বলে বিশ্বকাপটা ভালো হয়নি। আপনি যদি দেখেন, ছয়-সাত এমন এক পজিশন, যেখানে প্রতিদিনই ভালো খেলবে না। এমন কোনো ব্যাটসম্যান নেই যে, নিচে নেমে নিয়মিত ভালো করবে। এই জায়গাটা এমন যে, আপনি দু-একদিন খেলবেন। আমার কাছে মনে হয় না, আমি খুব খারাপ খেলেছিলাম। আমি ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ওপরে ব্যাট করার সুযোগ পেয়েছি। ভারতের সঙ্গে রান করতে পারেনি আর অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে আমি ৭৪ করেছিলাম। ভালো একটা অভিজ্ঞতা ছিল। অনেকে বলে মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। আমি এখনো তা দেখিনি। আল্লাহ আমাকে যেন সেটা না দেখায়। যেন দলের জন্য সব সময় অবদান রাখতে পারি।’
এদিকে দেশের ক্রিকেটকে একমাত্র বিশ্বকাপ এনে দেওয়া স্কোয়াডের একজন হৃদয়। যদিও সেটি ছিল বয়সভিত্তিক বিশ্বকাপ। এখনো তার সেই স্মৃতি মনে পড়ে। তবে তিনি মনে করেন জাতীয় দলের হয়েও এই অর্জন করবে টাইগাররা—সেটারও আর বেশি দেরি নেই। বলেন, ‘চোখ খুলেও এখনো অনুভব করি যে, কী হয়েছিল সেই বিশ্বকাপে (অনূর্ধ্ব-১৯)। এখন আমাদের সময় এসেছে জাতীয় দলের হয়ে এশিয়া কাপ, বিশ্বকাপের মতো জায়গায় গিয়ে ভালো করা, কাপ নেওয়া, ভালো করা না, কাপ নিতে চাই। শুধু আমি না, আমরা সবাই চাই। আমরা যদি আমাদের দিক থেকে ভালো করতে পারি, তাহলে বেশি দেরি নেই আমরা কাপ নিয়ে নিব।’ তার মতে, বিশ্ব ক্রিকেটে নিজেদের গুরুত্ব বজায় রাখতে হলে আইসিসি শিরোপা জেতার কোনো বিকল্প নেই।
