মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১
The Daily Ittefaq

হকিতে বহিষ্কার 

লিগ কমিটির চেয়ারম্যান কিছুই জানেন না

আপিলের সুযোগ দিচ্ছেন সাঈদ

আপডেট : ২৮ মে ২০২৪, ১৫:৫৩

প্রিমিয়ার হকি লিগে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার রেশ ধরে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন শাস্তি দিয়েছে ৩১ জনকে। কোচ, খেলোয়াড়, কর্মকর্তা, ক্লাবকেও শাস্তি দিয়েছে। এত ঘটনা ঘটে গেছে তার কিছুই জানা না লিগ কমিটির চেয়ারম্যান পুলিশের এসপি হায়াতুল ইসলাম খান। তিনি লিগ কমিটির চেয়ারম্যান, শাস্তি দেওয়া হয়েছে লিগের খেলাকে কেন্দ্র করে। অথচ লিগ কমিটির চেয়ারম্যানের টেবিলে ফাইল যায়নি। 

কারা শাস্তি দিচ্ছে, কাদেরকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে, কেনই-বা শাস্তি দেওয়া হচ্ছে, তার কিছুই জানেন না হায়াতুল ইসলাম। তাকে শাস্তির কথাগুলো শোনানো হলে তিনি কোনো কিছুই নাকি জানেন না। এ ব্যাপারে আমাকে কিছু্ই জানায় নাই—বললেন লিগ কমিটির চেয়ারম্যান। ফেডারেশন থেকে বলা হচ্ছে ডিসিপ্লিনারি কমিটি সুপারিশ করেছে। হায়াতুল ইসলাম বললেন, ‘আমি জানি না।’ প্রিমিয়ার হকি লিগে খেলে পুলিশ। পুলিশ দলের কাউসারকে ৩ ম্যাচ বহিষ্কার এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে, কোচ মাকসুদুল আলম হাবুলকে ২ ম্যাচ বহিষ্কার, ম্যানেজার তরিকুল ইসলামকে ২ ম্যাচ বহিষ্কার করা হয়েছে—এ ব্যাপারেও কিছুই জানা নাই লিগ কমিটির চেয়ারম্যানের। তাহলে কী লিগ কমিটির চেয়ারম্যানকে পাশ কাটিয়ে সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হায়াতুল ইসলাম জানিয়েছেন তিনি খোঁজ নেবেন। ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মোমিনুল হক সাঈদ বলেন, ‘নির্বাহী কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত উনাকে (লিগ কমিটির চেয়ারম্যান) জানানোর কথা না। উনি তো নির্বাহী কমিটির সদস্য না।’

২৫ মে শনিবার, ফেডারেশনের নির্বাহী কমিটির ৭ ঘণ্টার ম্যারাথন সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে মোহামেডান অধিনায়ক রাসেল মাহমুদ জিমিকে ১২ ম্যাচ বহিষ্কার, সিয়াম, ইমন ৩ ম্যাচ, আশরাফুল হক সাদকে ৭ ম্যাচ বহিষ্কার, দলের ম্যানেজার এবং ফেডারেশনের যুগ্ম-সম্পাদক সাবেক তারকা খেলোয়াড় আরিফুল হক প্রিন্সকে চার বছর বহিষ্কার করা হয়েছে, মোহামেডানের মালয়েশিয়ান কোচ গোপিনাথন কৃষ্ণমূর্তিকে বাংলাদেশের হকি অঙ্গন থেকে আজীবন বহিষ্কার। ১৯ এপ্রিল মোহামেডান আবাহনীর ম্যাচে মোহামেডানকে রিফিজ টু প্লে দেখিয়ে আবাহনীকে জয়ী ঘোষণা করে আম্পায়ার। 

সেদিন খেলা শেষে সংবাদমাধ্যম মোহামেডানের কোচ, খেলোয়াড়, কর্মকর্তার মন্তব্য জানতে গেলে অনেকের মধ্যে ক্লাবের পরিচালক জামাল রানা ছিলেন সেখানে। হকি ফেডারেশন জানিয়েছে সংবাদ মাধ্যমের কাছে ফেডারেশন সম্পর্কে অশালীন মন্তব্য করেছেন জামাল রানা। তাই তাকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়েছে। ফেডারেশনের শাস্তির সিদ্ধান্ত দেখে মনে হবে লিগে যা হয়েছে সব দোষ মোহামেডানের। তারাই বেশি শাস্তি পেয়েছেন। ‘অন্যান্য ক্লাবও শাস্তি পেয়েছে। আবাহনী, পুলিশ, দিলকুশাও শাস্তি পেয়েছে, বললেন সাঈদ। মোহামেডান আবাহনী ম্যাচে ভিডিওতে দেখা যায় আবাহনীর মিমো মারামারিতে সবার আগে এগিয়ে যাচ্ছেন। তাকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে ২ ম্যাচ। আরো অনেক সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এসব শাস্তির ভিত্তি কী। লিগের ম্যাচ শেষ হওয়ার পরই আম্পায়ার তার রিপোর্ট দেন। সেই রিপোর্টের ওপর শাস্তির কথা জানিয়ে দেওয়া হয়।

বলা হচ্ছে ডিসিপ্লিন কমিটির সুপারিশে ফেডারেশনের নির্বাহী কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কারা আছেন ডিসিপ্লিন কমিটিতে। এটা নাকি প্রকাশ করা যাবে না। ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মোমিনুল হক সাঈদ বলেছেন, ‘ডিসিপ্লিনারি কমিটি অন্তরালে কাজ করে। ফেডারেশন সভাপতির নির্দেশে নাম প্রকাশ করা যাবে না। এটা ৬ সদস্যের কমিটি, এখানে সভাপতির প্রতিনিধি, লিগ কমিটির প্রতিনিধি রয়েছেন, যারা আছেন তারা ফেডারেশনেরই কর্মকর্তা।’ সাঈদ বললেন, ‘সাধারণ সম্পাদক হিসাবে আমি তো সব কমিটিতেই আছি।’  জানা গেছে সাধারণ সম্পাদক নিজেই এই কমিটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন, তার সঙ্গে আছেন লিগ কমিটির সম্পাদক খাজা তাহের লতিফ মুন্না, মাহবুবুল এহসান রানা, কোষাধ্যক্ষ সৈয়দ মাহমুদুল হক প্রমুখ।

মোহামেডানকে টার্গেট করে শাস্তি দেওয়া হয়েছে কি না? প্রশ্নের জবাবে মোমিনুল হক সাঈদ বলেন, ‘গোপিনাথন একজন বিদেশি তিনি আমার দেশকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করবেন সেটাকে আপনি কীভাবে ধরবেন। মোহামেডান নয়, দেশের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন গোপিনাথন। নির্বাহী কমিটির সভায় মোহামেডানের ৮ জন ছিলেন। তারা কেন প্রতিবাদ করেননি। শাস্তির বিষয়ে যখন আলোচনা হয় তখন তো কেউ ওয়াকআউট করেননি।’ সাজেদ আদেলকে আজীবন শাস্তির বিষয়ে সাঈদ বলেন, ‘উনার বিষয়ে তদন্ত কমিটি হয়েছিল, তারা রিপোর্ট দেওয়ার পর সিদ্ধান্ত হয়েছে।’ মোমিনুল হকের শেষ কথা হচ্ছে যারা শাস্তি পেয়েছেন তাদের সবার জন্যই আপিলের সুযোগ রয়েছে।

ইত্তেফাক/জেডএইচ