সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ৩ আষাঢ় ১৪৩১
The Daily Ittefaq

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব

পিরোজপুরে সুপেয় পানির মারাত্মক সংকট

আপডেট : ৩০ মে ২০২৪, ০৫:০০

ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রায় ৩০ ঘণ্টাব্যাপী তাণ্ডব স্থলভাগে যে জলোচ্ছ্বাস হয়েছে তাতে জেলা শহর পিরোজপুরসহ উপজেলা শহরগুলো প্লাবিত হওয়ায় বাসিন্দারা সুপেয় পানির তীব্র সংকটে পড়েছে। পিরোজপুর শহরের প্রায় ৮ হাজার বাড়ির অধিকাংশ পৌর পানি সরবরাহের ভূগর্ভস্থ পানির ট্যাংক ডুবে গিয়ে ময়লা পানি ঢুকে পড়ায় ট্যাংকের পানি দূষিত হয়েছে। এসব ট্যাংকের দূষিত পানি ব্যবহার করার ক্ষেত্রে পৌরবাসী অত্যন্ত বিপদাপন্ন। 

গত মঙ্গলবার বিকাল থেকে পৌর পানি সরবরাহ ব্যবস্থা আংশিক চালু হলেও পানি পান, রান্নার কাজে ব্যবহার, গোসলসহ শহরবাসী ভূগর্ভস্থ ট্যাংকের পানি কাজে লাগাতে পারছে না। পানির পাম্প থেকে পানি উঠিয়ে বাসভবন সমূহের ওভারহেড ট্যাংকে নিলেও গৃহস্থালী কাজে ব্যবহার করার সময় ময়লাযুক্ত দূষিত পানি তীব্র গন্ধ অনুভূত হয়। মানুষ এই দূষিত পানি পানসহ গোসল, রান্না কাজে ব্যবহার করতে পারছে না। শত শত বাড়ির ট্যাংকের দূষিত পানি অপসারণ করার মতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না থাকায় পৌরবাসী দারুণ বিপাকে পড়েছে। ট্যাংক পরিষ্কার করে দূষিত পানি মুক্ত করার জন্য শহরে হাতেগোনা কয়েকটি পাম্প থাকায় তা নিয়ে মেকারের দোকানে কাড়াকাড়ি চলছে। 

পিরোজপুর কালিবাড়ী রোডের মেকানিক রফিকুল ইসলাম জানান, স্বাভাবিক সময় তাদের হাতে সীমিত সংখ্যক বিশেষ ধরনের কয়েকটি পাম্প থাকে যা তখন মাঝেমধ্যে চাহিদা অনুযায়ী কাজে লাগানো হয়। এই দুর্যোগের মধ্যে শহরে দালান ও বাড়ির ভূগর্ভস্থ ট্যাংক পরিষ্কারের জন্য মানুষের ভিড় লেগে থাকায় মেকানিকরা পাম্প সরবরাহ করতে পারছেন না। 
পিরোজপুর থানা রোডের বাসিন্দা মো. সালেহ উদ্দিন জানান, তাদের দালানটি সাধারণ অন্যান্য বাড়ির চেয়ে অপেক্ষাকৃত উঁচুতে। কিন্তু দুই দিন আগের রেমালের প্রভাবে তাদের বাড়ির এলাকাসহ শহরের অধিকাংশ এলাকা চার-পাঁচ ফুট পানিতে প্রায় ৮-১০ ঘণ্টা নিমজ্জিত ছিল। ফলে রাস্তা ও আশপাশের ময়লাযুক্ত পানি ভূগর্ভস্থ ট্যাংকের মধ্যে ঢুকে যায়। যদিও দুই দিন ধরে পৌর পানি সরবরাহের পানি কোনো কোনো এলাকায় পাওয়া গেলেও তা ভূ-গর্ভস্থ ট্যাংকে সংরক্ষণ করে ব্যবহার করা ঝুঁকিপূর্ণ। কোনো কোনো  পৌরবাসী বাধ্য হয়ে এই পানি পানসহ গৃহস্থালী কাজে ব্যবহার করেন বটে কিন্তু এর ফলে ডায়রিয়াসহ পেটের পীড়া, টাইফয়েড, জন্ডিস ইত্যাদি মারাত্মক রোগের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তা ছাড়া এই ট্যাংক পরিষ্কার করার মতো প্রয়োজনীয় লোকবল পৌরসভাসহ বেসরকারিভাবে পাওয়া না যাওয়ায় ঘূর্ণিঝড়জনিত জলোচ্ছ্বাসে দূষিত পানি শহরবাসীর জন্য আরেকটি বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। 

পিরোজপুর পৌরসভার পানি সরবরাহ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মচারী রইস উদ্দিন জানান, এই সমস্যা জানিয়ে শত শত পৌরবাসী তাদের সাহায্য চেয়ে মোবাইল ফোনে এবং সরাসরি পৌর ভবনে এসে ধরনা দিচ্ছেন। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তারা তেমন কোনো সেবা দিতে পারছেন না। এ দিকে মঠবাড়িয়া, ভাণ্ডারিয়া, কাউখালী, নেছারাবাদসহ উপজেলা শহরসমূহ থেকেও এরকম বিপদের খবর পাওয়া যাচ্ছে। উপজেলা শহরসহ অন্যান্য এলাকার অবস্থাও অনুরূপ। এসব শহরের দুই একটিতে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা থাকলেও ভূ-গর্ভস্থ ট্যাংক ময়লা পানিতে নিমজ্জিত থাকায় তার ব্যবহার দুরূহ হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও গভীর নলকূপ দিয়ে পানি উঠানো গেলেও তা সংরক্ষণের সময় দূষিত হয়ে পড়ে। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চল ও হাট-বাজারে সুপেয় পানির সংকট তীব্র। খাবার পানির উৎস পুকুর প্লাবিত হয়ে লোনা ও দূষিত পানিতে ভরে থাকায় গ্রামের মানুষের সুপেয় পানির সংকট প্রবল। গভীর ও অগভীর নলকূপ দিয়ে কোথাও কোথাও এ সংকট মোকাবিলা করার চেষ্টা চললেও জেলার অধিকাংশ দুর্গত এলাকার মানুষ বিপাকের মধ্যে রয়েছে।

ইত্তেফাক/এমএএম