শনিবার, ২২ জুন ২০২৪, ৭ আষাঢ় ১৪৩১
The Daily Ittefaq

যশোর

পুলিশ হেফাজতে নারীর মৃত্যু তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি

আপডেট : ০৩ জুন ২০২৪, ১৭:১০

যশোরের অভয়নগরে পুলিশ হেফাজতে আফরোজা বেগম নামের এক নারীর মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। এ কমিটির প্রধান করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) নূরে আলম সিদ্দিকীকে। কমিটির অমাই দুই সদস্য হলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অভয়নগর সার্কেল) জাহিদুল ইসলাম ও কোর্ট ইন্সপেক্টর রোকসানা খাতুন।

এর আগে গত শনিবার গভীর রাতে অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া নর্থবেঙ্গল রোড এলাকার জলিল মোল্যার স্ত্রী আফরোজা বেগমকে মাদকসহ আটক করার দাবি করে পুলিশ। পরদিন সকালে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। পরে সেখান থেকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান আফরোজা বেগম। 

তার স্বজনরা দাবি করেন, পুলিশের নির্যাতনে আফরোজা বেগমের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় পুলিশের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

আফরোজা বেগমের ছেলে মুন্না মোল্লা জানান, স্থানীয় একটি মহলের ইন্ধনে অভয়নগর থানার এসআই শিলন ও শামছু গতকাল শনিবার রাত ১২টার দিকে তাদের বাড়িতে আসে। পরে নিজেদের কাছে থাকা ইয়াবা দিয়ে তার মাকে গ্রেপ্তার দেখায়। এ সময় দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ আরও কয়েকজন পুলিশ তার মাকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে মারধর করে। পরে রাত ১টার দিকে থানায় নিয়ে যায়। 

মুন্না জানান, গতকাল সকালে থানায় গিয়ে দেখেন মা খুব অসুস্থ। পুলিশকে অনুরোধ করে তার মাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা কয়েকটি টেস্ট দিলেও পুলিশ সদস্যরা সেগুলো করতে না দিয়ে ফের থানায় নিয়ে যায়। আবারও অসুস্থ হয়ে পড়লে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মায়ের মৃত্যু হয়।

মুন্না অভিযোগ করে বলেন, পুলিশ ঘরে থাকা ইজিবাইক বিক্রির এক লাখ ৮০ হাজার টাকা লুট করেছে। আরও দুই লাখ টাকা ঘুষের দাবিতে তার মাকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির সদস্য অভয়নগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম বলেন, যেহেতু পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে, সে কারণে পুলিশ সুপারের নির্দেশে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই নারীর মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের কোন গাফিলতি ছিল কিনা তা এই কমিটি তদন্ত করে দেখবে। পুলিশের কোন সদস্যের গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে পরবর্তীতে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যশোর জেনারেল হাসপাতালের ময়নাতদন্ত বোর্ডের কর্মকর্তা আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাক্তার আব্দুস সামাদ বলেন, ময়নাতদন্ত শেষ হয়েছে। বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। ফরেনসিক রিপোর্টের জন্য এসব আলামত ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট তৈরি হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট পেলেই তা সিভিল সার্জনের মাধ্যমে পুলিশ সুপারের কাছে দেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি