শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

শিলাস্তি রহমানের জবানবন্দি

স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ফ্ল্যাটে ওঠেন শাহীন-শিলাস্তি

# সিয়ামকে ভারতের কাছে হস্তান্তর, বাংলাদেশে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি  # ১০ আসামির ব্যাংক অ্যাকাউন্ট অনুসন্ধান করবে ডিবি

আপডেট : ০৪ জুন ২০২৪, ০৫:০০

ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনারকে খুনের উদ্দেশ্যে অপহরণের মামলায় জবানবন্দি দিয়েছেন আসামি শিলাস্তি রহমান। গতকাল সোমবার বিকালে তাকে আদালতে হাজির করে তদন্তকারী সংস্থা ডিবি। এরপর ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন শিলাস্তি। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ও নেপালে গ্রেফতার আরেক আসামি সিয়াম হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছে আদালত। পুলিশের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার আদালত পরোয়ানা জারি করে। তবে নেপালে গ্রেফতার সিয়ামকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে চাইলেও সেটি সম্ভব হয়নি। নেপালের ইন্টারপোল শাখা পুলিশ তাকে ভারতীয় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে।

এদিকে, এমপি আনার অপহরণ মামলায় গ্রেফতার ও পলাতক ১০ আসামির ব্যাংক অ্যাকাউন্ট অনুসন্ধানের জন্য তথ্য চেয়ে আদালতে আবেদন করেছে ডিবি পুলিশ।

আনারকে খুনের উদ্দেশ্যে অপহরণের মামলায় স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় সোমবার দুপুরে শিলাস্তি রহমানকে আদালতে হাজির করে তদন্তকারী সংস্থা ডিবি। এরপর ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবুল হকের আদালতে তার জবানবন্দি রেকর্ড হয়। জবানবন্দিতে শিলাস্তি রহমান নিউটাউনের সঞ্জীবা গার্ডেনের ঐ ফ্ল্যাটে ওঠার কথা স্বীকার করেছেন। ফ্ল্যাট ভাড়া নেওয়ার নথিপত্রে তাকে আক্তারুজ্জামান শাহীনের স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছে। ঘটনার দিন তিনি জানতেন যে ঐ ফ্ল্যাটে ঝিনাইদহের এমপি আনার আসবেন। তাকে ‘খুশি করার’ কথা ছিল তার। বিভিন্ন সময়ে এ ধরনের কাজ তাকে করতে হয়। সঞ্জীবা গার্ডেনের ঐ ফ্ল্যাটটি ছিল ট্রিপলেক্স। তিন তলা ফ্ল্যাটের যে ফ্লোরে তিনি ঢুকেছিলেন, ঐ ফ্লোরে এমপি আনার আসেননি। তাই তাকে কারা হত্যা করেছে বা লাশ কীভাবে গুম করেছে—এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন শিলাস্তি।

গতকাল সোমবার শেরেবাংলা নগর থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার উপ-পরিদর্শক জালাল উদ্দিন বলেন, গত রবিবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহফুজুর রহমানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এমপি আনার হত্যাকাণ্ডে জড়িত ও নেপালে গ্রেফতার সিয়াম হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছে আদালত।         

১০ আসামির ব্যাংক হিসাব তদন্তের নির্দেশ 

এমপি আনার অপহরণ মামলায় গ্রেফতার ও পলাতক ১০ আসামির ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য চেয়ে আদালতে আবেদন করেছে ডিবি পুলিশ। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে এ আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সহকারী কমিশনার মাহফুজুর রহমান। আসামিরা হলেন শিমুল ভূইয়া, শিলাস্তি রহমান, তানভীর ভূঁইয়া, আক্তারুজ্জামান শাহীন, সিয়াম হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান, ফয়সাল আলা সাজী, চেলসি চেরী, তাজ মোহাম্মদ খান ও জামাল হোসেন। আবেদনে গোয়েন্দা পুলিশ উল্লেখ করে, মামলার মূল রহস্য উদঘাটন ও সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে গ্রেফতার হওয়া ও পলাতক আসামিদের এনআইডি ও পাসপোর্ট নম্বরের বিপরীতে কোন ব্যাংকে কয়টি অ্যাকাউন্ট আছে, তার তথ্য সরবরাহের জন্য হেড অব বাংলাদেশ, এফআইইউ (বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট) বরাবর আদেশ প্রদান করতে আদালতের কাছে অনুমতি চাওয়া হয়। শুনানি শেষে আদালত ডিবির আবেদনটি মঞ্জুর করে। সংশ্লিষ্ট আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তাপস কুমার পাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সিয়ামকে ভারতীয় পুলিশের কাছে হস্তান্তর 

নেপালে গ্রেফতার সিয়ামকে গতকাল সোমবার ভারতীয় টিমের কাছে হস্তান্তর করেছে নেপাল ইন্টারপোল শাখা পুলিশ। এর আগে গত বৃহস্পতিবার তাকে গ্রেফতার করে নেপাল পুলিশ। তাকে গ্রেফতারের তথ্য জানানোর পর গত শনিবার সে দেশে যায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের একটি দল। পশ্চিমবঙ্গ সিআইডির একটি টিমও নেপাল যায়। নেপাল থেকে সিয়ামকে বাংলাদেশ ও ভারতের টিম পৃথকভাবে নিজ নিজ দেশে ফিরিয়ে আনতে চায়। তবে নেপাল পুলিশ (ইন্টারপোল শাখা) সিয়ামকে ভারতীয় টিমের কাছে হস্তান্তর করলেও কবে নাগাদ তাকে কলকাতার নিউটাউনের বরাহনগর থানায় আনা হবে, সেটি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পশ্চিমবঙ্গের খালে নৌসেনার তল্লাশি 

কলকাতা থেকে ইত্তেফাকের প্রতিনিধি তারিক হাসান জানান, এমপি আনারের দেহাবশেষের খোঁজে পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় এলাকার বাগজোলা খালে তল্লাশি চালিয়েছে ভারতীয় নৌসেনার তিন সদস্যের একটি টিম। বিশাখাপত্তমের নৌসেনা ইউনিট থেকে এই তিন জনের প্রতিনিধিদল সেখানে আসে। সোমবার দুপুর থেকে তারা এবং পশ্চিমবঙ্গ সিআইডির একটি দল ঐ খালে যৌথ তল্লাশি অভিযান চালায়। তবে দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টার তল্লাশি অভিযানে কিছুই পাওয়া যায়নি।

ইতিমধ্যে নিউ টাউনের সঞ্জীবা গার্ডেনের ফ্ল্যাটের সেপটিক ট্যাংক থেকে উদ্ধার করা মাংসপিণ্ড সদৃশ বস্তুগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য কলকাতা সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ডিএনএ পরীক্ষারও প্রস্তুতি শুরু করেছে। চলতি সপ্তাহে ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়া যাবে। 

ইত্তেফাক/এমএএম