শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

জাইকার সহযোগীতায় দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমন ভবন হবে ঢাকায় 

আপডেট : ০৫ জুন ২০২৪, ১৯:২৭

রাজধানীতে নতুন ইমারত নির্মাণের ক্ষেত্রে বেসরকারি ভবনের সুরক্ষা বাড়াতে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ শাখার উদ্যোগে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকার সহযোগীতার মধ্যমে একটি কারিগরি সহায়তা প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির নাম “বেসরকারি ভবনসমূহের রেজিলিয়েন্সির (স্থিতিস্থাপকতা/সহনশীলতা) জন্য ডিজাইন এবং নির্মাণ এর গুণগত মান বৃদ্ধিকরণ” (ডিসিকিউআর) প্রকল্প।

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকা সহযোগীতায় ৪ (চার) বছর মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। এর ফলে ঢাকা মহানগরের নব নির্মিত ভবনসমূহে দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমন হবে। 

রাজউক সূত্রে জানা যায়, নতুন বেসরকারি ভবনে ইমারত নির্মাণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে স্থপত্য নকশার পাশাপাশি স্ট্রাকচারাল ও অগ্নি নিরাপত্তা নকশা গ্ৰহণ করা হবে এবং এই নকশা সমূহ রাজউকের উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ শাখার মাধমে পর্যলোচনা করা হবে। এই বিষয়ক সব গাইড লাইন জাইকার ও দেশীয় পরামর্শকদের সমন্বয়ে প্রস্তুত করা হচ্ছে। পরবর্তীতে কি প্রক্রিয়ায় কার্যসম্পাদন করা হবে, তার নিতীমালা ও ওয়ার্ক ফ্লো প্রস্তুত করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে রাজউকের উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ শাখার কর্মরত সকল অথরাইজড অফিসার, সহকারী অথরাইজড অফিসার, প্রধান ইমারত পরিদর্শক ও ইমারত পরিদর্শকগণের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে।  এর ফলে নতুন ভবনের নকশা প্রণয়নের ক্ষেত্রে ভবনের স্টাকাচারাল ও অগ্নি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এ নকশা অনুসারে ইমরত নির্মাণের গুনগত মান বৃদ্ধির জন্য কন্সট্রাকশন মটিরিং (সুপারভিশন ও ইনেস্পেকশন) কার্যক্রম নেওয়া হবে। 

বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড-২০২০ এর ভূমিকম্পন সহনীয় ও অগ্নি নিরাপত্তা বিষয়সমূহ নিশ্চিত করণ ও সে মোতাবেক ভবন নির্মাণের জন্য সকল স্টেকহোল্ডারদের (পেশাজীবি সংস্থা, সরকারী সংস্থা, ইমারত নির্মাণ ঠিকাদরি সংস্থা, ভবন মালিক ও অন্যান্য) মধ্যে জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়ক কার্যক্রম এই প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়ন করা হবে।  জনসচেতনতা বৃদ্ধি বিষয়ক সকল গাইড লাইন ও ম্যাটেরিয়াল ( লিফলেট, পোস্টার, ভিডিও ও অডিও তথ্য, ইত্যাদি) জাইকার পরামর্শকগণ, রাজউকের কর্মকর্তাগণ ও বিভিন্ন পেশাজীবি সংস্থা (আইইবি, আইএবি, আইডিইবি, বিআইপি ইত্যাদি প্রাতিষ্ঠান) এবং অন্যান্য সরকারী সংস্থা ( সিটি কর্পোরেশন, ফায়র সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, ইত্যাদি) প্রস্তুত করা হবে ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিতকরণ ও পরবর্তী করণীয় নির্ধারণের নিমিত্ত গতকাল সকালে মেজর জেনারেল মোঃ ছিদ্দিকুর রহমান সরকার (অবঃ) চেয়ারম্যান রাজউকের সভাপতিত্বে প্রকল্পের দ্বিতীয় জয়েন্ট কোঅর্ডিনেটিং কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিভিন্ন পেশাজীবী সংস্থার (আইইবি, আইএবি, আইডিইবি, বিআইপি ইত্যাদি প্রাতিষ্ঠান) প্রতিনিধি এবং অন্যান্য সরকারী সংস্থা  যেমন সিটি কর্পোরেশন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, আইএমইডি, পরিকল্পনা কমিশন ইত্যাদি সংস্থার কর্মকর্তাগণ অংশগ্রহণ করেন। সভায় আরো মারি মিয়োরা, সিনিয়র রিপ্রেজেন্টেটিভ, জাইকা বাংলাদেশ ও প্রকল্পের জাইকার পরামর্শকরা ছিলেন। 

সভায় রাজউকের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. ছিদ্দিকুর রহমান সরকার (অবঃ) বলেন ,ঢাকা মহানগরকে রেজিলিয়েন্স ও সমার্ট সিটিতে রূপান্তরের লক্ষে সকল পেশাজীবী সংস্থাকে রাজউকের একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান করেন।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি