বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

মাদক মামলায় পুলিশ সদস্যকে বাঁচাতে চার্জশিটে ‘জালিয়াতি’

আপডেট : ০৭ জুন ২০২৪, ১৭:২৬

ইয়াবা-হেরোইনসহ গ্রেপ্তার হওয়া পুলিশ কনেস্টবল মোশারফ হোসেনকে বাঁচাতে মামলার চার্জশিট থেকে তার নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক ফরহাদ আকন্দের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ ওঠে। 

মামলার এজাহারে বলা হয়, চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি ঠাকুরগাঁও শহরের আশ্রমপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১০২ পিস ইয়াবা, ৫ গ্রাম হেরোইনসহ আতিকুল ইসলাম আতিক ও পুলিশ কনেস্টবল মোশারফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এ ঘটনায় ঠাকুরগাঁও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক ফরহাদ আকন্দ বাদি হয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় একটি মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করেন ঠাকুরগাঁও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিদর্শক আজাহারুল ইসলাম। 

মামলার এজাহারের মধ্যভাগে বলা হয়, গ্রেপ্তার দুইজন আসামী দীর্ঘদিন যাবৎ ইয়াবা ও হেরোইনের ব্যবসা করে আসছিলেন। পুলিশ কনেস্টবল মোশারফ হোসেন দীর্ঘদিন ধরে ঠাকুরগাঁও জেলায় কর্মরত ছিলেন, বর্তমানে তিনি খাগড়াছড়ি জেলায় কর্মরত রয়েছেন। 

এদিকে গত ২৫ এপ্রিল ঠাকুরগাঁও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের দায়িত্বরত সহকারী পরিচালক সৌমিক রায় বদলি হয়ে যান। এতে করে ওই পদটি শূন্য হয়ে পড়ে। ঠিক সেসময় মামলার চার্জশিট তৈরি করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। ওই চার্জশিটে সহকারী পরিচালকের অনুপস্থিতিতে তার সিল-স্বাক্ষর ব্যবহার করেন মামলার বাদী ফরহাদ আকন্দ। গত ২১ মে আদালতে ওই চার্জশিট দাখিল করা হয়। স্বাক্ষরকৃত ওই চার্জশিটে আতিকুল ইসলাম আতিককে অভিযুক্ত করা হয় এবং পুলিশ কনেস্টবল মোশারফ হোসেনকে অব্যাহতির জন্য আদালতে সুপারিশ করা হয়।

ঠাকুরগাঁও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সাবেক সহকারী পরিচালক সৌমিক রায় মুঠোফোনে বলেন, ‌মামলার চার্জশিট থেকে আসামিকে বাদ দেওয়ার বিষয়টি তার জানা নেই। 

অভিযোগ প্রসঙ্গে মামলার বাদী ঠাকুরগাঁও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক ফরহাদ আকন্দ বলেন, ‘সফট কর্নার থেকে পুলিশ কনেস্টবল মোশারফ হোসেনের নাম বাদ দেওয়ার জন্য আদালতে সুপারিশ করা হয়েছে। চার্জশিট দেওয়ার সময় এখানে সহকারী পরিচালক ছিলেন না, তাই নিজেই সহকারী পরিচালকের পক্ষে স্বাক্ষর করে আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছি।’ 

ঠাকুরগাঁও জজ কোর্টের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোজাফ্ফর আহমেদ মানিক বলেন, ‘দায়িত্বরত সহকারী পরিচালক বদলি হয়েছেন। এ সুযোগে জালিয়াতির মাধ্যমে ওই কর্মকর্তার সিল-স্বাক্ষর ব্যবহার করেন মামলার বাদী। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সংশ্লিষ্ট দপ্তর অথবা আদালত নিতে পারবেন।’ 

বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠাকুরগাঁও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ শরীফ উদ্দীন বলেন, ‘আমার কর্মস্থল নীলফামারী জেলায়। গত ২৮ মে অতিরিক্ত হিসেবে আমাকে ঠাকুরগাঁও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। মাদক মামলা থেকে আসামিকে উপযুক্ত ডকুমেন্টস ছাড়া বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই। সেই সঙ্গে সহকারী পরিচালকের সিল-স্বাক্ষর ব্যবহার করার বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।’ 

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের রংপুর বিভাগীয় অতিরিক্ত পরিচালক আলী আসলাম হোসেন বলেন, ‘চার্জশিটের পুরো বিষয়টি জানতে চেয়েছি। আর চার্জশিট দাখিলে অনিয়ম হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’   

ইত্তেফাক/ডিডি