নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নেওয়া প্রার্থিতা বাতিলের সব সিদ্ধান্তই আদালতে অগ্রাহ্য হয়েছে। ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে ছয়টি উপজেলার আট জনের প্রার্থিতা বাতিল করা হলেও একটিও উচ্চ আদালতে টিকেনি। বরং প্রার্থিতা ফেরত নিয়ে নির্বাচনে লড়াই করে অনেকে জয়লাভও করেছেন। তবে বাতিল হওয়া প্রার্থী এবং তাদের সমর্থকদের অভিযোগ ইসির এই সিদ্ধান্তগুলো নির্মোহ ছিল না। এমনকি সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিপক্ষ প্রার্থীর দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার অভিযোগও করেন কেউ কেউ। আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোনোটিতে আইনি লড়াই করেছে আবার কোনোটিতে করেনি ইসি। আইনজীবীদের অভিমত, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়াই প্রার্থিতা বাতিল করায় এমনটাই হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্যারিস্টার লিটন আহম্মেদ ইত্তেফাককে বলেন, উপজেলা পরিষদ আচরণবিধিমালা ৩৩ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ এলে কমিশন তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু কোনো ধরনের তদন্ত ছাড়াই শুধু অভিযোগের ভিত্তিতে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীসহ অন্যান্য জায়গায় প্রার্থিতা বাতিল করা হয় প্রশাসনিক ক্ষমতা বলে। যা আইনবহির্ভূত। আদালত আমাদের বক্তব্য গ্রহণ করে সবার প্রার্থিতা ফেরত দিয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনও একই আইনগত যুক্তি তুলে ধরেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, যে কোনো মাধ্যম থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর আইনে তদন্তের কথা উল্লেখ থাকলেও ইসির কর্তারা তা আমলে নেননি। প্রার্থীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না থাকলেও প্রার্থিতা বাতিল করেছে ইসি। নির্বাচন ভবনে শুনানির জন্য যেসব প্রার্থীকে ডাকা হয়েছিল তাদেরই প্রার্থিতা বাতিল করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে ইসির শুনানিতে প্রার্থী তলবের ঘটনায় কারোর প্রতিপক্ষ দ্বারা প্ররোচিত হওয়ার অভিযোগও আছে। ষষ্ঠ উপজেলা নির্বাচনে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় চেয়ারম্যান প্রার্থী রফিকুল ইসলাম, গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার চেয়ারম্যান প্রার্থী জামিল হাসান, পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. রিয়াজ উদ্দিন, চট্টগ্রাম চন্দনাইশ উপজেলার চেয়ারম্যান প্রার্থী আবু আহমেদ চৌধুরী, পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. এমদাদুল হক, পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চেয়ারম্যান প্রার্থী সাইদুজ্জামান মামুন, ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী রওশন মৃধা ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী বেগম ফেরদৌসীর প্রার্থিতা বাতিল করেছিল ইসি। আট জনের প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেনি ইসি। ফলে আদালতে সবাই প্রার্থিতা ফিরে পান।
আচরণবিধি ৩৩ ধারায় বলা আছে, ‘কোন উত্স্য থেকে বা লিখিত রিপোর্টের মাধ্যমে পাওয়া তথ্যে কমিশনের কাছে মনে হলে, কোন প্রার্থী আচরণবিধি লঙ্ঘনের কারণে নির্বাচিত হওয়ার অযোগ্য হতে পারেন তাহলে তাত্ক্ষণিক তদন্তের নির্দেশ দিতে পারবেন। তদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরে কমিশন অভিযোগের বিষয়ে সন্তুষ্ট হলে তার প্রার্থিতা বাতিল করতে পারবেন।’ মূলত আচরণবিধির এই ধারা অপপ্রয়োগ হয়েছে বলে অভিযোগ এসেছে। এর সঙ্গে সাংবিধানিক এই প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ পর্যায়ের কর্তাদের যোগসূত্রের কথাও বলছেন কেউ কেউ।
প্রার্থিতা বাতিলের বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার বেগম রাশেদা সুলতানা ইত্তেফাককে বলেন, প্রতিমন্ত্রী আইন ভঙ্গ করলেও এর সুবিধাভোগী ছিলেন প্রার্থীরা। যে কোনো বিচারেই রায় দেওয়ার সময় সুবিধাভোগী কারা এটা বিবেচনায় নেওয়া হয়।
