ঈদের ছুটিতেও গ্রামে লোডশেডিংয়ের শঙ্কা

আপডেট : ১৫ জুন ২০২৪, ০২:৩০

জ্যৈষ্ঠ গড়িয়ে আষাঢ়ের দিন শুরু হলেও গরম কমছে না। ঝড়সহ বৃষ্টির শঙ্কাও আছে চলতি মাসে। এর মধ্যে এ সপ্তাহে ঈদের ছুটিতেও বিদ্যুতের লোডশেডিং বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খুলেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এরপরও জ্বালানি ঘাটতি এবং অপেক্ষাকৃত নাজুক সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা বা সকল গ্রাহকের কাছে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া প্রায় অসম্ভব বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঈদের মতো বড় ছুটির সময় সাধারণত বিদ্যুতের চাহিদা কমে। চাহিদা কম থাকায় উত্পাদন ও সরবরাহে তেমন ঘাটতি থাকে না। তবে এখন ছুটির দিনেও ঘাটতি থাকছে। গ্রামে সেই ঘাটতি আরও বেশি। ছুটির সময়ে বাণিজ্য ও শিল্পে কমে যাওয়া গ্যাস-বিদ্যুতের চাহিদা আবাসিকে দিয়ে সাধারণ লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণ করা হয়। কিন্তু ঘাটতি বেড়ে যাওয়ায় শিল্পে-বাণিজ্যে বেঁচে যাওয়া জ্বালানি ও বিদ্যুৎ দিয়ে লোডশেডিং সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে দৈনিক ২৬ হাজার ৩৬৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উত্পাদন ও আমদানির সক্ষমতা রয়েছে। গত মঙ্গলবার সাবস্টেশন পর্যায়ে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ১৯ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ। সরবরাহ করা হয় ১৫ হাজার ১৫৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। অর্থাৎ লোডশেড বা ঘাটতি ছিল ৮৬১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। জ্বালানি সরবরাহ না থাকায় চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যায়নি। আর সাবস্টেশন পর্যায়ের চেয়ে গ্রাহক পর্যায়ে চাহিদার বিপরীতে লোডশেডিং আরও বেশি।

পিডিবির হিসেব মতে, গত মঙ্গলবার সবচেয়ে বেশি ২৮৫ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে ময়মনসিংহ অঞ্চলে। কুমিল্লা ও ঢাকায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৮৫ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে। এ দিন রাজশাহী, সিলেট এবং বরিশাল অঞ্চলে কোনো লোডশেডিং হয়নি বলে পিডিবির দৈনিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। অথচ এ বিভাগগুলোর ছয়টি জেলার প্রতিনিধিরা ঐ দিন জেলাগুলোর বিভিন্ন এলাকায় তিন থেকে ছয় ঘণ্টা লোডশেড হয়েছে বলে জানিয়েছেন। বিদ্যুৎ না থাকায় ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন গ্রাহকরাও।

বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, সাম্প্রতিক বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি কমবেশি ঐ গত মঙ্গলবারের মতো চলছে। আসন্ন ঈদে সরকারি ছুটির সময়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিচালনা করার জন্য একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খুলেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। রাজধানীতে বিদ্যুৎ ভবনে স্থাপিত নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ঈদের ছুটিতে প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চালু থাকবে। ঐ কর্মকর্তা আরও জানান, গ্রামের চেয়ে রাজধানীসহ শহরাঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারের শীর্ষ অংশের নীতি সিদ্ধান্ত রয়েছে। ফলে শহরে তেমন না হলেও গ্রামের মানুষের লোডশেডিং থেকে এখনই মুক্তি মেলার আশা নেই।

স্থানীয় জ্বালানির পর্যাপ্ত সংস্থান না থাকায় দেশের বিদ্যুৎ উত্পাদন অনেকটাই আমদানি-নির্ভর। এখন মার্কিন ডলার এবং দেশীয় টাকারও প্রয়োজনীয় পরিমাণ জোগান নেই। তাই এলএনজি (গ্যাস) এবং জ্বালানি তেল আমদানি কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। আবার বেসরকারি বিদ্যুৎ উত্পাদনকারীদের বিপুল বিল বকেয়া পড়ে রয়েছে। এমন চিত্রটা দাঁড়িয়েছে—অর্থের অভাবে জ্বালানির সরবরাহে ঘাটতি। তাই বিদ্যুতের উত্পাদন ও বিতরণে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তবে আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঈদের ছুটির সময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি হতে পারে। ফলে যত বেশি বৃষ্টি হবে বিদ্যুতের চাহিদা তত কমবে। চাহিদা কমায় লোডশেডিংও কমবে।

পিডিবি সূত্রে জানা যায়, গ্যাস সংকটের কারণে প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উত্পাদন ক্ষমতার বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র অলস পড়ে রয়েছে। দুইটি এলএনজি টার্মিনালও সমানতালে চালু রাখা যাচ্ছে না কারিগরি দুর্বলতা এবং জ্বালানির অভাবে।

 

ইত্তেফাক/জেডএইচ