খাদের কিনারায় গিয়ে ঠেকেছে ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের কংগ্রেস ও জেডিএসের জোট সরকার। দুই দলের ১৩ বিধায়কের পদত্যাগের পর এই সংকট সৃষ্টি হয়। কংগ্রেস কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন দল বিজেপির বিরুদ্ধে বিধায়ক কেনাবেচার অভিযোগ করেছে। তবে বিজেপি সেই অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছে। গতকাল রাতে বিধায়কদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী এইচ ডি কুমারস্বামী। সরকার পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা নাকচ করে দিয়েছে কংগ্রেসও।
সংকটে সরকার
কংগ্রেসের ৮ জন এবং জনতা দল সেকুল্যারের (জেডিএস) ৫ বিধায়ক শনিবার পদত্যাগ করেছেন। স্পিকার জানান, রবিবার ছুটির দিন হওয়ায় সোমবার (আজ) বিষয়টি দেখবেন। আর সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে কিনা সেটা বিধানসভায়ই নির্ধারিত হবে বলেও স্পিকার জানান। কংগ্রেস-জেডিএসের ১৩ বিদ্রোহী বিধায়ক পরে রাজ্যপাল বাজুভাই বালার সঙ্গে দেখা করেন। তারা জানান, মোট ১৪ বিধায়ক পদত্যাগ করেছেন। এর ফলে জোট সরকার সংখ্যালঘু হয়ে পড়ে। পরে স্পিকারের দফতর থেকে জানানো হয়, পদত্যাগপত্র জমা পড়েছে ১৩ জনের। একজন বিধায়ক জানিয়েছেন, তিনি পদত্যাগ করেননি। এতে আবার অঙ্ক পাল্টে যায়। জেডিএসের প্রবীণ নেতা এইচ ডি দেবগৌড়া বলেন, বল এখন স্পিকারের কোর্টে। আগামী ১২ জুলাই কর্ণাটক বিধানসভার পরবর্তী অধিবেশনেই ছবিটা স্পষ্ট হবে বলে জানা গেছে। ক্ষমতা দখলের পথ খুলে যেতে পারে বিজেপির জন্য। স্পিকার কোনো কারণে ১৩ জন বা তাঁদের কয়েকজনের পদত্যাগ খারিজ করলে কিংবা ঝুলিয়ে রাখলে ততোদিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী কুমারস্বামী। ২২৪ আসনের বিধানসভায় কংগ্রেসের ৭৮, জেডিএসের ৩৭, বিএসপির ১ ও ২ নির্দলের সমর্থনে বিধানসভায় তাঁর শক্তি ছিল ১১৮। ১৩ বিধায়ক চলে গেলে হাতে থাকবে ১০৫। বিজেপির হাতেও ১০৫। ফলে টক্কর এখন সমানে সমানে। কুমারস্বামীর হাতে বাড়তি তাস একটাই। স্পিকারের কাস্টিং ভোট।
সরকারে দুই দলের বিরোধ বাড়ছে
গত বছর মে মাসে কর্ণাটকে বিধানসভা নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় বিজেপি। কিন্তু তাদের টপকে সেখানে জোট সরকার গড়ে কংগ্রেস ও জেডিএস। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন জেডিএসের এইচডি কুমারস্বামী। কিন্তু এ বছর লোকসভা নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দুই দলের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। শুয় হয় দোষারোপের পালা। লোকসভা ভোটে মাত্র একটি করে আসন পেয়েছে কংগ্রেস এবং জেডিএস। মোদি ঝড়ে দুই দল কার্যত মুছে যাওয়ার পর থেকেই বিধায়ক কেনাবেচার অভিযোগ জোরালো হয় বিজেপির বিরুদ্ধে। শাসক দল বিধায়ক কেনাবেচার কথা বললেও বিদ্রোহী বিধায়কদের অন্যতম জেডিএসের এ এইচ বিশ্বনাথের দাবি, সরকার বিধায়কদের মধ্যে সমন্বয় সাধনে ব্যর্থ হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে নিয়ে চলতে পারেনি। জনগণের প্রত্যাশা পূরণেও ব্যর্থ হয়েছে রাজ্য সরকার। আমরা সকলেই স্বেচ্ছায় ইস্তফা দিয়েছি। এর মধ্যে কোনো বিজেপির ব্যাপার নেই।
বিজেপির রাজ্য সভাপতি বিএস ইয়েদুরাপ্পা জানান, প্রতিপক্ষের শিবিরে যা ঘটছে তার সঙ্গে আমার বা আমাদের দলের কোনো সম্পর্ক নেই। বিজেপি নেতা প্রহ্লাদ জোশীর দাবি, এইচডি কুমারস্বামীকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চেষ্টা চালাচ্ছে কংগ্রেস। তাঁর জায়গায় নিজেদের দলের কাউকে কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী করতে চাইছে। মল্লিকার্জুন খড়গকেই কংগ্রেস কুমারস্বামীর বিকল্প হিসাবে ভাবছে বলে বিজেপি দাবি করলেও খড়গে তা উড়িয়ে দিয়েছেন। - এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া ও আনন্দবাজার পত্রিকা
ইত্তেফাক/আরকেজি

