জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও আওয়ামীলীগ সংসদীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক নূর-ই-আলম চৌধুরী বলেছেন, ১৯৯১ সালে আমার আব্বার (সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী) মৃত্যুর পর প্রথম জনসভায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজ হাতে আমার প্রথম বক্তব্য লিখে দেন। বহু ষড়যন্ত্র হয়েছিল আমাকে পরাজিত করতে।
তিনি বলেন, যখন কাজ শুরু করি তখন আমার বাড়ি থেকে শিবচর আসতেও দড়িটানা ফেরি পার হতে হতো। একগ্রাম থেকে আরেক গ্রাম নৌকা বা ট্রলারে যেতে হতো। ১৯৯৮ সালের বন্যায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিবচরের জন্য হেলিকপ্টারে ওষুধ ও খাবার পাঠান। সে সময় খাবার নামানোর জায়গাও ছিল না। পরবর্তীতে নেত্রী (শেখ হাসিনা) শিবচরের জন্য দুই হাত ভরে দিয়েছেন। যার জন্য শিবচর আজ এই পর্যায়ে পৌঁছেছে।
শুক্রবার (২১ জুন) মাদারীপুরের শিবচরে ছাত্রলীগের ইউনিয়ন ও উপজেলা নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি। এছাড়াও তিনি স্থানীয় ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মতামত শোনেন। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রমের খোঁজ নেন ও সংগঠনের কার্যক্রম বেগবান করার ব্যাপারে নির্দেশনা দেন।
উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রাজীব ঢালীর সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুনির চৌধুরী, উপজেলা চেয়ারম্যান ডা. মো. সেলিম, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লা, পৌর মেয়র আওলাদ হোসেন খান, উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শাহজাহান মোল্লা প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসিফ মাদবর।
চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী বলেন, একসময় আমার জাহাজে খাবার ভরে এনে চেয়ারম্যানদের দিয়ে ট্রলারে করে পাঠাতাম। যখন প্রথম নির্বাচিত হই তখন একজন মাত্র চেয়ারম্যান রেজাউল করিম তালুকদার সাহেব আওয়ামীলীগের ছিলেন, বাকিরা অন্য দল সমর্থন করতো। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সালের প্রতিকূল নির্বাচনের পর জামায়াতের সেক্রেটারি মুজাহিদকে পাঠানো হয় গভীর ষড়যন্ত্রর মাধ্যমে। কিন্তু আমাদের সংগঠন শক্তিশালী হওয়ায় সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করা সম্ভব হয়েছে। দলের ভেতরে অনেক নেতারাও অনেকবার ষড়যন্ত্র করেছে। এখনো করছে। এটা রাজনীতিতে হয়েই থাকে। তাই ষড়যন্ত্রকারীদের শক্তহাতে প্রতিহত করতে হবে। এদের ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে। আমার শক্তি আমার প্রেরণা শিবচরের জনগন। আমার শক্তি আমার দল। কে ষড়যন্ত্র করলো তাতে কিছু যায় আসে না।

