বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ 

ডুবে গেছে সব পুকুর, খাবার পানি সংকটে আড়াই লাখ মানুষ

আপডেট : ২৪ জুন ২০২৪, ১৭:০৪

ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে খাবার পানির সব আধার ডুবে গেছে। সমুদ্রের লবণ পানি ঢুকে পড়ায় সুপেয় ও ব্যবহারযোগ্য পানির সংকটে পড়েছে এ উপজেলার প্রায় আড়াই লাখ মানুষ।

জানা গেছে, এ উপজেলায় পানির উৎস হিসেবে ১ হাজার ২৮৭টি পুকুর সংরক্ষিত ছিল। রেমালের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে এর মধ্যে ১ হাজার ৩০টি জলাধারে লবণ পানি ছাড়াও গাছপালার পাতা, পশুপাখির মৃতদেহ, ড্রেন ও সেপটিক ট্যাংকের ময়লা আবর্জনা প্রবেশ করেছে। কালো হয়ে গেছে সব পুকুরের পানির রঙ। ছড়াতে শুরু করেছে গন্ধ। এমন পরিস্থিতিতে উপজেলার প্রায় আড়াই লাখ বাসিন্দা খাবার ও ব্যবহারের পানির চরম সংকটে পড়েছে। 

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিস সূত্র জানিয়েছে, খাবার পানির জন্য মোরেলগঞ্জে প্রায় ৮ হাজার পরিবারের কাছে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ট্যাংক থাকলেও অন্য কাজের জন্য নিরাপদ পানির কোনো উৎস অবশিষ্ট নেই। জলোচ্ছ্বাসে অধিকাংশ বাড়ির পানির ট্যাংক ভেসে গেছে। 

উপজেলার বারইখালী ইউনিয়নের ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, এ ইউনিয়নে জলোচ্ছ্বাসে ১০/১২টি মিষ্টি পানির পুকুর ডুবে গিয়েছে। পুকুরগুলোর পানি সেচ দিয়ে ফেলে দিলে বৃষ্টির পানি পাওয়া সম্ভব হবে। 

নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের মেম্বার জাহিদুর ইসলাম লিটন বলেন, ঘূর্ণিঝড় রেমালের পর আমাদের গ্রামে সুপেয় পানি পাওয়া এখন দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুকুরের পানি নষ্ট হয়ে গেছে। এমনকি পুকুরে ভাসছে বিভিন্ন প্রাণীর মরদেহ। বোতলের পানি কিনে খেতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম বলেন, রেমালের প্রভাবে জলোচ্ছ্বাসে প্রায় শতভাগ পানির উৎস নষ্ট হয়ে গেছে। আড়াই লাখ মানুষ এখন খাবার ও ব্যবহারের নিরাপদ পানি পাচ্ছে না। ইতিমধ্যে পানি বিশুদ্ধকরণের জন্য ৫০ হাজার ট্যাবলেট বিতরণ করা হয়েছে। আরও ১ লাখ ট্যাবলেট শিগগিরই পাওয়া যাবে। তবে এভাবে আড়াই লাখ মানুষের নিরাপদ পানির চাহিদা মেটানো সম্ভব না।

বেসরকারি সংস্থার জরিপ কর্মকর্তা শওকত চৌধুরী বলেন, মোরেরগঞ্জে এ সংস্থা ২০১৭ সাল থেকে পানি স্যানিটেশন, রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং সোলার পিএসএফের মাধ্যমে খাওয়ার পানির সংকট দূর করতে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে। 

ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও হেলভেটাসের প্রকল্পের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর প্রতিভা বিকাশ সরকার জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিষয়ে উপজেলার মোরেলগঞ্জ সদর, খাউলিয়া, নিশানবাড়িয়া, বারইখালী, জিউধরা ও বহরবুনিয়া ইউনিয়ন কাজ করেছে। পাশাপাশি ইউনিয়ন পর্যায়ে জেন্ডারবান্ধব ও সংবেদনশীল খ্যাত ভিত্তিক বাজেট বরাদ্দ রাখার জন্য ওয়ার্ড সভা, বাজেট সভা, গণশুনানি, কর ও সেবা মেলার আয়োজন করা হচ্ছে।

মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শর্মী রায় বলেন, ঘূর্ণিঝড় রেমালের আঘাতের পরে হাসপাতালে টাইফয়েড, ডায়রিয়া ও চর্ম রোগীর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। এতে পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি