‘সিনিয়রদের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না’

আপডেট : ২৫ জুন ২০২৪, ১০:৩৫

সালাহউদ্দিন লাভলু। নির্মাণ এবং অভিনয়, দুই মাধ্যমেই ভিন্নতার ছাপ রাখছেন। রঙের মানুষ, ভবের হাট, হাড়কিপ্টা, আলতা সুন্দরী, সাকিন সারিসুরি’র মতো অসংখ্য জনপ্রিয় নাটক জমা করেছেন ঝুলিতে। যেখানে জমা হয়েছে ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে কিছু আক্ষেপের গল্পও।

গুণী এই নির্মাতা-অভিনেতা কথা বললেন ইত্তেফাকের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন এ এম রুবেল

ঈদে মানহীন কাজের ভিড়ে গুণী নির্মাতা-শিল্পীদের কাজ অনেকটা আড়ালে পড়ে যায়। সেই জায়গা থেকে লাভলু কেমন প্রতিক্রিয়া পাচ্ছে?

এই ঈদে মাত্র একটি নাটক করেছি। কাজটির প্রতিক্রিয়া নিয়েও তেমন কিছু বলার নেই। কারণ ‘তুফান’ তো সবকিছু এলেমেলো করে দিয়েছে। সবাই তুফান নিয়েই ব্যস্ত! তবে সামনের মাস থেকে নতুন একটি সিরিজের কাজ শুরু করছি।

আপনার নির্মাণ ঘিরে বরাবরই দর্শকদের বাড়তি আগ্রহ থাকে। নতুন সিরিয়ালটিতে তাদের জন্য বিশেষ কী থাকছে?

সবে তো প্রস্তুতি নিচ্ছি, এখনই সব বলা কঠিন। তবে এটুকু বলব, দর্শকরা আমার কাছে যেমনটা প্রত্যাশা করেন তেমনটাই পাবেন। তাছাড়া ওয়াহিদা মল্লিক জলি, আখম হাসান, সাজু খাদেমসহ অনেকেই, যারা একসময় নিয়মিত ছিলেন তারা প্রায় সবাই থাকছেন। পাশাপাশি কিছু নতুন শিল্পীও থাকছেন।

বিগত ঈদগুলোতে প্রায় চ্যানেলে আপনার নাটক দেখা গেলেও এবার ‘এক’ সংখ্যায় নামল কেন?

মাধ্যমটি এজেন্সি নির্ভর হয়ে গেছে। পাশাপাশি নতুন যারা নাটক বানায় তাদের ভিউকে গণ্য করা হয়। আমি তো এই পথে ছুটব না। তাদের নির্মাণ এবং গল্পে তো আমি কাজ করব না।

কিছুদিন আগে বলেছিলেন, আপনি যে ধরনের কাজ করতে চান তাতে বাজেট পাওয়া কঠিন। ওটিটি আসায় সেই খরা কাটছে বলে অনেকে বলছেন। আপনার অভিজ্ঞতা কেমন?

হ্যাঁ, নাটকের চেয়ে ওটিটির বাজেট বরাবরই বেশি। কিন্তু ওটিটিতে সবাই কাজ করতে পারছেন না। নির্দিষ্ট বলয়ে যারা থাকেন, একসঙ্গে ওঠাবসা করেন তারাই কাজ করছেন। আমাদের মতো সিনিয়রদের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। তবে মাধ্যমটিতে কাজের ইচ্ছে আমাদেরও আছে।

নতুন সিনেমা নির্মাণের কথা বলেছিলেন...

না, আপাতত সেই পরিকল্পনা নেই।

ঈদে ৫টি সিনেমা মুক্তি পেয়েছে। কিন্তু তুফানে সব উড়ে যাচ্ছে। একক নায়ক নির্ভরতা ইন্ডাস্ট্রির গণ্ডি আরো ছোট করে ফেলছে কি-না?

ইন্ডাস্ট্রি তো অনেক আগে থেকেই শাকিব খান নির্ভর হয়ে গেছে। নতুন যারা আসতে চান তাদের পেছনে তো কয়েক কোটি কেউ বিনিয়োগ করতে চান না। কারণ হলো সংখ্যা এত কম যে লগ্নি তুলে আনা কঠিন! যেটা শাকিব খানের ক্ষেত্রে হয় না। তার সিনেমা সুপারহিট হবে এই বিশ্বাস সবারই থাকে। কিন্তু একজনকে দিয়ে তো ইন্ডাস্ট্রি চলতে পারে না, এটা সংশ্লিষ্টদের বুঝতে হবে। তাদের পরিকল্পনা এবং ইচ্ছে থাকতে হবে যে, এই নতুন মুখকে আগামী ৫ বছর পর আমি ওখানে দেখতে চাই।

নতুনদের ভিড়ে সিনিয়ররা অবমূল্যায়িত হচ্ছে। তাদের যোগ্য মূল্যায়ন করা হলে এই সংকট কমবে মনে করেন?

হয়তো পারতাম। কিন্তু বাস্তবতা হলো সিনিয়রদের কাজের সুযোগ কম দেওয়া হয়। অথচ সিনিয়র হলে কিন্তু অভিজ্ঞতার ঝুলিও সমৃদ্ধ হয়। তাছাড়া এখন তো শিল্প না, ভিউ চর্চা হয়। ভিউ যার কাজ তার। তারা থ্রিলারকে প্রাধান্য দিচ্ছেন ভিউয়ের কারণে। কিন্তু আমাদের মতো পারিবারিক গল্পে যারা কাজ করেন তাদের নাটকেও তো প্রচুর ভিউ হয়।

ইত্তেফাক/এএম