ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের ধ্বংসলীলা দেখে ক্ষুব্ধ লেবাননের ফিলিস্তিনিরা। তবে গাজার মতো লেবাননেও ইসরাইল যুদ্ধ শুরু করলে দেশটির বিরুদ্ধে হিজবুল্লাহর সঙ্গে লড়াই করতে প্রস্তুত রয়েছে তারা। সম্প্রতি হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরাইলের সর্বাত্মক হামলার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে লেবাননের শরণার্থী শিবিরে বেশ কয়েকজন শরণার্থী এই সংবাদমাধ্যমকে তারা তাদের এই লড়াইয়ের কথা জানান। খবর আলজাজিরা।
অক্টোবরে গাজায় ইসরাইলি হামলা শুরু হওয়ার পর থেকেই ইসরাইলের সঙ্গে লেবাননের সীমান্তে নিয়মিত গুলি বিনিময় করছে হিজবুল্লাহ। তারা বারবার বলেছে, গাজায় ইসরাইলের হামলা বন্ধ হলে তবেই সীমান্তে হামলা বন্ধ করবে তারা। ৭ অক্টোবর ইসরাইলি ভূখণ্ডে হামাসের করা হামলার জেরে ঐদিনই গাজায় পালটা হামলা শুরু করেছিল ইসরাইল। ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের মতে, হামাসের হামলায় ঐদিন প্রায় ১ হাজার ২০০ ফিলিস্তিনি নিহত হন। তখন জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয় আরো ২৫০ ইসরাইলিকে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, ইসরাইলের হামলায় এখন পর্যন্ত ৩৭ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
লড়তে প্রস্তুত লেবাননের ফিলিস্তিনিরা
বৈরুতে শাতিলা ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরে শরণার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছে আলজাজিরা। প্রতিরোধ আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত অনেক মানুষ সংবাদমাধ্যমটিকে বলেছেন, তারা ভীত নন এবং ইসরাইলের বিরুদ্ধে হিজবুল্লাহ ও এই অঞ্চলের অন্যান্য প্রতিরোধ্য যোদ্ধাদের সঙ্গে মিলে লড়বেন। তবে তাদের মনে পরিবার ও বেসামরিকদের নিয়ে ভয় কাজ করছে। তারা আশঙ্কা করছে, গাজার মতো লেবাননের ঘন জনবসতিপূর্ণ শরণার্থী শিবিরেও হামলা চালাবে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী। শাতিলায় পপুলার ফ্রন্ট ফর দ্য লিবারেশন অব প্যালেস্টাইন-জেনারেল কমান্ড (পিএফএলপি-জিসি) এর সদস্য আহেদ মাহার বলেছেন, ‘ইসরাইলি সেনাদের কোনো নৈতিকতা নেই। তারা মানবাধিকার মানে না এবং শিশুদের অধিকারের কথাও বিবেচনা করে না।’ তিনি আরো বলেন, ‘ইসরাইলি সেনাবাহিনী শুধু প্রতিশোধ নিতে জানে।’
শাতালিয়াতে বড় হওয়া ২৯ বছর বয়সি আবু আলি বলেছেন, ১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিন থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ফিলিস্তিনি লেবাননের ১২টি শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তখন থেকেই তাদের মনে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার আকুতি রয়েছে। তিনি বলছিলেন, লেবাননে যদি বড় ধরনের কোনও যুদ্ধ হয় তবে তিনি ও তার মা প্রয়োজনীয় কিছু বস্তু নিয়ে ইসরাইল-লেবানন সীমান্তের দিকে ছুটে যাবেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, যুদ্ধ হলে অসংখ্য ফিলিস্তিনি একবার হলেও ফিলিস্তিনে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করবে।’
আবু আলি বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন, যুদ্ধ শুরু হলে ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরে বোমা ফেলবে ইসরাইল এবং তারা এই বলে নিজেদের পক্ষে সাফাই দিবে যে, সেখানে প্রতিরোধ যোদ্ধারা ছিল, যেমনটা তারা গাজায় করেছিল। লেবাননে ফিলিস্তিনিরা আইনি বৈষম্যের শিকার হচ্ছে এবং দারিদ্র্যতার মধ্যে বসবাস করছে উল্লেখ করে আবু আলি বলেন, লেবাননে ফিলিস্তিনিদের শরণার্থী শিবিরগুলো ধ্বংস হয়ে গেলে রাষ্ট্রহীন শরণার্থীদের নিজ দেশ ফিলিস্তিনে ফিরে যাওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।
