অভিনেতা রাশেদ মামুন অপু। বড়পর্দায় যাত্রা শুরুর পর থেকেই রয়েছেন আলোচনায়। নেতিবাচক চরিত্রে তার সাবলীল অভিনয় নতুন করে ভাবাচ্ছে সংশ্লিষ্টদের। তবে এবার ঈদে দেখা মেলেনি অপু ভিলেনের। ছিলেন অনেকটা আড়ালে।
কিন্তু কেন? তিনি কি হারিয়ে যাচ্ছেন?—এমন বেশ কিছু প্রশ্নের মুখোমুখি হলেন ইত্তেফাকের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন এ এম রুবেল
বর্তমান কাজের ব্যস্ততা নিয়ে জানতে চাই—
‘জংলি’ এবং ‘আতর বিবি লেন’ সিনেমা দুটির কাজ শেষ করলাম। এছাড়াও বেশ কয়েকটি সিনেমা মুক্তির অপেক্ষায় আছে। ওয়েব সিরিজের কাজও চলছে। পাশাপাশি সম্প্রতি আমার অভিনীত ‘কাঠ গোলাপ’ সিনেমাটি নিয়ে বুলগেরিয়া গিয়েছিলাম। সিনেমাটি সেখানে দারুণ সাড়া ফেলেছে এবং পুরস্কৃত হয়েছে। এরপর ্রফ্রান্সে আমার প্রতিষ্ঠিত প্রোডাকশন হাউজের সঙ্গে ইউরোপের দুটি বড় কোম্পানির চুক্তি হলো। এখন থেকে ইউরোপে সিনেমা রিলেটেড বড় আয়োজনগুলো আমার প্রতিষ্ঠান থেকে করব।
‘জংলি’ সিনেমাটির লুক প্রকাশের পর নকলের অভিযোগে নানা মাধ্যমে সমালোচনা হয়। এর সত্যতা কতটুকু বা বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?
দেখুন, যা দেখা যায় তা ঘটনার প্রয়োজনেই দেখা যায়। যেটা দেখা যাচ্ছে না সেটা নিয়ে সমালোচনা করা বোকামি। এটুকু বলব, জংলি কাহিনির দিক থেকে সমৃদ্ধ একটি সিনেমা। যা কিছু হয়েছে, দেখা গেছে বা সামনে দেখা যাবে তা গল্পের প্রয়োজনেই এসেছে।
এই সিনেমাতেও কি পুরোনো রূপে অপুর দেখা মিলবে?
হ্যাঁ, এই সিনেমাতেও আমাকে ভিলেন হিসেবেই দেখা যাবে। তবে ভিলেন হলেও চরিত্রে ভিন্নতা আছে। যা বড় চমক হয়ে আসবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
যাত্রা শুরুর পর অপুকে নতুন ভিলেন হিসেবে ভাবছিলেন সবাই। ঈদের পাশাপাশি অন্যান্য সময়ও নিয়মিত সিনেমা মুক্তি পাচ্ছিল। কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরেই সেই ধারাবাহিকতা চোখে পড়ছে না। এর কারণ কী?
সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে ‘শেষ বাজি’ আমার অন্যতম সেরা কাজ হলেও কোনো প্রস্তুতি ছাড়া মুক্তি দেওয়ায় ব্যবসাসফল হয়নি। সিনেমাটির জন্য আমি এবং সাইমন অনেক কষ্ট করেছিলাম। শেষ বাজি আমার কষ্টের নাম ছিল। এই ঈদেও জংলি, আতর বিবি লেন ও রাইটার মুক্তির কথা ছিল। কিন্তু হয়নি। এর আগে পরাণ, প্রহেলিকা দিয়ে ঈদ উত্সবে বেশ সাফল্যের মুখ দেখেছিলাম। সেই জায়গা থেকে এবারও আশাবাদী ছিলাম। যদিও এখানে আমার কিছু করার নেই! সিনেমা কবে রিলিজ দেবে সেটা একমাত্র কর্তৃপক্ষই জানে।
ইদানীং আপনার মতো অনেক অভিনেতা-অভিনেত্রীই তড়িঘড়ি সিনেমা মুক্তি নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করছেন। এমন চর্চা শিল্পী-নির্মাতার দূরত্ব বৃদ্ধি করছে কি-না?
দেখুন, একটি সিনেমা আপনি যতটা যত্ন নিয়ে নির্মাণ করবেন, রিলিজেও ঠিক ততটাই যত্নশীল হতে হবে। মানুষকে না জানালে হলে আসবে কীভাবে? এটা রীতিমতো সন্তান জন্ম দিয়ে গলা টিপে মারার মতো!
শাকিব খান ছাড়াও বিগত ঈদগুলোতে একাধিক হিরোর সিনেমা সফলতার অঙ্ক কষেছে। কিন্তু এই ঈদে পুরোই উল্টো চিত্র দেখা গেছে। এমন অবস্থা ইন্ডাস্ট্রিকে আরো ছোট করে ফেলছে কি-না?
শাকিব খান বরাবরই ব্যবসাসফল সিনেমা উপহার দেন। তবে ঈদ উত্সবগুলোতে যদি কাউন্টার হিসেবে কিছু ভালো সিনেমা মুক্তি পেত তাহলে আরো কিছু সিনেমা ব্যবসাসফল হতে পারত।
তাহলে কি নির্মাতারা ভালো গল্প ও শিল্পীদের তুলে ধরতে পারছেন না?
আসলে ভালো গল্প এবং শিল্পীদের সাবলীল অভিনয় মিলিয়েই তো একটি সিনেমা। আমাদের প্রেজেন্টেবল সিনেমার সংখ্যা সত্যি অনেক কম। ঈদে আমার সিনেমা আসছে এতেই গর্ব করা ঠিক না। সিনেমা অবশ্যই ভালো এবং ব্যবসাসফল হতে হবে।
ঈদে অপুকে সিনেমায় দেখা না গেলেও ওয়েব সিরিজে পেয়েছে দর্শকরা। সিরিজটি প্রত্যাশা কতটা পূরণ করতে পেরেছে?
‘গোলাম মামুন’ সিরিজে আমার অভিনীত চরিত্র দারুণ প্রশংসিত হয়েছে। অনেকেই তাদের ভালো লাগার কথা জানাচ্ছেন।
