পানিতে ডুবে মারা যাওয়া দুই শিশুর লাশ গ্রামের শ্মশানঘাটে সমাহিত করতে না পেরে নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছে মৃত শিশুদের পরিবার। শনিবার (৩০ জুন) রাতে হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার পাহাড়পুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, শনিবার পাহাড়পুর গ্রামের রুবেল দাসের ছেলে সূর্য দাস (৬) ও মামুদপুর গ্রামের গোবিন্দ দাসের ছেলে প্রলয় দাস (৭) পুকুরে গোসল করতে নেমে ডুবে মারা যায়। পরে মৃত দুই শিশুর লাশ গ্রামের শ্মশানঘাটে সমাহিত করা হয়। কিন্তু লাশ সমাহিত করায় ক্ষুব্ধ হয় শ্মশানঘাট কমিটি। তারা মৃত শিশুদের পরিবারকে লাশ উত্তোলন করে অন্য কোথাও সমাহিত করতে চাপ দিতে থাকে। লাশ দুটি তুলে গ্রামের অন্য শ্মশানঘাটে সমাহিত করার নির্দেশ দেন। বাধ্য হয়ে শিশুদের পরিবার লাশ দুটি তুলে ওই দিন রাতেই বস্তাবন্দী করে পাশের কুশিয়ারা নদীতে ভাসিয়ে দেয়।
ঘটনা জানাজানির পর এ নিয়ে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়। মঙ্গলবার দুপুরে আজমিরীগঞ্জ উপজেলা কর্মকর্তা (ইউএনও) জুয়েল ভৌমিক ও আজমিরীগঞ্জ ওসি মো ডালিম আহমেদ ওই শিশুদের বাড়িতে গিয়ে স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তখন মৃত শিশুর বাবা পাহাড়পুর গ্রামের রুবেল দাস ও মামুদপুর গ্রামের গোবিন্দ দাস তাদের কাছে শ্মশানঘাট কমিটির বিরুদ্ধে লাশ উত্তোলনে চাপ দেওয়ার অভিযোগ করেন।
গোবিন্দ দাশ জানান, শনিবার পুকুরে গোসল করতে গিয়ে আমার ৭ বছরের ছেলে প্রলয় দাশ ও তার বন্ধু সূর্য দাশ পানিতে ডুবে মারা যান। মৃত দেহ উদ্ধারের পর রোববার বিকেলে পাহাড়পুর মহা-শশ্মনে সমাধি দেওয়া হয়। কিন্তু গ্রাম পঞ্চায়েত কমিটির সাধারণ সম্পাদক দিপেশ দাশ ও কোষাধ্যক্ষ অসিত সরকার লাশগুলো সমাধি থেকে তুলে বস্তায় ভরে নদীতে ভাসিয়ে দিতে বলেন। আমরা অনেক অনুনয়-বিনয় করে কমিটির লোকজনকে বলেছি, যেহেতু আমরা সমাহিত করেই ফেলেছি, লাশগুলো এখানেই থাক। কিন্তু তাদের একটিই কথা- লাশ দুটি তুলতে হবে।
অপর শিশুর পিতা রুবেল দাশ জানান, গোবিন্দ দাশের ছেলের লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেয়ার কথা জেনে আমার ছেলেকেও কুশিয়ারা নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছেন।
আজমিরীগঞ্জ উপজেলা কর্মকর্তা (ইউএনও) জুয়েল ভৌমিক বলেন, ঘটনাটি অমানবিক। পরিবারগুলোর বিষয়টি প্রশাসকে জানানো উচিত ছিল। কিন্তু তারা তা না করে ক্ষুব্ধ হয়ে নিজেরাই লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেন।
আজমিরীগঞ্জ ওসি ডালিম আহমেদ বলেন, শিশুদের পরিবারের নিকট থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
