‘গান নয়, অনিয়মের ইন্ডাস্ট্রি থেকে নিজেকে তুলে নিয়েছিলাম’

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২৪, ১১:৪৫

‘প্রিয় আষাঢ় মাস বরণ করার লক্ষ্যেই গানটি তৈরি করা। মাত্রই প্রকাশ হলো। আসল ফিডব্যাক পেতে হলে আরেকটু সময় লাগবে। শুধু এটুকু বলছি, বৃষ্টি নিয়ে কখনো গান করা হয়নি আমার। অথচ বৃষ্টি আমার ভীষণ প্রিয়। গানটি অনেকটা বৃষ্টির সুরেই গাঁথা, খুবই সফট মেলোডি ধাঁচের। আশা করছি শ্রোতারা গানটি পছন্দ করবেন।’

নতুন গানের প্রতিক্রিয়া কেমন পাচ্ছেন?—এমন প্রশ্নে কথাগুলো বলেন আরমান খান। সংগীত পরিচালক, সুরকার হিসেব তাকে সবাই চিনলেও মাঝে মাঝে গানে কণ্ঠ দিতেও দেখা যায় তাকে। গানগুলো বেশ শ্রোতাপ্রিয়তা পায়। যদিও দীর্ঘদিন এই মাধ্যম থেকে দূরে ছিলেন তিনি। অনেকটা অভিমান থেকেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে বিরতি কাটিয়ে ২০২১ সালে গানে ফেরেন ‘বন্ধু’ শিরোনামের গান দিয়ে। এরপর তিনি প্রশংসা কুড়িয়েছেন আইয়ুব বাচ্চু ও আজম খানকে উত্সর্গ করে গান গেয়ে।

সেই ধারাবাহিকতায় এই আষাঢ়ে তিনি হাজির হলেন  ‘মেঘলা দিনের গান’ নিয়ে। ওয়াহিদ পলাশের কথায় গানটিতে সুর, সংগীত ও কণ্ঠ দিয়েছেন। গতকাল গানটি অবমুক্ত করা হয়েছে। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য গানের সুর ও সংগীত করেছেন তিনি। মমতাজের গাওয়া ‘নান্টু ঘটক’, বিপ্লবের ‘চান্দের বাতির কসম দিয়া’, হাসানের কণ্ঠে ‘শীত নয় গ্রীষ্ম নয় এসেছে বসন্ত’, ‘লাল বন্ধু নীল বন্ধু’র মতো অনেক হিট ও প্রশংসিত গানের স্রষ্টা আরমান খান।

পাশাপাশি নাটকের আবহ সংগীতকার হিসেবে শূন্য দশকের সবচেয়ে ব্যস্ত পরিচালক ছিলেন তিনিই। আরমান বলেন, ‘কণ্ঠশিল্পীরা মঞ্চে উঠলেই অনেক টাকা পেতেন। অথচ সেই গানটি তৈরির পেছনে যে গীতিকার, যন্ত্রশিল্পীরা উদয়-অস্ত কাজ করতেন তারা ছিলেন অবহেলিত। তাদের সম্মানি ছিল খুবই কম। একটা গান লিখে তখন গীতিকার পেতেন আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা। যন্ত্রশিল্পীদের অবস্থা ছিল আরো খারাপ। এগুলো আমাকে পোড়াত। অস্বস্তি লাগত। রেকর্ডিং থেকে অ্যালবাম কাভার পর্যন্ত এমন অনিয়ম অনেক ছিল। হঠাত্ দেখলাম সিডির যুগ। শুরু হলো পাইরেসি নামের মহামারি। সহ্য করতে পারিনি, ছেড়েই দিয়েছিলাম। অনেকটা পালানোর মতো। তবে গান থেকে নয়, অনিয়মের ইন্ডাস্ট্রি থেকে নিজেকে তুলে নিয়েছিলাম।’ তবে এখন থেকে মাঝে মাঝেই নতুন গান উপহার দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন তিনি।

 

 

ইত্তেফাক/এএম