‘গোয়েন্দায়’ কাজ করে এখন তিনি ভোলে বাবা!

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২৪, ১৩:১০

ভারতের উত্তর প্রদেশের হাথরাসে গতকাল মঙ্গলবার (২ জুলাই) এক ধর্মীয় উৎসব চলাকালীন পদপিষ্ট হয়ে অন্তত ১২১ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। নিহতদের মধ্যে বেশিরভাগই ছিলেন নারী এবং নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ও ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বঘোষিত গুরু বাবা নারায়ণ হরি যিনি ভোলে বাবা নামে পরিচিত তিনি এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন। দেশটির পুলিশ জানিয়েছে, ভোলে বাবাকে শিগগিরই গ্রেপ্তার করা হবে। 
 
ইন্ডিয়া টুডে বলছে, পুলিশ ভোলে বাবাকে ধরতে অভিযান চালাচ্ছে, তবে কালকের ঘটনার পর থেকে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। উত্তর প্রদেশের ইটা জেলার পাতিয়ালি তহসিলের বাহাদুর গ্রামের বাসিন্দা ভোলে বাবা। তার দাবি, তিনি একসময় ভারতের গোয়েন্দা বিভাগে (আইবি) চাকরি করতেন। 

ভোলে বাবা দাবি করেছেন, ধর্ম পালনের জন্য ২৬ বছর আগে চাকরি ছেড়ে দেন। বর্তমানে ভারতজুড়ে তার লাখ লাখ অনুসারী। এদিকে এনডিটিভি বলছে, নারায়ণ সাকার হরির আসল নাম সুরাজ পাল সিং। তিনিই ভক্তদের কাছে ভোলে বাবা নামে পরিচিত।  

তিনি বাহাদুর নাগরি গ্রামে এক কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা নান্নে লাল, মা কাতোরি দেবী। তারা দুই ভাই হলেও এক ভাই মারা গেছেন। গ্রামে পড়াশোনা করেছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তরপ্রদেশে পুলিশে যোগদান করেছিলেন সুরাজ। তিনি পুলিশে হেড কনস্টেবল পদে ছিলেন। সেখানেই স্থানীয় গোয়েন্দা ইউনিটে ১৮ বছর ধরে কাজ করেছেন।   

বর্তমানে ভোলে বাবার ভারতজুড়ে লাখ লাখ অনুসারী। আধুনিক ধর্মগুরুর মতো ভোলে বাবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতেন না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার অফিশিয়াল কোনো অ্যাকাউন্ট নেই। ভক্তদের দাবি, তৃণমূল পর্যায়ে ভোলে বাবার প্রভাব অনেক বেশি। 

ভোলে বাবা প্রথম সবচেয়ে বেশি নজরে আসেন করোনাকালে। সেইসময় তিনি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বড় বড় জমায়েতের আয়োজন করেছিলেন। 

গতকাল ভোলে বাবার সৎসঙ্গে যোগ দেওয়া এক নারী বলেছেন, অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর লোকেরা যখন বের হতে শুরু করে তখন পদচাপা শুরু হয়। স্থানীয় কর্মকর্তারা বলেন, সৎসঙ্গের পর ভক্তরা বাবা নারায়ণের পা ছোঁয়ার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এতে অল্প একটু জায়গায় অনেক লোকের ভিড় হয়।   

এই ঘটনা তদন্তের জন্য ইতোমধ্যে উচ্চ-স্তরের কমিটি গঠন করা হয়েছে। সৎসঙ্গের আয়োজকদের বিরুদ্ধে মামলাও করা হয়েছে। এফআইআর-এর বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে, ওই স্থানে ৮০ হাজার লোকের উপস্থিত হওয়ার অনুমতি ছিল কিন্তু আড়াই লাখের বেশি ভক্ত হাজির হন।  

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর তরফে একটি বিবৃতি জারি করে হাথরাসের দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।  তিনি জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দ্রুত আহতদের হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া এবং ঘটনাস্থলে ত্রাণ বিলি করার নির্দেশ দিয়েছেন।

এ ছাড়া এই ঘটনায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট শোক প্রকাশ করেছেন।

ইত্তেফাক/এসআর