জি-ব্রেইন: বাংলাদেশের এআই যাত্রার নূতন দিগন্ত

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২৪, ০৮:৩৫

বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উত্থান এবং ইহার বিস্তৃত ব্যবহার ইতিমধ্যে আমাদের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলিতে শুরু করিয়াছে। বাংলাদেশ সরকারও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাবনা উপলব্ধি করিয়া নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করিতেছে, যাহার ফলে দেশের বিভিন্ন সেক্টরে উন্নতি ও সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হইতেছে। স্মার্ট বাংলাদেশ বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের উদ্যোগে সম্প্রতি যাত্রা শুরু করিয়াছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক জিপিটি প্ল্যাটফরম ‘জি-ব্রেইন’ তথা গভর্নমেন্ট ব্রেইন। কনস্টিটিউশন জিপিটি, বাজেট জিপিটি ও স্টার্টআপ জিপিটি—এই তিনটি প্রাথমিক ফিচার লইয়া এই প্ল্যাটফরমুটি দেশের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে এক নূতন দিগন্তের সূচনা করিয়াছে। ইহা এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াইয়া তথ্যের সহজলভ্যতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করিবে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে যে কোনো জায়গা হইতে যে কোনো সময়ে বাংলাদেশের সংবিধান, সরকারের বাজেট, ব্যবসা ও বিনিয়োগ-সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় তথ্য খুব সহজেই পাওয়া যাইবে।

বাংলাদেশের সংবিধান একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল যাহা দেশের আইন ও নীতির ভিত্তি তৈরি করে। ইহা সাধারণ মানুষের জন্য উপলব্ধি করা কঠিন হইতে পারে। এই ক্ষেত্রে জি-ব্রেইনের ‘কনস্টিটিউশন জিপিটি’ সহজ ভাষায় এবং ব্যবহারকারীর প্রশ্ন অনুযায়ী ব্যাখ্যা প্রদান করিবে, যাহা সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও আইনজীবীদের জন্য অত্যন্ত সহায়ক হইবে। ইহা ছাড়া সংবিধান সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা না থাকায় অনেক সময় জনগণ তাহাদের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে অবগত থাকে না। এই ফিচারটি ব্যবহারকারীদের সংবিধান সম্পর্কে সচেতন করিয়া তুলিতে ও জটিল আইনগত বিষয় বুঝিতে সহায়তা করিবে বলিয়া আশা করা যায়।

অন্যদিকে, বাজেট একটি দেশের অর্থনৈতিক নীতি ও কার্যক্রমের ভিত্তি। জনগণ ও বিশেষজ্ঞরা সহজে যেন বাজেট সম্পর্কে জানিতে এবং বিশ্লেষণ করিতে পারে, ‘বাজেট জিপিটি’ সেই সুযোগ প্রদান করিবে। এই ফিচারটির মাধ্যমে সাধারণ মানুষ বাজেটের প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা অর্জন করিতে পারিবেন। ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাগণ সরকারের আর্থিক নীতি সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করিতে পারিবে। আবার অর্থনীতিবিদ ও গবেষকগণ ইহার ব্যবহারে সহজে বিশ্লেষণ এবং গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করিতে পারিবেন।

নূতন উদ্যোক্তারা প্রায়ই সঠিক তথ্যের অভাবে ব্যবসা শুরু করিতে বিভিন্ন ধরনের অসুবিধার সম্মখীন হন। এই ক্ষেত্রে জি-ব্রেইনের তৃতীয় ফিচার ‘স্টার্টআপ জিপিটি’ নতুন উদ্যোক্তাদের সহজে ব্যবসা শুরু করিতে সাহায্য করিবে। স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম একটি দেশের অর্থনৈতিক বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিকভাবে ব্যবহার করিতে পারিলে ইহার মাধ্যমে ব্যবসার পরিকল্পনা, অর্থায়ন ও বাজার বিশ্লেষণ-সম্পর্কিত তথ্যের পাশাপাশি ব্যাবসায়িক পরিকল্পনা, বিনিয়োগ, বিপণন ইত্যাদি বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ পাওয়া যাইবে। স্টার্টআপ জিপিটির মাধ্যমে নূতন উদ্যোক্তারা সহজেই তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য পাইয়া যাইবেন, যাহা দেশে উদ্যোক্তাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সহায়ক হইবে।

একটি দেশের সরকারের কার্যক্রম সম্পর্কে সহজে তথ্য পাওয়া গেলে সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পায়। এই ক্ষেত্রে জি-ব্রেইন প্ল্যাটফরম দেশের প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরো কার্যকর ও স্বচ্ছ করিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করিতে পারে। ইহা ছাড়া জি-ব্রেইনকে কেন্দ্র করিয়া গড়িয়া উঠিতে পারে এক সমৃদ্ধ এআই ইকোসিস্টেম, যাহা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে বেগবান করিয়া তুলিবে। জি-ব্রেইন বাংলাদেশের এআই যাত্রার এক নূতন অধ্যায়ের সূচনা। সঠিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই প্ল্যাটফরমটি দেশকে আধুনিক বিশ্বের সহিত তাল মিলাইয়া চলিতে আরো এক ধাপ আগাইয়া লইয়া যাইবে।

ইত্তেফাক/এসটিএম