ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ছবি দেখেই বড় হয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। তিনি হয়তো কখনো ভাবেননি পর্তুগিজ তারকার বিপক্ষে দাঁড়িয়ে নিজেকে প্রমাণ করতে হবে। সেই অভাবনীয় বিষয়টিই বাস্তবে রূপ নিয়েছে ফরাসি তারকার জীবনে। আজ ইউরোর কোয়ার্টার ফাইনালে আরো একবার মুখোমুখি হবেন এমবাপ্পে ও রোনালদো।
যদিও রাত ১টায় হামবুর্গে একাধিক বিশ্বমানের খেলোয়াড় উভয় পক্ষের জন্য লড়বেন। তবে এ দুই তারকার লড়াই হবে অনেকটাই গুরু-শিষ্যের লড়াইয়ের মতো। এবারই প্রথম তারা মুখোমুখি হচ্ছেন না, ২০১৭-১৮ মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ১৬তে তাদের দেখা হয়েছিল। সেবার সিআরসেভেনের রিয়াল মাদ্রিদ এমবাপ্পের পিএসজিকে ৫-২ গোলে হারিয়েছিল।
এছাড়া ইউরো ২০১৬ ফাইনালে রোনালদোর পর্তুগালের বিপক্ষে শিরোপা হারিয়েছিল ফ্রান্স। সেবার অবশ্য দলের সঙ্গে ছিলেন না এমবাপ্পে। তিনি জায়গা করে নেওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। ২০২০ সালে আবারও দেখা হয়েছিল এমবাপ্পে-রোনালদোর। সেবার পর্তুগিজ তারকার জোড়া গোলের বিপক্ষে ফ্রান্সের তারকা জ্বলে উঠতে পারেননি। এবার সুযোগ রয়েছে সদ্য রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়া তারকার।
হামবুর্গের আজকের ম্যাচটি ছয় বছর আগে চ্যাম্পিয়নস লিগের লড়াই থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রেক্ষাপটে রয়েছে। তখন এমবাপ্পে ছিলেন ১৯ বছর বয়সি একজন উদীয়মান তারকা। এবার এমবাপ্পে ২৫ বছরের পরিপূর্ণ তারকা। গেল দুটি বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলার অভিজ্ঞতা যোগ হয়েছে তার নামের পাশে। বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন এবং তার কাঁধে চড়েই ফ্রান্স শিরোপার স্বপ্ন দেখছে। এমবাপ্পে এই গ্রীষ্মে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেবেন। আর ক্লাবটিতে তিনিই আকর্ষণের কেন্দ্রে থাকবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। পূর্বে যেখানে ছিলেন রোনালদো।
পর্তুগিজ মহাতারকা এখন সৌদি আরবে, ইউরোপীয় ক্লাব ছেড়ে অনেক দূরে। তবে সেখানেও মনোযোগ ও আকর্ষণের কেন্দ্রে রয়েছেন তিনি। পর্তুগাল দলে এই ৩৯ বছর বয়সি তারকা আরো একটি কারণে এখন আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন। স্লোভেনিয়ার বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে ব্যর্থ পেনাল্টি কিক নিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। ফুটবলের এই মহাতারকার এমন অবস্থা দেখে সামাজিক মাধ্যমসহ বিভিন্ন জায়গায় আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
সাবেক রিয়াল বনাম বর্তমান রিয়াল। ফ্রান্স-পর্তুগাল লড়াইকে যেমন এমবাপ্পে-রোনালদো লড়াই হিসেবে দেখা হচ্ছে। তেমনি সাবেক রিয়াল বনাম বর্তমান রিয়াল হিসেবেও দেখা হচ্ছে। রোনালদো একসময় এই ক্লাবের হয়ে আলো ছড়িয়েছেন। বর্তমানে সেই আলো ছড়ানোর দায়িত্ব নিয়েছেন এমবাপ্পে। চলতি ইউরো শেষেই লস ব্ল্যাংকোস শিবিরে শুরু হবে তার পথচলা। ২০১০ সাল থেকে রোনালদো তিনটি প্রিমিয়ার লিগ, একটি চ্যাম্পিয়নস লিগ এবং পাঁচটি ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন রিয়ালের জার্সিতে। এই পথচলায় ফরাসি তারকা কতটুকু সফল হন, সেই পরীক্ষা হবে আজকের ম্যাচ দিয়ে।
রোনালদো মাদ্রিদে একজন আইকন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন। তার নামে শহরে একটি হোটেল রয়েছে, সামাজিক মাধ্যমে অর্ধবিলিয়নেরও বেশি ফলোয়ার রয়েছে। এমনকি তার নামে একটি গ্যালাক্সিও রয়েছে। ফলে ফুটবলের এই মহাতারকার বদলি হওয়াটা সহজ ব্যাপার নয়। তবু এমবাপ্পে যখন আবারও তার মুখোমুখি হয়েছেন, এখানেই তাকে প্রমাণ করতে হবে। চলতি টুর্নামেন্টে কেউই এখন পর্যন্ত আলো ছড়াতে পারেননি। এমবাপ্পেকে অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে উদ্বোধনী খেলাতেই নাক ভেঙেছেন। বর্তমানে মুখোশ পরে তাকে খেলতে হচ্ছে। যেখানে অস্বস্তি এবং বিভ্রান্তির মধ্যে থেকে লড়তে হচ্ছে তাকে। মুখোশের কারণে খেলতে বিভিন্ন সমস্যার কথাও জানিয়েছেন তিনি। এদিকে রোনালদো জর্জিয়া ও স্লোভেনিয়ার বিপক্ষে নিজেকে সেভাবে প্রমাণ করতে পারেননি। তাতে এই ম্যাচ ঘিরে দুজনের লড়াইয়ে ফিরে আসার চেষ্টাও দেখতে মুখিয়ে আছেন ভক্তরা। শেষ পর্যন্ত এমবাপ্পে যদি শীর্ষে উঠে আসেন, তাহলে রোনালদোর পোস্টার হিসেবে সেটি যেন রোনালদোরই জয় হবে।

এবারের ইউরোতে পর্তুগাল গ্রুপ পর্বের দুই ম্যাচে জয় তুলে নিয়েছে। বিপরীতে ফ্রান্স দুটি ম্যাচ ড্র করে এসেছে। শেষ ষোলোর লড়াইয়ে ফরাসিরা নির্ধারিত সময়েই খেলা শেষ করেছে, কাঁদিয়েছে বেলজিয়ামকে। অন্যদিকে পর্তুগালকে খেলতে হয়েছে অতিরিক্ত সময়েও। পরে টাইব্রেকারের মাধ্যমে ফল নির্ধারিত হয়েছে। আজকের ম্যাচটিতে রোনালদো জ্বলে উঠতে না পারলে পর্তুগালকে বেশ ধকল সহ্য করতে হবে। বর্তমানে ফিফা র্যাংকিংয়ে ফ্রান্স থেকে চার ধাপ পিছিয়ে রয়েছে রোনালদোর দল। মাঠের লড়াইয়ে এই অবস্থান কথা বলবে, নাকি অভিজ্ঞতা—সেটিই এখন দেখার বিষয়।
