বিটিএমএর সংবাদ সম্মেলন

জ্বালানি সংকটে বিপর্যস্ত দেশের বস্ত্র খাত

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০২৪, ০০:১৯

জ্বালানি সংকটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দেশের বস্ত্র খাত। এরই মধ্যে এ খাতের বেশ কিছু কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। আরও অনেক কারখানা যে কোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আবার চলতি বছরের শুরু থেকে রপ্তানির বিপরীতে প্রণোদনা ও নগদসহায়তা কমিয়ে দিয়ে বস্ত্র খাতকেও পাটশিল্পের মতো বিলুপ্তির পথে ঠেলে দিচ্ছে একটি চক্র।  গতকাল শনিবার পান্থপথে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বস্ত্র খাতের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন।

তিনি বলেন, এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের নামে টেক্সটাইল খাতে প্রণোদনা ও নীতিসহায়তা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে এ শিল্প অচিরেই ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যাবে। জ্বালানিসংকটে তিন বছর ধরে স্বাভাবিক উত্পাদন ব্যাহত হচ্ছে। সক্ষমতার ৫০ শতাংশের বেশি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহে ব্যর্থ হলেও বাড়ানো হয়েছে জ্বালানির দাম। শ্রমিকের মজুরিও বেড়েছে। ব্যাংকঋণের সুদ হার দাঁড়িয়েছে সাড়ে ১৪ শতাংশে। ডলার-সংকটের কারণে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল কমেছে। তুলা ও কাঁচামাল আমদানির ঋণপত্র খুলতে আগ্রহ হারিয়েছে অনেক ব্যাংক। তিনি বলেন, এ খাতে প্রতিবেশী ও প্রতিযোগী দেশগুলো যখন নীতিসহায়তা বাড়াচ্ছে, তখন উলটো পথে চলছে বাংলাদেশ।

টেক্সটাইল খাতের আসন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা সার্কুলার বাতিল করে, আগের মতো প্রণোদনা ও নগদসহায়তার দাবি জানিয়েছেন বিটিএমএ সভাপতি। দেশে বর্তমান ৫১৯টি স্পিনিং মিল, ৯৩০টি উইভিং মিল ও ৩২২টি ডায়িং-প্রিন্টিং-ফিনিশিং মিলসহ দেশের নিট পোশাক খাতে দরকারি সুতার ৯০ শতাংশ ও উইভিংয়ের ৪৫ শতাংশ জোগান দিয়েও বস্ত্র খাত ভালো নেই বলে জানিয়েছে তিনি।

বস্ত্র খাতের এ শীর্ষ সংগঠনটি জানায়, গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহের সংকট এবং প্রায় ২৫০ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি, ব্যাংক সুদের হার প্রায় ১৪.৫ শতাংশ হওয়ায় ঝুঁকির মুখে আছে দেশের বস্ত্র খাত।

বিটিএমএ সভাপতি বলেন, শ্রমিক মজুরি ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি ডলার-সংকটের কারণে ওয়ার্কিং ক্যাপিটালের প্রায় ৪০ শতাংশ ঘাটতি এবং তুলা ও অন্যান্য কাঁচামাল আমদানিতে এলসি খুলতে ব্যাংকের অনীহা উল্লেখযোগ্য সমস্যা।

বিটিএমএ সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন বলেন, তাছাড়া রপ্তানি আয় বাড়িয়ে দেখাতে এতদিন মিথ্যা তথ্য দিয়ে তৈরি পোশাকসহ রপ্তানিমুখী খাতের ক্ষতি করেছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ও বাংলাদেশ ব্যাংক।

পাশাপাশি দ্রুত সময়ের মধ্যে টেক্সটাইল শিল্পের জন্য একটি যুগোপযোগী টেক্সটাইল পলিসি প্রণয়ন এবং ব্যাংক লোন পরিশোধের জন্য এক বছরের গ্রেস পিরিয়ড রাখার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে মোহাম্মদ আলী খোকন বলেন, যে কোনো শিল্প শক্তিশালী বা টেকসই করার জন্য নীতিসহায়তা বা প্রণোদনা প্রয়োজন। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোও যা দিয়ে আসছে। যে কোনো দেশের জন্য টেকসই শিল্প প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজন শক্তিশালী নীতিসহায়তা ও প্রণোদনা। আমাদের কোনো ধরনের বিকল্প ব্যবস্থা না রেখে নগদ প্রণোদনা যেভাবে কমানো হয়েছে, তাতে টেক্সটাইল সেক্টরে সক্ষমতা কমবে। এর প্রভাবে ক্রমান্বয়ে এ সেক্টরের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ ইন্ডাস্ট্রিগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে। এছাড়া এ খাতে প্রতিযোগী অন্য দেশের সঙ্গে আমরা কোনোভাবেই টিকতে পারব না। কোনো কারণে প্রাইমারি টেক্সটাইল বন্ধ হলে পরবর্তী সময়ে তৈরি পোশাকশিল্পও ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যাবে। এতে দেশের অর্থনীতিতে ধস নামার আশঙ্কা তৈরি হবে।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তুলা উত্পাদনকারী দেশ এবং টেক্সটাইল টেকনোলজিতেও বিশ্বে দ্বিতীয়। ভারত বর্তমানে বিশ্বের ৫ম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ এবং ২০০৪ সালে এলডিসি গ্র্যাজুয়েটেড হওয়া সত্ত্বেও টেক্সটাইল শিল্পকে নানাভাবে নগদ প্রণোদনার বিকল্প সুবিধা দিয়ে আসছে। সুতরাং এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের নামে বাংলাদেশের টেক্সটাইল শিল্পের প্রণোদনা ও নীতিসহায়তা ব্যাপকভাবে কমিয়ে এ শিল্পে যেভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে, তাতে এ শিল্প অচিরেই ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যাবে।

ইত্তেফাক/এসকে