ফ্রান্সে চলছে দ্বিতীয় দফার ভোট, ঝুলন্ত পার্লামেন্টের শঙ্কা

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০২৪, ১৯:৩৭

ফ্রান্সের জাতীয় নির্বাচনে দ্বিতীয় দফায় ভোট দিচ্ছেন দেশটির জনগণ। প্রথম দফায় কট্টরপন্থি দল ন্যাশনাল র‌্যালির জয়ের পর দ্বিতীয় দফার ভোটেও জয় পাওয়ার আশা করছে মেরিন লে পেনের দল। স্থানীয় সময় রোববার (৭ জুলাই) সকাল আটটায় শুরু হয় ভোটগ্রহণ। চলবে সন্ধ্যা ৬ পর্যন্ত।

রোববার (৭ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়, মধ্যাহ্ন পর্যন্ত ২৬.৬৩ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৮১ সালের পর মধ্যাহ্ন পর্যন্ত এটি সর্বোচ্চ ভোট। 

২০২২ সালের সংসদ নির্বাচনের সময়, মধ্যাহ্ন পর্যন্ত ভোট পড়েছিল ১৮.৯৯ শতাংশ। ছোট শহরগুলোতে ভোটকেন্দ্র খোলা থাকবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। বড় শহরগুলোতে রাত ৮টা পর্যন্ত। ভোটকেন্দ্রগুলো সব বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বুথফেরত জরিপ পাওয়া যাবে বলেও জানানো হয় প্রতিবেদনে। আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা হতে পারে রোববার রাতে অথবা সোমবার।

এদিকে জনমত জরিপের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ফ্রান্সে ঝুলন্ত পার্লামেন্ট হতে পারে। দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে কোনো দল বা জোট যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পায় তাহলে ঝুলন্ত পার্লামেন্ট হওয়ার আশংকা রয়েছে এবং তাতে করে ফ্রান্সে রাজনৈতিক স্থবিরতা দেখা দিতে পারে।

এর আগে ফ্রান্সের কট্টরপন্থি দল ন্যাশনাল র‍্যালিকে (আরএন) দ্বিতীয় দফার ভোটে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে বাধা দিতে বিরোধীরা দ্বিতীয় দফার নির্বাচন থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেওয়ার ঘোষণা দেন। 

জিমনেশিয়ামে ভোট দিচ্ছেন ভোটাররা।
 
ফ্রান্সের স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০০ জনেরও বেশি প্রার্থী নিশ্চিত করেন তারা ফ্রান্সের ৫৭৭ আসনের জাতীয় সংসদের জন্য দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে লড়বেন না। 
 
নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে কোন দলকে ৫৭৭ সদস্যের জাতীয় পরিষদে ২৮৯টি আসন পেতে হবে।
 
ইউরোপীয় নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর মধ্যবর্তী এনসেম্বল জোট খারাপ ফলাফলের পর, আগাম নির্বাচনের ডাক দেন ম্যাক্রোঁ। ফ্রান্সে নির্বাচন হয় দুই দফায়। 

গত রোববার (৩০ জুন) ফ্রান্সে প্রথম ধাপের পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে প্রায় ৩৪ শতাংশ ভোট পেয়ে জয় লাভ করে মেরিন লে পেনের কট্টর ডানপন্থি দল ন্যাশনাল র‍্যালি (আরএন)। অন্যদিকে প্রায় ২৯ শতাংশ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থান পায় বামপন্থি দলগুলোর জোট নিউ পপুলার ফ্রন্ট। ম্যাক্রোঁর দল ২০.৭ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে নেমে যায়।     

ইত্তেফাক/এনএন