অনেক ব্যবসায়ী ঋণ ফেরত দিতে পারছেন না: রেহমান সোবহান

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২৪, ০৬:০৩

খেলাপি ঋণের সঙ্গে অর্থ পাচারের যোগ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান। সম্প্রতি সমাজ গবেষণা কেন্দ্রে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের সংকট :সমস্যা ও সমাধান’ শীর্ষক আলোচনায় এ মন্তব্য করেন এই অর্থনীতিবিদ।

অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, অনেকে ৫০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে ৪০ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি আমদানি করে। বাকি ১০ কোটি টাকা পাচার হয়ে যায়। এভাবে ঋণ নিয়ে বাইরে পাচার করলে ঋণগ্রহীতার ঋণ ফেরত দেওয়ার সক্ষমতাও কমে যায়। রেহমান সোবহান বলেন, অনেক ব্যবসায়ী ভালো ব্যবসা করলেও ব্যাংকের ঋণ ফেরত দিচ্ছেন না। আবার অনেক ব্যবসায়ী ভালো ব্যবসা করতে না পারার কারণে ঋণ ফেরত দিতে পারছেন না।

অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, খেলাপিদের নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হয় না। তবে সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান নিয়মটি সহজ করে দিয়েছেন। নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য ঋণ রিশিডিউল করা এবং ঋণ পরিশোধ না করা অপরাধ। ঋণ পরিশোধে সময় বেশি লাগায় সেটি ‘ইফেক্টিভ ইন্টারেস্ট রেট’ কমিয়ে দেয় মন্তব্য করে সিপিডির চেয়ারম্যান বলেন, ‘কেউ যখন দুই-পাঁচ বছরের জন্য ঋণ নিয়ে ১০-১৫ বছর পর ফেরত দেয়, তখন সুদের ইফেক্টিভ রেট কমে যায়।’ তিনি আরো বলেন, ‘ব্যাংকগুলো স্বল্প মেয়াদে আমানত নিয়ে দীর্ঘ মেয়াদে ঋণ দিচ্ছে। এটা সঠিক পলিসি নয়।’

দেশ রাজনৈতিক অর্থনীতির কাঠামোগত এক সমস্যায় রয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। তিনি বলেন, এখানে আছে অদক্ষতা, আছে অবিচারও।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনৈতিক গবেষণা ব্যুরোর চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম এম আকাশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ইউনিভার্সিটি অব নিউ ইয়র্ক, কোর্টল্যান্ডের অধ্যাপক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ বিরূপাক্ষ পাল দুটি আলাদা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

সমাজ গবেষণা কেন্দ্রের সভাপতি তাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে এতে সঞ্চালক ছিলেন এশীয় প্রবৃদ্ধি গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক নজরুল ইসলাম। আরো আলোচক ছিলেন সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান ও পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাশরুর রিয়াজ।

এম এম আকাশের প্রবন্ধে বলা হয়, সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ১ লাখ ৮২ হাজার কোটি টাকা এখন খেলাপি ঋণ। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের তথ্য অনুযায়ী, তা ৪ লাখ কোটি টাকার কাছাকাছি হবে। আর প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশেই খেলাপি ঋণের হার সবচেয়ে বেশি। এই হার ১১.৪৮ শতাংশ। অথচ খেলাপি ঋণের হার ভারতে ৯.২, ইন্দোনেশিয়ায় ২.৯, শ্রীলঙ্কায় ২.৬, নেপালে ২, ফিলিপাইনে ১.৯ এবং মালয়েশিয়ায় ১.৬ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ বিরূপাক্ষ পাল বলেন, বিনিয়োগের প্রতি দরদ দেখানোর কথা বলে সুদের হার ৯ শতাংশ ও আমানতের হার ৬ শতাংশ করা হয়েছিল। বাস্তবে ব্যবসায়ীরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে গিয়ে বলেছেন, সুদের হার কমালে বিনিয়োগ বাড়বে। এটা ছিল মূলত অজুহাত। বিনিয়োগ কিন্তু বাড়েনি। সাংবাদিকদের তাড়িয়ে দিয়ে তথ্যপ্রবাহের গতি বন্ধ করে দেওয়ার কোনো যুক্তি ছিল না বলে মনে করেন বিরূপাক্ষ পাল।

ইত্তেফাক/এসকে