ইত্তেফাক ডিজিটালকে মোহাম্মদ সাদিক

'আমি যোগদান করার আগেই পিএসসি থেকে আবেদ আলীকে চাকরিচ্যুত করা হয়'

আপডেট : ১১ জুলাই ২০২৪, ১৩:২৩

প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে গ্রেপ্তার হওয়া সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী কার গাড়ি চালাতেন, এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কথা হচ্ছে। বর্তমান চেয়ারম্যান সোহরাব হোসাইনের আগে সংস্থাটির চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পালন করেন ড. মোহাম্মদ সাদিক। পরীক্ষাপদ্ধতি সংস্কার এবং পরীক্ষার্থীবান্ধব নানা উদ্যোগের কারণে লম্বাসময় ধরে আলোচনায় ছিলেন তিনি। ফলে ড. মোহাম্মদ সাদিকের নামটি সবার কাছে পরিচিত হওয়ায় অনেকেই মনে করছেন 'সাবেক চেয়ারম্যান' মানেই ড. সাদিক। আর আবেদ আলী ছিলেন তাঁরই গাড়িচালক —এমন মন্তব্যও ভেসে বেড়াচ্ছে ফেসবুকে। তবে বিষয়টি সত্যি নয় বলে জানা গেছে।

আবেদ আলীর গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে মঙ্গলবার সাংবাদিকদের কাছে বক্তব্য দেন হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল সুমন। সেখানে তিনি বলেন, পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যানরা আবেদ আলীর অপকর্মের দায় এড়াতে পারেন না। এর প্রেক্ষিতে অন্যদের মন্তব্যে সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবে ড. মোহাম্মদ সাদিকের নাম আসে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোহাম্মদ সাদিক ইত্তেফাক ডিজিটালকে বলেছেন, তিনি পিএসসির চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদানের আগেই আবেদ আলী চাকরিচ্যুত হন। তিনি আবেদ আলীকে কখনো দেখেননি। আবু বকর সিদ্দিক নামের একজন পিএসসিতে তাঁর সরকারি গাড়ির চালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।

ড. মোহাম্মদ সাদিক বর্তমানে সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য। একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ৫ জুলাই যুক্তরাজ্যে গেছেন তিনি। হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করা হলে ইত্তেফাক ডিজিটালকে সাদিক বলেন, 'শিক্ষাসচিব পদ থেকে অবসরগ্রহণের কিছুদিন পর আমি ২০১৪ সালের ৩ নভেম্বর পিএসসির সদস্য হিসেবে যোগদান করি। সেখানে গিয়ে শুনেছি আবেদ আলী নামের এক প্রভাবশালী গাড়িচালক ছিল, যাকে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে আরও আগেই বরখাস্ত করা হয়। কিন্তু তার প্রভাব এতোটাই ছিল যে, তাকে চাকরিচ্যুত করতে নাকি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনেক বেগ পেতে হয়েছে।'

তিনি বলেন, 'আমি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিই ২০১৬ সালে। আমার আগে চেয়ারম্যান ছিলেন ইকরাম আহমেদ। উনি চেয়ারম্যান থাকাকালে শুরুর দিকেই আবেদ আলীকে বরখাস্ত ও চাকরিচ্যুত করা হয়। ইকরাম আহমেদের আগে চেয়ারম্যান ছিলেন এটিএম আহমদুল হক চৌধুরী, ড. সাদাত হোসেন এবং ড. জিনাতুন নেসা তাহমিদা বেগম। তাদের কারোর কোনো এক সময়কালে আবেদ আলী হয়তো গাড়ি চালিয়েছে। আমি যোগদান করার পর পুরনো সহকর্মীদের কাছে শুনেছি, পিএসসির অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আবেদ আলীকে সমীহ করতেন। ২০১৬ সালের ২ মে আমাকে যখন পিএসসির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় আমি তখন সাধ্যমত চেষ্টা করেছি পিএসসিতে যাতে আর কোনো আবেদ আলী তৈরি না হয়। আমার সময়কালে এই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটির সম্মান সমুন্নত রাখা এবং লাখ লাখ প্রার্থীর প্রত্যাশা পূরণের চেষ্টা করেছি।'

প্রসঙ্গত, প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত থাকার পিএসসির বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাবেক গাড়িচালক আবেদ আলীর সম্পৃক্ততার বিষয়টি এখন সর্বত্র আলোচিত। সম্প্রতি এ নিয়ে সংক্ষিপ্ত এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে চ্যানেল টোয়েন্টিফোর। অনুসন্ধানী অনুষ্ঠান সার্চলাইটে আরও বিস্তারিত জানানো হবে বলে সেখানে উল্লেখ করা হয়। এরপর নেটিজেনরা গাড়িচালক আবেদ আলী ও তার ছেলে সিয়ামের ফেসবুক প্রোফাইল খুঁজে বের করে তাদের বিলাসী জীবনযাপনের বিভিন্ন ছবি ভাইরাল করেন। অন্যদিকে টেলিভিশনের প্রতিবেদনের পরপর পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তদন্তে নেমে আবেদ আলীসহ ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করে।

ইত্তেফাক/এসটিএম