রাজধানীতে জলাবদ্ধতার স্থান চিহ্নিত হলেও সমাধান নেই

  • বিভিন্ন সংস্থার উন্নয়নকাজের কারণে ড্রেনেজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে—ডিএনসিসি মেয়র
  • পরিকল্পিত সড়ক তৈরি না হওয়ায় পানি সরতে পারছে না—ডিএসসিসি মেয়র
আপডেট : ১২ জুলাই ২০২৪, ০৬:৫৫

রাজধানীতে জলাবদ্ধতার সমস্যা দীর্ঘদিনের। এখনো অল্প বৃষ্টিতেই বিভিন্ন সড়কে পানি জমে যায় হাঁটু সমান। তবে আগে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পানি জমে থাকলেও এখন কিছু এলাকায় কয়েক ঘণ্টা পরে পানি সরতে দেখা যায়। তবে এখনো নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় পানি জমে থাকে দীর্ঘ সময়। ওয়াসা থেকে সিটি করপোরেশন খালগুলো বুঝে পাওয়ার পর কিছু এলাকায় সমস্যার সমাধান হলেও এখনো জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পায়নি মানুষ। দুই সিটি করপোরেশন বলছে, কিছু কিছু এলাকায় এখন বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ চলমান। যার কারণে ড্রেনগুলো দিয়ে পানি সড়তে না পারায় পানি জমে থাকছে। অন্যদিকে, স্থায়ীভাবে কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে পরিকল্পিত সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকার কারণে। তবে এসব এলাকায় কুইক রেসপন্স টিম কাজ করে।

গত ২৬ জুন ঢাকায় ৩ ঘণ্টায় ৬১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছিল। সেদিনের বৃষ্টিতে ঢাকার অনেক এলাকার সড়কে পানি জমে থাকতে দেখা গেছে। টানা বৃষ্টিতে এখনো রাজধানীর মিরপুর, কাওরান বাজার, পান্থপথ, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, আগারগাঁও, ফার্মগেট, হাতিরঝিল, গুলিস্তান ও নিউমার্কেট এলাকায় সড়কে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকে এসব এলাকার বিভিন্ন সড়কে। বিশেষ করে মিরপুর ১০ নম্বর থেকে ১৪ এবং ১১ নম্বর পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকতে দেখা গেছে। এতে মিরপুর বিআরটিএ কার্যালয়ের সামনের সড়কের ফুটপাত পর্যন্ত ডুবে যায়। আর ১০ নম্বর গোলচত্বর ও আশপাশের সড়কেও পানি জমে। রোকেয়া সরনির শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া এলাকার সড়কেও দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকে। এ ছাড়া বনানীর আর্মি স্টেডিয়াম ও নৌবাহিনী সদর দপ্তরের সামনের সড়ক এবং ধানমন্ডির সড়কে জলাবদ্ধতা দেখা যায়। এর বাইরে নায়েম রোড, গ্রিন রোড, মগবাজার, মালিবাগ, ধোলাইখাল, এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা যায়। এছাড়া দক্ষিণ সিটির জুরাইন এলাকা ও উত্তর সিটির দক্ষিণখান এলাকায়ও অল্প বৃষ্টিতেও দুই-তিন দিনও সড়কে পানি থাকে। এসব এলাকায় এখনো উন্নয়ন বা ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়নি। যার কারণে মানুষের ভোগান্তি লাগামছাড়া। বৃষ্টি ছাড়াও জুরাইনে কিছু কিছু সড়কে বাসাবাড়িতেও পানি জমতে দেখা যায়।

দুই নগর কর্তৃপক্ষেরই দাবি—রাজধানীর কোথায় কোথায় জলাবদ্ধতা হয়, তারা জানে। এ নিয়ে বছরব্যাপী তাদের কর্মযজ্ঞও চলে। তবু বৃষ্টি এলেই দুর্ভোগে পড়েন মানুষ। বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিকল্পিত নগরায়ন, খাল, জলাশয়ের অতিমাত্রায় দখলদারিত্ব ও সংস্থার নীরবতার কারণে নগরবাসীর দুর্ভোগ লাঘব হচ্ছে না।

এর আগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেছিলেন, সরকারের অন্যান্য সংস্থার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন চলমান থাকায় বর্তমানে কমলাপুর ও গ্রিন রোড এলাকার (মূলত অ্যালিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের চলমান উন্নয়নকাজ) মতো সুনির্দিষ্ট কয়েকটি স্থানে এবং নিউ মার্কেট এলাকা (বিজিবি কর্তৃক ২০০৯ সালে একটি পানি নিষ্কাশন নর্দমা বন্ধ করে দেওয়ায় ও ওয়াসা কর্তৃক আরেকটি নর্দমার মধ্য দিয়ে সুপেয় পানির সরবরাহ পাইপ স্থাপন করায় পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে), পুরান ঢাকা এবং শহরের গুটিকয়েক এলাকা ছাড়া অন্য কোথাও জলাবদ্ধতা হয় না। অন্য এলাকাগুলোতে জলাবদ্ধতা নিরসনে সিটি করপোরেশন উদ্যোগ নিয়েছে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে ড্রেন নির্মাণ করে তার পর রাস্তা নির্মাণ হবে। আগে কখনো পরিকল্পিতভাবে ড্রেন ও রাস্তা নির্মাণ হয়নি। নভেম্বরের মধ্যে নতুন ওয়ার্ডের রাস্তা ও ড্রেনেজের কাজ সম্পন্ন হবে। জলাবদ্ধতার সমস্যা স্থায়ী সমাধান হবে।

ইত্তেফাক/এসটিএম