নিজেদের রাজাকার বলে যারা মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে স্লোগান দেয়, এ কেমন মেধাবী তারা ! যারা নিজের দেশ প্রতিষ্ঠা এবং মুক্তি সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানেনা, রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় কত সংগ্রাম, কত ত্যাগ তিতিক্ষা রয়েছে এদেশের মানুষের, সেই ইতিহাস যারা জানেনা তারা কীভাবে মেধাবী হয়।
১৯৭১ সালে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর অক্সিলারি ফোর্স অর্থাৎ সহায়ক শক্তি কুখ্যাত রাজাকার বাহিনী দেশের প্রতিটি জেলা থেকে শুরু করে গ্রাম পর্যন্ত মুক্তিকামী মানুষের উপর গণহত্যা চালিয়েছে, মানুষের ঘরবাড়ি আগুনে পুড়িয়েছে, মানুষের উপর নারকীয় অত্যাচার-নিপীড়ন চালিয়েছে, লুটপাট করেছে, মেয়েদের ধরে নিয়ে ক্যাম্পে দিনের পর দিন পাশবিক নির্যাতন চালিয়েছে, এসব কোন কিছুই যারা জানেনা তারা কি আদৌ মেধাবী? আবার যে মেধাবীর মধ্যে দেশপ্রেম ও মানবতা নেই, তাকে কি সত্যিকার অর্থে মেধাবী বলা যায়? এ কেমন মেধাবী তারা? যে শিক্ষার্থীর মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের চেতনা নেই, সেই মেধাবী দেশের কি কাজে লাগবে?
মধ্যরাতে কোটা বিরোধী আন্দোলনকারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা বিভিন্ন হল থেকে বের হয়ে নিজেদের 'রাজাকার রাজাকার' বলে স্লোগান দিয়েছে। ১৯৭১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের জীবন বাজি রেখে মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিল এবং যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৭১ সালে ইতিহাসের জঘন্যতম গণহত্যা সংঘটিত হয়েছিল, মুক্তিকামী মানুষ তখন সমস্ত আবেগ দিয়ে স্লোগান দিয়েছিল 'তুমি কে, আমি কে, বাঙালি বাঙালি', স্বাধীনতার ৫৩ বছর পর সেই পবিত্র বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে আজ ছাত্র-ছাত্রীরা "তুমি কে, আমি কে, রাজাকার রাজাকার" এই শ্লোগানে ক্যাম্পাস প্রকম্পিত করেছে।
এরকম ঘৃণ্যতম, দেশ বিরোধী ঘটনা দেখব সেটি কোনদিন দুঃস্বপ্নেও ভাবিনি। নিজেদের 'রাজাকার' বলে পরিচয় দিতে এসব ছেলে-মেয়েদের একবারও লজ্জা হলো না? কলঙ্কিত হওয়ার ভয়ে একবারও তাদের বুক কাপলো না? এ কোন বাংলাদেশ দেখছি আমরা? স্বাধীনতার শত্রু রাজাকাররা যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৭১ সালের ২৫ সে মার্চ গণহত্যা করেছে, যে বিশ্ববিদ্যালয়ে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয়েছে, ছাত্র শিক্ষক কর্মচারীদের লাইনে দাড় করিয়ে ব্রাশ ফায়ারে হত্যা করা হয়েছে, ছাত্রী হলে ঢুকে ছাত্রীদের ধর্ষণ ও হত্যা করা হয়েছে, সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা নিজেদের রাজাকার বলে স্লোগান দেয়! এটি আমরা দুঃস্বপ্নেও ভাবি নি।
রাষ্ট্রের উপর এই ভয়ঙ্কর আঘাত কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। কারণ এই বাংলাদেশের জন্য ৩০ লক্ষ মানুষ নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিল। ২ লক্ষ মা-বোন নির্যাতনের শিকার হয়েছিল এই বাংলাদেশের জন্য। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু সারা জীবন সংগ্রাম করে এই বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ১৯৭৫ সালে সপরিবারে জাতির পিতা এই দেশের জন্যই জীবন দিয়েছিলেন।
লেখক: সংসদ সদস্য এবং তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
