কোটা আন্দোলন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের সংঘর্ষ, আহত ১০

আপডেট : ১৭ জুলাই ২০২৪, ১৯:৫৩

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আজ বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে দু পক্ষের সংঘর্ষ হয়। এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়।

সারা দেশে কোটা আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে এদিন সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের সামনে সমাবেশের ডাক দেয় শিক্ষার্থীরা। তাদের প্রতিহত করতে সভাস্থলে আগেই অবস্থান নেয় জেলা ছাত্রলীগের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী। সাধারণ শিক্ষার্থীরা কলেজের প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হতে শুরু করলে সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ফাতেমা আফরিন তাদের সরিয়ে দেবার চেষ্টা করেন। পরে এক পর্যায়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অসৌজন্যমূলক আচরণ, খারাপ অঙ্গভঙ্গি ও অপ্রীতিকরসহ হুমকি দিয়ে তাদের সরানো চেষ্টা করে। পাশাপাশি কলেজের সামনে ও কলেজপাড়ার লেবেল ক্রসিং এলাকায় অন্তত ১৫টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। কলেজের সামনের সড়ক, লেবেল ক্রসিং এলাকা, নিউ মৌড়াইল ও কাউতলী এলাকায় লাঠিসোটা ও বৈঠা নিয়ে মহড়া দিতেও দেখা যায় তাদের। পরে আন্দোলনকারীরা সকাল ১১টার দিকে মিছিল করে সভাস্থল ত্যাগ করে চলে যায়।

পরে পৌনে ১২টার দিকে শহরের কাউতলী এলাকা থেকে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি স্টেডিয়াম এলাকায় জেলা ও দায়রা জজের বাসভবনের সামনে পৌঁছালে ছাত্রলীগের কর্মীরা তাদের বাধা দেয়। এ সময় বিক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা তাদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় সংঘর্ষে দুপক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়। 

ফারহানা শারমিন নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আমাদের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেছে। আমাদের বিভিন্নভাবে অপমানিত করেছে। আমরা কোটার সংস্কারের দাবিতে এসেছি। আমার ভাই ও বোনের শরীরে থেকে যে রক্ত ঝড়েছে, তার প্রতিবাদ জানাতে এসেছি। 

জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল হোসেন বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের কোনো বাধা দেইনি। তাদের কোনো দাবি থাকলে তা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে দিতে বলেছি। কিন্তু তাদের হামলায় জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবিউল আহত হয়েছে। তার ডান চোখের ওপর চারটি সেলাই লেগেছে। 

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) বিল্লাল হোসেন বলেন, ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাটি তদন্তের বিষয়। শহরের বিভিন্ন মোড়ে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

এদিকে বাদ যোহর শহরের টেংকের পাড় মাঠে জেলা ছাত্রলীগের উদ্যোগে নিহত ছাত্রলীগ নেতার গায়েবী জানাযার অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল সোয়া ৪টার দিকে কোটা আন্দোলন নিয়ে সাধারন শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে শহরের কান্দিপাড়া থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল টিএ রোড এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি