কয়েক দিন ধরে চলা সহিংসতা দমন করতে গিয়ে সহস্রাধিক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। মৃত্যুবরণ করেছেন তিন জন পুলিশ সদস্য। দুর্বৃত্তরা রাজধানীর অনেকগুলো থানায় আক্রমণ করেছে। পুড়িয়ে দিয়েছে রাজধানীর অধিকাংশ পুলিশ বক্স ও ফাঁড়ি। রাজধানীর ৫৪টি পুলিশ বক্সে আগুন দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। গুলশানে ট্রাফিক পুলিশের উপ-কমিশনারের কার্যালয়েও আগুন দেওয়া হয়েছে। রমনা, রামপুরা, মহাখালী ও উত্তরায় ট্রাফিকের সহকারী কমিশনারের কার্যালয়েও আগুন দেওয়া হয়েছে। পুলিশের ২৮১টি যানবাহনে আগুন দেওয়া হয়েছে, ভাঙচুর করা হয়েছে আরও বেশ কিছু যানবাহনও।
গতকাল রাজারবাগে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে ১ হাজার ১৭ জন পুলিশ সদস্য চিকিৎসাধীন আছেন। দুর্বৃত্তদের ছোড়া ইটের আঘাতে আহত হয়েছেন অনেক পুলিশ সদস্য। অনেক পুলিশ সদস্যকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে। এছাড়া রোড ডিভাইডারে থাকা লোহার রডসহ ধারালো অস্ত্র দিয়েও অনেক পুলিশ সদস্যকে নির্মমভাবে কুপিয়ে ও পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয়েছে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অনেক পুলিশ সদস্য চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের বেশ কয়েক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন দায়িত্বরত চিকিৎসকেরা। ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা আহত পুলিশ সদস্যদের খোঁজখবর নিচ্ছেন।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালে যেসব পুলিশ সদস্য চিকিৎসাধীন আছেন, তাদের ব্যাপারে আইজিপি সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিচ্ছেন। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও তাদের খোঁজখবর নিচ্ছেন। তাদের চিকিৎসার জন্য যা যা প্রয়োজন, তার সবকিছু করা হচ্ছে। পুলিশ সদর দপ্তরের এক জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, আহত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে যাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক, তাদের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি আহত সব পুলিশ সদস্যের চিকিৎসার দায়িত্ব পুলিশ সদর দপ্তর নিয়েছে। মনিটরিং সেল তৈরি করে সবার খোঁজ রাখা হচ্ছে। কারও চিকিৎসায় যাতে অবহেলা না হয়, সেদিকেও বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।
