ব্যাকফুটে থাকা ডেমোক্র্যাটরা কি ঘুরে দাঁড়াতে পারে?

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২৪, ১৬:৪৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে লড়াইয়ে জ্যামাইকান-ভারতীয় বংশোদ্ভূত কমলা হ্যারিসই যে নামছেন তা এক প্রকার নিশ্চিতই। যদিও আনুষ্ঠানিকতার জন্য অপেক্ষা করতে হবে আগামী মাসে ডেমোক্র্যাটদের ন্যাশনাল কনভেনশন ডে পর্যন্ত। সেদিনেই আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হবে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীকে। রোববার রাতে হোয়াইট হাউজের দৌড় থেকে জো বাইডেন সরে দাঁড়ানোর পর স্পটলাইটে এখন কমলা হ্যারিস।

বিশ্লেষকরা বলছেন, কমলা হ্যারিস প্রার্থী হওয়ায় সাম্প্রতিককালে ব্যাকফুটে থাকা ডেমোক্র্যাটরা আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারে। বিশেষ করে নারী, অভিবাসী ও কৃষ্ণাঙ্গ ভোটাররা সমর্থন দিতে পারেন কমলা হ্যারিসকে। এ ছাড়া যেসব ভোটার বাইডেনকে ভোট না দিয়ে ট্রাম্পকে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তারাও সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারেন।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক অ্যালান মিনস্কি আল জাজিরাকে বলেন, ‘‌অন্তত বাইডেনের চেয়ে ভালো করার সম্ভাবনা রয়েছে কমলা হ্যারিসের। বিশেষ করে নারী ও কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের সমর্থন আদায় করে নিতে পারেন তিনি। এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে বাইডেনের ওপর সমর্থন প্রত্যাহার করে যেসব ভোটার ট্রাম্পকে ভোট দেবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তারা নিশ্চিতভাবেই আবার নতুন করে ভাববেন।

জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী কমলা হ্যারিস নিজেও। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লিখেছেন, আমেরিকানদের পক্ষ থেকে আমি জো বাইডেনকে তার অসাধারণ নেতৃত্বের জন্য ধন্যবাদ জানাই। নির্বাচনের আগে আমাদের হাতে আরও ১০৬ দিন সময় আছে। আমরা একসঙ্গে লড়ব একসঙ্গেই জিতব।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট হিলারি ক্নিনটন হ্যারিসের পক্ষে তাদের নিরঙ্কুশ সমর্থ জানিয়েছেন। বিল ক্লিনটন এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, ‘দেশের জন্য জো বাইডেন যা করেছেন সেজন্য আমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমি ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসকে মনোনয়ন করছি এবং নিজের সর্বোচ্চ দিয়ে তাকে সমর্থন করব।’

এদিকে কমলা হ্যারিস আরও সহজ প্রতিপক্ষ হবেন বলে মন্তব্য করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘‌বাইডেনের চেয়ে সহজ প্রতিপক্ষ কমলা হ্যারিস। তাকে হারানো আরও সহজ।’

সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে এরই মধ্যে ডেমোক্র্যাট সিনেটরদের অধিকাংশই হ্যারিসের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। হ্যারিসের নাম সামনে আসার পর থেকেই ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে অর্থের জোগান বেড়েছে কয়েক গুণ। ধারণা করা হচ্ছে, প্রার্থী হিসেবে হ্যারিসকেই বাইডেনের চেয়ে বেশি পছন্দ করছেন সবাই।

উল্লেখ্য, বয়সের কারণে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়ে বাইডেনের ওপর চাপ শুরু হয় গত ২৭ জুনের বিতর্কের পর। ওই বিতর্কে ৮১ বছর বয়সী বাইডেন তার প্রতিপক্ষ ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে নাস্তানাবুদ হন। এমন কি কোনো প্রশ্নের সাবলীল জবাব দিতে পারেননি তিনি। এরপরই ডেমোক্র্যাটরা আলোচনা শুরু করে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও ট্রাম্পের কাছে ধরাশায়ী হতে পারেন বাইডেন। দলের স্বার্থে আগামী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে তার ওপর চাপ দিচ্ছিলেন ডেমোক্র্যাট নেতারা।

ইত্তেফাক/টিএইচ/পিও