ওয়েলকাম টু প্যারিস অলিম্পিক গেমস 

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২৪, ১৬:২২

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে প্যারিস চার্লস ডি গলস, বিমানবন্দরে নামতেই স্বেচ্ছাসেবকরা এগিয়ে আসছেন। অলিম্পিক গেমসে আসা সবাইকে অভ্যর্থনা জানাতে স্বেচ্ছাসেবকদের মুখে ওয়েলকাম টু প্যারিস, ওয়েলকাম টু প্যারিস। বিমানবন্দরে মিডিয়া অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড অ্যাক্টিভেট করতে হয়নি। কাগজটা লেমিনেটিং করিয়ে দেওয়াই ছিল ৩০ বছর বয়সী নারী লিন্ডার একমাত্র কাজ। বিমানবন্দরে মিনিটে মিনিটে বিমান নামছে, প্রায় সব বিমানেই অলিম্পিক গেমসের যাত্রী। ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকিয়ে দেখল না। পাসপোর্ট হাতে নিয়ে সিল দিয়ে ফেরত দিল। জানতেও চাইল না কোথা থেকে এসেছি। কেন ক'দিন থাকব। যতদ্রুত ছেড়ে দেওয়া যায়, ইমিগ্রেশনের ব্যস্ততা সেদিকে। আগামীকাল গেমসের উদ্বোধন। 

বিভিন্ন দেশের ক্রীড়াবিদরা অনেক আগেই এসে গেছেন। বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদরা আসছেন শেষ দিকে। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে শুধু ক্রীড়াবিদরাই না গেমস দেখতে পৃথিবীর অনেক দেশ থেকে দর্শক আসছেন। লন্ডন অলিম্পিক গেমসের পর ইউরোপে আর হয়নি। ২০১৬ রিও অলিম্পিক হয়েছিল ব্রাজিলে। ২০২০ টোকিও অলিম্পিক হয়েছিল জাপানে। ইউরোপের দর্শকরা সেদিক যায়নি। বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ইউরোপিয়ানরা জানাচ্ছেন ব্রাজিলির তারা যেতে পারেননি। এশিয়ার জাপানে টোকিও অলিম্পিক যখন হয়েছিল সেবার করোনার আঘাতে পৃথিবী ছিল লণ্ডভণ্ড। 

এবার ইউরোপে অলিম্পিক হওয়ায় ইউরোপীয়ানদের ভেতরে আনন্দের স্রোত। তাদের কাছে ঘরের আঙ্গিনায় ফিরেছে অলিম্পিক গেমস। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের বাইরের শহরের মানুষদের ভিড় আছে। ভিড় আছে ফ্রান্সের বাইরের দর্শকদের। জার্মানি, বেলজিয়াম, ইতালি, ফিনল্যান্ড, নেদারল্যান্ডসসহ ইউরোপের দর্শকের স্রোত রয়েছে। হোটেলগুলোতে জায়গা নেই। সস্তা হোটেলে ভাড়া প্রায় ২০০ ইউরো। কম দামী হোটেল থাকলেও ভিড়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্যারিসের বদনাম আছে। এখানে নাকি সুযোগ পেলেই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়ে দেন। বিশেষ করে ভিনদেশি মানুষ হলেও তারা ফ্রান্সে রয়েছেন অবৈধভাবে। অনেকেই সাবধান করে দিলেন যেন হাতের ব্যাগ, মোবাইল ফোন অসাবধানে রাখা হয়। রাতে খুব সাবধানে চলতে হবে। কথা বলতে বলতেই ট্রেন স্টেশনে দেখা গেল এক জনকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। ফ্রান্সের পুলিশ পোশাক দেখে অনুমান করে মন্দ লোক চিহ্নিত করে। ফরাসি পুলিশের চোখ ভুল করে কম। 

চারদিকে কড়া নিরাপত্তা। ফরাসি পুলিশ অস্ত্রসজ্জিত। চারদিকে চোখ ঘোরাচ্ছে। প্যারিস অলিম্পিক আয়োজনে এবার সবচেয়ে বেশি কড়া নিরাপত্তা নিয়ে ভাবছে এ দেশ। কারণ এবারের অলিম্পিক গেমসের আয়োজন হচ্ছে একটু ভিন্ন রূপে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে খোলা আকাশের নিচে। অন্যান্য অলিম্পিক গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয়েছিল স্টেডিয়ামের ভেতরে। এবারের গেমস উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হচ্ছে নদীতে। রিভার সেইন নদীর দুই পাশে দাঁড়িয়ে দেখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এরই মধ্যে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে পুলিশ হাজির হয়েছে। অন্তত এক ডজনের বেশি দেশ থেকে পুলিশ এসেছে প্যারিস অলিম্পিক গেমসে নিরাপত্তা দিতে। 

শুধু জার্মানি, স্পেন, দক্ষিণ কোরিয়াই নয়, ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ আয়োজক দেশ থেকেও পুলিশ এসেছে ফ্রান্সে। তাদের হিসাবে প্রায় আড়াই হাজার পুলিশ এসেছে প্যারিসে। ব্রিটিশ পুলিশ এসেছে আড়াইশ, সঙ্গে এনেছে ডগ স্কোয়াড। ৫০টা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর। ইংল্যান্ড থেকে ৫ লাখের বেশি দর্শক আসবে। তাদের অনেকেই টোকিও অলিম্পিকে যায়নি তাই প্যারিস অলিম্পিক গেমসের মঞ্চে ভিড় করছেন ইংলিশরা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে লক্ষ্য করে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। যদিও গেমস কর্তৃপক্ষ বলছে কোনো হুমকি নেই তারপরও প্যারিস অলিম্পিক আয়োজকরা ফ্রান্স এবং ইংল্যান্ডের সেনাবাহিনীর সহায়তা নিচ্ছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান চলাকালীন সেনাবাহিনী ব্যবহার করবে ড্রোন টেকনোলজি। যে যেখানেই দায়িত্ব পালন করুক, সবার মুখে কথা একটাই- ওয়েলকাম টু প্যারিস অলিম্পিক গেমস।

ইত্তেফাক/জেডএইচ