মাদারীপুরে শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসানো দেড় শতাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা নষ্ট করেছে দুর্বৃত্তরা। কোটা সংস্কার আন্দোলনে ঢুকে এ নাশকতা চালায় তৃতীয় একটি পক্ষ। এমন তাণ্ডবে শহরবাসী এখন নিরাপত্তা ঝুঁকিতে। এতে চুরি ও ছিনতাইসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বাড়তে পারে বলে মত বিশ্লেষকদের। পরিকল্পিতভাবেই এসব সিসিটিভি ক্যামেরার ক্ষতি করা হয়েছে উল্লেখ করে পুলিশ বলছে, অপরাধীদের ধরতে অভিযান চলছে।
মাদারীপুরের গোলাবাড়ি এলাকায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষের যাতায়াত। সাধারণের নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ স্থানটির সড়কে বসানো অত্যাধুনিক সিসিটিভি ক্যামেরাটি গত ১৮ জুলাই নষ্ট করে দুর্বৃত্তরা। এদের নাশকতার হাত থেকে বাদ যায়নি জেলা জজ আদালতের সামনে এবং এলজিইডি অফিসের মূল ফটকে বসানো সিসিটিভি ক্যামেরাও। এছাড়া একইভাবে নষ্ট করা হয়েছে শহরের পুরানবাজারে এক ডজনসহ দেড় শতাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা। এখানকার কোনোটির বক্স আছে তো ক্যামেরা নেই, আবার কোনোটির ক্যামেরা আছে তো বক্স নেই। এমন অবস্থায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন শহরবাসী, উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায় ব্যবসায়ীরা। এসব সিসিটিভি দ্রুত সংস্থাপনের দাবি তাদের।
কোটা সংস্কার আন্দোলনে ঢুকে তৃতীয় একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে ক্যামেরাগুলো নষ্ট করেছে উল্লেখ করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে থাকার কথা জানান সিসিটিভি ক্যামেরা মনিটরিং প্রধান। অবশ্য, শিগগিরই ক্ষতিগ্রস্ত ক্যামেরা চালু করা হবে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।
জানা যায়, কোটা সংস্কারের দাবিতে গত বৃহস্পতি ও শুক্রবার (১৮ ও ১৯ জুলাই) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, আওয়ামী লীগ কার্যালয় ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় দুর্বৃত্তরা। তেলের পাম্প, সার্বিক বাস ডিপো, পুলিশ ফাঁড়ি ও পৌর মুক্তিযোদ্ধা কমিউনিটি সেন্টারে আগুন দেয় নাশকতাকারীরা। এসব ঘটনাকে আড়াল করতেই নষ্ট করা হয় সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো।
১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সত্তর লাখ টাকা ব্যয়ে ২৬০টি অত্যাধুনিক সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়। ব্যবসায়ীদের সহযোগিতায় গত ২৯ মে এর উদ্বোধন করেন সাবেক পুলিশ সুপার মাসুদ আলম।
দুদিনের আন্দোলনে ছাত্রলীগ, কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী ও পুলিশের ত্রিমুখী সংঘর্ষে তিনজনের মৃত্যু হয় এবং আহত হয় শতাধিক। এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে দুই শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি আলাদা ৪টি মামলা করা হয়। এতে বুধবার (২৫ জুলাই) পর্যন্ত ৮২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শহরের পুরানবাজার ইলেকট্রিক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাজী মাইনুল হাসান লিপু বলেন, পুরো শহর সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় ছিল। কিন্তু দুর্বৃত্তরা এই ক্যামেরাগুলো নষ্ট করার কারণে ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ক্যামেরাগুলো সচল না থাকায় শহরে আশঙ্কাজনক হারে বাড়তে পারে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। তাই নষ্ট হওয়া সব ক্যামেরা দ্রুত চালু করা প্রয়োজন। এতে স্বাচ্ছন্দ্যে কেনাকাটা ও রাস্তাঘাটে সাধারণ মানুষ চলাচল করতে পারবে বলে দাবি করেন তিনি।
মাদারীপুর আদালতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম কিবরিয়া বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এই ক্যামেরাগুলো দ্রুত সংস্থাপন করা উচিত। তা না হলে নাশকতাকারীরা পুনরায় বিভিন্ন স্থানে হামলা করতে পারে। মোড়ে মোড়ে ক্যামেরা চালু থাকলে দুর্বৃত্তরা ভয়ে থাকবে, এতে কমবে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড।
সিসিটিভি ক্যামেরা মনিটরিং প্রধান ও মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান ফকির বলেন, ক্যামেরাগুলো স্থাপনের পর শহরে অপরাধ কমেছিল। অপরাধীদের ধরতে সহায়ক হিসেবে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছিল ক্যামেরাগুলো। নাশকতাকারীরা তাদের অপরাধ ঢাকতে পরিকল্পিতভাবে সব ক্যামেরা নষ্ট করেছে। যদিও নষ্ট করার আগে ছবি রেকর্ড হয়ে আছে। এ ঘটনায় যারা জড়িত তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে। শিগগিরই সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি।
মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মো. শফিউর রহমান জানান, প্রকৃত দুষ্কৃতকারীরা ক্যামেরাগুলো ধ্বংস করেছে। এসব অপরাধীকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের ধরতে চলছে অভিযান। আর নষ্ট হওয়া ক্যামেরাগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

