নামাজ পড়তে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া কলেজ ছাত্র বাপ্পীর দাফন ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার লামাপাড়া গ্রামে রবিবার (৭ জুলাই) সম্পন্ন হয়েছে। ত্রিশাল উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে উদ্ধার করা হয় কলেজ ছাত্র শামীম আফতার বাপ্পীর লাশ। পরিবারের দাবী বাপ্পীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেই লাশ ব্রহ্মপুত্র নদে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় নিহতের মা মোছা: শাম্মিয়ারা খানম বাদী হয়ে ত্রিশাল থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
এদিকে সোমবার (৮ জুলাই) হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে তার পালিত মা রৌশন আরা খানম গৌরীপুরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার নিঃসন্তানের কালিমা মুছে দিয়েছিলো বাপ্পী। ২৯ বছর ধরে লালন-পালন করে ওরে আমি বড় করেছিলাম। ওর কাঁধে আমি লাশ হয়ে কবরে যাবো-এমন আশা ছিলো। ওর লাশ আমার কাঁধে কেন? জিজ্ঞাসা করেন, আমার ছেলে গেলো ময়মনসিংহের আকুয়া বড়বাড়ি মসজিদে নামাজ পড়তে। ত্রিশালের নদে ওর লাশ গেলো কিভাবে? ওকে মেরে নদে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
মামলা ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, এক বছর বয়স থেকেই বাপ্পীকে লালন পালন করেন তার খালু (পালিত বাবা) ডৌহাখলা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. জয়নাল আবেদিন ওরফে জবান আলী ও খালা (পালিত মাতা) রৌশন আরা খানম। নিঃসন্তান হওয়ায় বাপ্পীই তাদের সন্তান হিসাবে বড় হয়। ময়মনসিংহের আকুয়া এলাকায় থেকে নাসিরাবাদ কলেজের বাউবি শাখার বিএ’র শেষ বর্ষের পড়ালেখা করছিল।
গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ময়মনসিংহের আকুয়া হাজী বাড়ি মসজিদে জোহরের নামাজ পড়ার কথা বলে বাসা থেকে বেরিয়ে যায় বাপ্পী। ওই দিন তিনটায় মায়ের সঙ্গে শেষ কথা হয় মুঠোফোন। তখন সে গাঙ্গীনারপাড়ে ওষুধ কিনছে বলে জানায়। এরপর থেকে তার মুঠোফোন বন্ধ দেখায়। শনিবার তার লাশ ভেসে ওঠে ব্রহ্মপুত্র নদের ত্রিশাল উপজেলার বালিপাড়া বিয়ারা নামক এলাকায়।
একটি সূত্র জানায়, ২০১১সালে ত্রিশালে রাতুল নামের এক মেয়েকে বিয়েও করেছিলো বাপ্পী। সেই বিয়ের বিচ্যুতিও ঘটে ২০১৫সালে।
ময়নাতদন্ত শেষে শনিবার বিকালে ডৌহাখলা ইউনিয়নের পায়রা গ্রামে প্রথম জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর উপজেলার মইলাকান্দা ইউনিয়নের লামাপাড়ায় দ্বিতীয় জানাযা শেষে তার নানা আব্দুল ওয়াদুদ খান ও নানী জুলেখা খানমের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হন কলেজ ছাত্র বাপ্পী।
আরও পড়ুন: খুলনায় বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ সন্ত্রাসী গ্রেফতার
ত্রিশাল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আজিজুর রহমান জানান, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের খুঁজে বের করার জন্য তদন্ত কার্যক্রম চলছে।
ইত্তেফাক/নূহু
