এনায়েতপুরে যৌতুকলোভী স্বামীর ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে গৃহবধূ

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০১৯, ২০:২৫

সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে যৌতুকলোভী স্বামীর ভয়ে শিশু সন্তানসহ পালিয়ে বেড়াচ্ছেন নির্যাতীতা এক অসহায় গৃহবধূ। তার নাম হাজেরা খাতুন (২০)। তার স্বামী উত্তর নওহাটা গ্রামের আব্দুল কাদের।

বিয়ের পর থেকে একের পর এক দাবি করা যৌতুকের টাকা দিনমজুর পিতার কাছ থেকে এনে দিতে না পেরে পাষণ্ড স্বামীর মার-ধরের শিকার হয়ে এই গৃহবধূ এখন আশ্রয় নিয়েছেন এক আত্মীয়ের বাড়িতে। বিষয়টি নিয়ে এখন এলাকাজুড়ে সবার মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দাবি উঠেছে ঐ পাষণ্ড স্বামীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির।

জানা যায়, এনায়েতপুর থানার দুর্গম চর স্থল ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামের দিনমজুর কৃষি শ্রমিক বৃদ্ধ জহুরুল ইসলামের ৭ ছেলেমেয়ের মধ্যে মেজ মেয়ে হাজেরা খাতুনের গত দুবছর আগে উত্তর নওহাটা চরের শাম মন্ডলের ছেলে কৃষক আব্দুল কাদেরের বিয়ে হয়। তখন চেয়েচিন্তে দাবি করা প্রায় দেড় লাখ টাকার যৌতুক দেন অসহায় দিন মজুর পিতা।

দশ মাস আগে তাদের পরিবারে ফুটফুটে একটি ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। এরপর থেকেই কারণে-অকারণে তাকে নানাভাবে নির্যাতন করে আসছে স্বামী কাদের। গত ২ সপ্তাহ আগে মালয়শিয়া যাবে এই মর্মে শ্বশুরের কাছে ২ লাখ টাকা দাবি করে। তখন হতদরিদ্র জহুরুল ইসলাম অপারগতা প্রকাশ করলে ক্ষিপ্ত হয়ে বাড়ি চলে যায়। হঠাৎ গত রবিবার সকালে স্ত্রী সন্তান ও কাদের নিজে শ্বশুর বাড়ি এসে স্ত্রীর ওপর চাপ সৃষ্টি করে শ্বশুরকে বলে দাবিকৃত ২ লাখ টাকা না দিলে তাকে আর বাড়ি নেবে না।

তখন পরিবারের পক্ষ হতে অপারগতা প্রকাশ করলে আব্দুল কাদের সকলের সামনেই তার স্ত্রী হাজেরা ও শিশু সন্তান ইসমাইলকে বেদম মারধর করে। এ সময় বাড়ির পাশের তাদের বৃদ্ধ নানা-নানী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে এগিয়ে এলে তাদেরও বেদম মারধর করে চলে যায়। তখন সে হুমকি দিয়ে বলে ২ লাখ টাকা না দিলে তোদের কাউকে বাড়িতে থাকতে দেবে না। আবার লোকজন নিয়ে এসে তোদের সবাইকে তুলে নিয়ে যাব।

এরপর থেকেই যৌতুক লোভী ঐ স্বামীর ভয়ে ওই গৃহবধূ এনায়েতপুরে শিশু সন্তান নিয়ে নিকট আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। 

হাজেরা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি এখন তার ভয়ে অসহায় হয়ে পড়েছি। কতবার যে সে আমাকে নির্যাতন করেছে তা বলে শেষ করা যাবে না। ২ লাখ টাকা আমার পিতার কাছ থেকে না এনে দিলে আমার সন্তানকেও মেরে ফেলতে পারে। তাই আমরা বাঁচার জন্য পালিয়ে বেড়াচ্ছি।’

তিনি আরও জানান, ‘ওরা প্রভাবশালী হওয়ায় আমার বাবা-মাসহ পরিবারের সবাই এখন আতংকগ্রস্ত। আপনারা আমাকে ও আমার পরিবারকে বাঁচান।’

আরও পড়ুন: বুধবার নুসরাতের মায়ের সাক্ষ্য গ্রহণ

বিষয়টি নিয়ে এনায়েতপুর থানার ওসি তদন্ত মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, ঘটনাটি হৃদয় বিদারক। মেয়ে পক্ষের কেউ এসে অভিযোগ করলে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নেব।

আব্দুল কাদেরের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে তাকে পাওয়া যায়নি। 

ইত্তেফাক/নূহু