চসিকের খাদ্য ল্যাবে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি, জনবল নেই, কাজও নেই!

সাইনিং অথরিটি নেই, রিপোর্ট গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে না

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০২৪, ০৭:০০

চসিকের আধুনিক খাদ্য পরীক্ষাগারের রয়েছে মাইক্রোবায়োলজিক্যাল ও মাইক্রো-কেমিক্যালের পূর্ণাঙ্গ দু’টি ল্যাব। ল্যাবে স্থাপন করা হয়েছে কয়েক কোটি টাকার খাদ্যের মান যাচাইয়ের অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি। কিন্তু ৩৪ কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত ল্যাবটি খাদ্যের মান যাচাইয়ের কোন কাজ হচ্ছে না। দীর্ঘ আট বছরেও জনবলের পদ সৃজন হয়নি। মান পরীক্ষার সাইনিং অথরিটি না থাকায় পরীক্ষার রিপোর্ট গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে না। জনবল দীর্ঘসময়েও রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত করেনি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। ল্যাবে ব্যবহারের জন্য কয়েক লাখ টাকার কেমিক্যাল মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে পড়ে রয়েছে। বর্তমানে ২ জন টেকনিক্যাল লোকসহ ৮ জন পরীক্ষাগারের পাহারায় নিয়োজিত রয়েছে।

জানতে চাইলে চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন,দীর্ঘদিন যাবত ল্যাবটি অচল অবস্থায় রয়েছে। এডিবি কোটি কোটি টাকা খরচ করে ল্যাবটি নির্মাণ করে দিয়েছেন। মেয়র মহোদয় ল্যাবটি দ্রুত চালু করার উদ্যোগ নিতে বলেছেন। জনবল নিয়োগ দিতে হবে। ফলে ল্যাব চালু করতে আমরা উদ্যোগ নিচ্ছি।’

গত ২০১৬ সালে জানুয়ারিতে নগরীর হামজারবাগ এলাকায় নির্মিত আধুনিক খাদ্য পরীক্ষাগারটিতে কার্যক্রম শুরু হয়। এডিবি ও সরকারের যৌথ অর্থায়নে ল্যাবটি নির্মাণ করা হয়। পরে ২০২১ সালে এডিবি সিটি কর্পোরেশনকে দায়িত্ব হস্তান্তর করে চলে যান। শুরুতে প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৩৬ জনের মত টেকনিক্যাল ও অন্যান্য জনবল থাকলেও বর্তমানে ৮ জন লোক কর্মরত রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় কর্মরতরা চাকরি ছেড়ে চলে যায়। বর্তমানে মাইক্রোবায়োলজিক্যাল ও মাইক্রো-কেমিক্যাল ল্যাবে ২ জন কেমিস্ট কর্মরত রয়েছে। কাজ না থাকায় তারা অলস সময় কাটাচ্ছে।

ত্রি-তল বিশিষ্ট ভবনের দ্বি তলায় মাইক্রোবায়োলজিক্যাল ল্যাব ও তৃতীয় তলায় মাইক্রো-কেমিক্যাল ল্যাব রয়েছে। ল্যাব দু’টি খাদ্য দ্রব্যের মান পরীক্ষার জন্য অত্যাধুনিক মেশিন,সংরক্ষণ ব্যবস্থাসহ যাবতীয় উপকরণ রয়েছে। কোটি টাকা দামের একাধিক মেশিন রয়েছে। ল্যাবে মেশিনারি ও আসবাবপত্র সব কিছু সাজানো গোছানো অবস্থায় রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান,সিটি কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগের ইন্সপেক্টররা মাঝে মধ্যে মান যাচাইয়ের জন্য বিভিন্ন খাদ্যের নমুনা পাঠাতেন। গত ৭/৮ মাস যাবত তারা কোন নমুনা পাঠাচ্ছেন না। ফলে ল্যাবের কার্যক্রম চালু না থাকায় বহু মূল্যবান মেশিন গুলো কার্যক্ষমতা হারাচ্ছে। ল্যাবে রক্ষিত প্রচুর কেমিক্যাল মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে। চট্টগ্রামে সরকারি পর্যায়ে এধরনের উন্নত প্রযুক্তি সমন্বিত খাদ্য পরীক্ষাগার আর নেই।

 সংশ্লিষ্টরা জানান,ল্যাবে পরীক্ষার রিপোর্ট অফিস আদালতে গ্রহণযোগ্য হচ্ছে না। কারণ ল্যাবে পরীক্ষার রিপোর্টের সাইনিং অথরিটি না থাকায় রিপোর্ট প্রশাসনিক ভাবে মূল্যায়ন হচ্ছে না। এতে কোন সংস্থা থেকেও পরীক্ষার জন্য নমুনা আসছে না। চট্টগ্রামে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নিজস্ব কোন ল্যাব নেই। প্রতিষ্ঠানের নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা ফারহান ইসলাম বলেন, ঢাকায় ও চট্টগ্রামে কয়েকটি পরীক্ষাগারের সাথে আমাদের চুক্তি রয়েছে। ফলে প্রয়োজন হলে আমরা এসব ল্যাবে পরীক্ষা করে থাকি।

সংশ্লিষ্টরা জানান,জেলা প্রশাসন ও সিটি কর্পোরেশন নগরীতে প্রায় সময় ভেজাল বিরোধী মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে থাকেন। শুরুতে অভিযানে সংগ্রহ করা নমুনা চসিকের এই ল্যাবে মান যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হতো। ল্যাবটি চালু থাকলে চসিকের বছরে প্রচুর রাজস্ব আয় হতো।

চসিকের স্বাস্থ্য বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, রিপোর্টের সাইনিং অথরিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে প্রদানের জন্য নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখনো অনুমোদন মিলেনি। ল্যাব পরিচালনার জন্য জনবলের অভাব রয়েছে। জনবল নিয়োগ দিতে হবে।’

ইত্তেফাক/এমএএম