যুবলীগ নেতাকে হত্যার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নেতা

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০১৯, ২১:১৮

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আর তার ভাইয়ের নেতৃত্বে হামলা চালিয়ে নৃশংসভাবে খুন করা হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার মেহারী ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শওকত হোসেন জসিমকে।

হত্যা ঘটনায় জড়িত মেহারী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোশারফ হোসেন মুর্শিদ (৪২), তার ভাই জাকির হোসেন (৪৮) সহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে কসবা থানায়। মৃত্যুর আগে শওকত নিজেও তাকে মারার সঙ্গে এদের জড়িত থাকার কথা বলে গেছেন। 

এই আসামিদের মধ্যে যমুনা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নৈশ প্রহরী ইয়ানুরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার আদালত ইয়ানুরের ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। 

গত ৫ জুলাই রাত সাড়ে ৯ টায় শওকত হোসেন জসিমকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে কুপিয়ে এবং পায়ের রগ কেটে গুরুতর আহত অবস্থায় যমুনা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে তালা দিয়ে ফেলে রাখা হয়। পরে ইউপি সদস্যের পরিবারের লোকজন খবর পেয়ে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রাত আড়াইটার দিকে তার মৃত্যু হয়। 

ঘটনার পরদিন নিহতের ছোট ভাই মোঃ আলা উদ্দিন বাদী হয়ে কসবা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে সম্পত্তি ও ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পূর্ব বিরোধে শওকতকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।

মামলার পরই পুলিশ যমুনা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নৈশ প্রহরী ইয়ানুরকে গ্রেফতার করে। এরপর আদালতে তার ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন জানানো হয়। ইয়ানুর ছাড়া আর কোন আসামি ধরা পড়েনি। মামলার প্রধান আসামি করা হয় সাবেক বিএনপি নেতা যমুনা গ্রামের ছিদ্দিকুর রহমানের ছেলে জাকির হোসেনকে। আর তার ছোট ভাই মেহারী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি মোশারফ হোসেন মুর্শিদকে করা হয় ২ নম্বর আসামি।

অন্য আসামিরা হচ্ছে ফরহাদ মিয়া, মাইনুদ্দিন, মোবারক মিয়া, মো: জসিম, মিলন মিয়া, গোলাম সামদানী, আলই এমরান রেজা, ওয়াসিম, ইয়ানুর, রুহুল আমিন, আবদুল গনি, আল আমিন, শুক্কু মিয়া, রাসেল মিয়া, সাঈদী, হৃদয়।

পুলিশ এবং স্থানীয় লোকজন জানিয়েছে, ইউপি সদস্য শওকত হোসেন এবং জাকির ও মুর্শিদের বংশের মধ্যে ৩ যুগেরও বেশি সময় ধরে বিরোধ চলে আসছে। বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে শওকত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ইউপি সদস্য নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনে মুর্শিদ চেয়েছিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে। কিন্তু শওকত তাকে সমর্থন দেননি। এ নিয়ে তাদের বিরোধ আরও চরম আকার ধারণ করে।

আরও পড়ুন: আখাউড়ায় এক স্কুলছাত্রীকে যৌন হয়রানি, শিক্ষক শ্রীঘরে

নিহতের স্ত্রী মোছাম্মৎ শিউলি আক্তার বলেন, ‘টাকা দিয়ে তার স্বামীকে কিনতে চেয়েছিল মুর্শেদ। কিন্তু আমার স্বামী টাকার কাছে বিক্রি হয়নি। কিন্তু কোনোভাবে না পেরে হত্যার পরিকল্পনা করে মুর্শেদ। আমি আমার স্বামী হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই।’

কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো: আসাদুল ইসলাম জানান, ঘটনার পরই অন্য আসামিরা গা ডাকা দিয়েছে।

ইত্তেফাক/নূহু