শুধুমাত্র বাংলাদেশে রপ্তানি করার শর্তে ভারতে তৈরি একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ এবার ভারতেও বিক্রির অনুমতি পেলো আদানি। বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝে ভারত সরকার জ্বালানি রপ্তানি বিধি সংশোধন করে এই সুযোগ করে দিলো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানটিকে। খবর ডয়চে ভেলের।
এদিকে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের একটি অভ্যন্তরীণ বিধি গত সোমবার ২০১৮ সালে তৈরি ‘শুধুমাত্র একটি প্রতিবেশী দেশে’ বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য তৈরি নীতিমালায় পরিবর্তন এনেছে।
সংশোধিত নীতিমালা অনুযায়ী, বিদ্যুৎকেন্দ্রটি এখন থেকে প্রয়োজনে ভারতের অভ্যন্তরেও বিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারবে।
টানা ১৫ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা শেখ হাসিনা গতসপ্তাহে সহিংস গণআন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে ভারত চলে যাওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নিলো নয়াদিল্লি।
বাংলাদেশের নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশটিতে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নকে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছে। শেখ হাসিনার পতনের পরও নৈরাজ্য এবং ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে দেশটিতে।
নতুন সংশোধননীতি অনুযায়ী যদি রপ্তানিকৃত বিদ্যুতের অর্থ পরিশোধে দেরি হয় তাহলেও বিদ্যুৎকেন্দ্রটি স্থানীয় বাজারে বিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারবে বলে জানানো হয়েছে।
ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় ঝাড়খণ্ড রাজ্যে অবস্থিত বিদ্যুৎকেন্দ্রটি গত বছর জুলাইয়ে পুরোপুরি উৎপাদনে যাওয়ার পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন আদানির চেয়ারম্যান গৌতম আদানি। সেসময় এই প্রকল্পটিকে ‘ভারত-বাংলাদেশ সহযোগিতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছিল।
এক বিবৃতিতে মঙ্গলবার আদানি গ্রুপের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন যে নীতি সংশোধনের কারণে সামগ্রিকভাবে ভারতে বিদ্যুতের সহজলভ্যতা বাড়বে এবং সারাদেশে বিদ্যুতের বেড়ে যাওয়া চাহিদা মেটাতেও সহায়ক হবে।
