ইউটিউবকেন্দ্রিক নাটকের চ্যানেলগুলো বড় সংকটের মুখে পড়েছে। দেশের সাম্প্রতিক অবস্থায় চ্যানেলগুলো থেকে আপাতত নতুন নাটক নির্মিত হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে বিনিয়োগ করতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না বিনিয়োগকারীগণ। এই অবস্থায় নাটক নিয়ে নতুন শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে সিএমভি, পিকক ফান, দুরবিন, জাগো এন্টারটেইনমেন্ট ইউটিউব চ্যানেলসহ বেশ কিছু চ্যানেল নতুন নাটক আপলোড করলেও সেভাবে দর্শক পাচ্ছে না।
অন্য সময়ে নাটকের কোটি ভিউ হলেও এখন ২০ লাখ ভিউ অতিক্রম করতে পারছে না। ইউটিউব চ্যানেলের মধ্যে তারকাবহুল নাটক নির্মাণ করেছে সিএমভি। আগামী দুই মাসে চ্যানেলটির ১০টির বেশি নাটকের শুটিং ছিল। আপাতত কোনো নাটকের শুটিং হচ্ছে না। বর্তমানে তারা নির্মাণের চেয়ে হাতে থাকা নাটকগুলোর মুক্তি নিয়েই চিন্তিত। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শাহেদ আলী বলেন, 'এখনো অস্থির একটা পরিবেশ চলছে। নাটক মুক্তি দেওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই। বিজ্ঞাপন কমে গেছে। যে কারণে বেশির ভাগ শুটিংই বন্ধ।'
ইউটিউবকেন্দ্রিক চ্যানেলগুলোতে মোশাররফ করিম, জিয়াউল ফারুক অপূর্ব, মেহজাবীন চৌধুরী, নিলয় আলমগীর, ফারহান আহমেদ জোভান, তৌসিফ মাহবুব, মুশফিক আর ফারহান, তানজিন তিশা, সাবিলা নূর, সাফা কবির, খায়রুল বাসার, জান্নাতুল হিমি, ইয়াশ রোহান, তাসনিয়া ফারিণ, সাদিয়া আয়মান, ও তটিনী এমন অভিনয়শিল্পীদেরই কদর বেশি। এসব শিল্পীকে নিয়ে নিয়মিত নাটক নির্মাণ করে ইউটিউব চ্যানেল গোল্লাছুট। এর স্বত্বাধিকারী শাহিন কবির টুটুল বলেন, 'বিনোদনের চেয়ে এখন দর্শক রাজনীতি নির্ভর ভিডিও বেশি দেখছেন। আমাদের হাতে নাটক প্রস্তুত রয়েছে। সেগুলোই রিলিজ পাবে। এখন ফেসবুকে নাটকের কিছু রিলিজ দিলে কে দেখবে? দর্শক বিনোদন নিয়ে আগ্রহী হলেই আমরা নিয়মিত হব।'
অন্যদিকে ক্লাব ইলেভেন এন্টারটেইনমেন্ট, সুলতান, কেএসসহ বেশ কিছু চ্যানেল কর্তৃপক্ষ জানায়, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেই পুরোদমে কাজ শুরু করবে তারা। সাজু মুনতাসীর বলেন, 'অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা নাটকে বিনিয়োগ করেছেন। ৭ লাখ টাকার নাটক বানিয়েছেন ১৫ লাখ টাকা দিয়ে। এটা শুরু করেন তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তারা অনেকেই এখন পালাতক। তাদের ইউটিউব চ্যানেল থেকে নতুন নাটক আসবে না। এখন পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেটার ওপর নির্ভর করছে সবকিছু।'
